মাছ চাষ

শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস:  নগর সংলগ্ন পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিশাল খেলার মাঠটিতে কৌশলে মাছ চাষ করে আটশ’ শিক্ষার্থীর খেলাধুলা, শরীর চর্চা ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত করছেন প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালগুলোতে ক্লাস শুরুর পূর্বে শারীরিক শিক্ষা (পিটি) করানো বাধ্যতামূলক থাকলেও এ বিদ্যালয়টিতে সব কিছু থাকলেও প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালিতে তা সম্ভব হয় না। বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় দেড় একরের বিশাল মাঠ থাকলেও সেখানে খেলাধুলা নয় মাছ চাষ করা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক নিয়ম করে সকাল বিকাল ঐ মাছের খাবার নিজেই দিয়ে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শত শত শিক্ষার্থীর স্কুল সময়ে মুক্ত আবহাওয়া প্রাপ্তি, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, ক্রীড়া-বিনোদনের জন্য বিশাল মাঠ থাকলেও তা পানিতে ভরপুর। মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য সুব্যবস্থা থাকলেও তাতে বাঁধ দিয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে। হাঁটু পানিতে কিংবা তারও বেশি পানিতে মাছ চাষ করা হচ্ছে। পুরো মাঠটি এখন পানিতে টইটম্বুর। মাঠের দুই দিকে দুইটি পুকুর। মাছ বেরিয়ে না যায় সেজন্য বাঁধ এবং বাঁধের ওপর দিয়ে নেটের জাল স্থাপন করা হয়েছে। মাছের খাদ্য ব্যবহার করে পানি নষ্ট ও পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। মাঝে-মধ্যে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের অনুষ্ঠান বিদ্যালয়ের বারান্দাটিতে কোনো রকমে সেরে নেওয়া হয়।

এলাকাবাসী জানান, দুই/চারদিন বৃষ্টি না থাকলে পার্শ্ববর্তী পুকুর ও খাল থেকে সেচের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হয়। মাছ চাষের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা যেমন মাঠ পরিষ্কারসহ মাছের বিচরণ রাখতে নিয়মিত মাঠটি পরিষ্কার করা হয়।

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী জানান, তারা বিগত দিনে মাঠে খেলাধুলা করলেও এবার আর তা পারছেন না। জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, এ বিদ্যালয়টিতে মাছ চাষের বিষয়টি তার জানা নেই। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনকে অফিসে না পেয়ে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে দেশি কৈ মাছ বিদ্যালয়ের মাঠে উঠে আসে। এরপর ঐ মাছে ডিম ছাড়লে তা রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি নিজেই এ কাজটি করছেন।

বিদ্যালয় এডহক কমিটির সভাপতি আনিছুর রহমান দুলাল জানান, গত দুই মাস পূর্বে এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পান। তিনি বলেন, মাঠটিতে হাজার হাজার কৈ মাছের পোনা বড় হচ্ছে। বিদ্যালয় কমিটি এগুলো খাবারের জন্য রাখেনি। মাছগুলো বড় হলে বিক্রিকৃত টাকা বিদ্যালয়ের কাজে খরচ করা হবে।