অতিরিক্ত অর্থ আদায়

বরিশাল ব্যুরো: আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে সব স্কুলগুলোতে শুরু হয়ে গেছে ফরম পূরণ। শিক্ষাবোর্ড থেকে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫৬৫ টাকা। কিন্তু বরিশাল জেলার অনেক স্কুলেই বোর্ড নির্ধারিত ফি’র চেয়ে দ্বিগুণ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অভিভাবকেরা। তাদের দাবি, কোনো ধরনের রশিদ ছাড়াই ফরম পূরণে তিন থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন স্কুলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক স্কুলে নির্ধারিত বোর্ড ফি’র দ্বিগুণ টাকা নেয়ার বিষয়টি সত্য। স্কুলগুলো নির্ধারিত বোর্ড ফি’র সাথে বাধ্যতামূলক হিসেবে কোচিং ফি বাবদ ৫০০ টাকা, কোচিং চলাকালীন বেতন ৩৬০ টাকা, স্কুল উন্নয়ন ফি ২০০ টাকা, সেশন ফি ১২৫ টাকা, মিলাদ ১০০ টাকা, ব্যবহারিক ৫০ টাকা ও অনলাইন ফি ২৫ টাকা নিচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিজন পরীক্ষার্থীকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

সবথেকে হাস্যকর বিষয় হচ্ছে, স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য ও শিক্ষকদের যাতায়াত ফি বাবদ টাকা নেয়া হচ্ছে! বেশি অর্থ নেয়ায় চিন্তিত মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা। প্রতিবাদ করতে না পেরে এবং সন্তানদের পরীক্ষার কথা ভেবে অভিভাবকদের ধার-দেনা করে ফরম পূরণের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সিদ্ধান্তক্রমেই এ অর্থ গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমাদের কোনো কিছু করার নেই!

কিছু সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য, শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশ অমান্য করছেন প্রধান শিক্ষকরা। তারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করছেন। শুধু ফরম ফি নয়, পরীক্ষার আগমুহূর্তে প্রবেশপত্র বিতরণের সময়েও মোটা অংকের টাকা নেয়া হয়। আমরা এ অন্যায় মানি না।

গত কয়েকদিন থেকে এ নিয়ে প্রতিদিনই স্কুলের শিক্ষকদের সাথে অভিভাবকদের বাগবিতণ্ডা লেগেই রয়েছে।

আরো খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিশালের আগৈলঝাড়া, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, বাকেরগঞ্জ, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ, গৌরনদী, বানারীপাড়া ও উজিরপুর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

গৌরনদীর নলচিড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে একপ্রকার জোরজুলুম করেই অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষকরা।

গেরাকুল আখতারুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা বলেন, ম্যানেজিং কমিটির ব্যর্থতার কারণে শিক্ষকেরা মনগড়াভাবে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তারা আরও জানায় এ ঘটনার যে প্রতিবাদ করবে তার ফরম পূরণ করা হবেনা বলে শিক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের হুমকি প্রদর্শন করেছেন। তাই বাধ্য হয়েই তারা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ফরমপূরণ করছে।