ফেসবুক,জার্ভিস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন সহকারী ‘জার্ভিসে’র কথা আগেই জানা গেছে হলিউডের সিনোমায়। এবার নিজের ঘরে সেই কাল্পনিক ‘জার্ভিস’ পদ্ধতির বাস্তব রূপ দিলেন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।
ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিওতে জার্ভিস ( Jarvis) কী এবং বাসা-বাড়িতে এর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি।  ভিডিগুলোতে দেখা যায়, জার্ভিস প্রত্যেকদিন জাকারবার্গ পরিবারের সব গৃহস্থলীর কাজ করছে। টোস্ট তৈরি থেকে শুরু করে জাকারবার্গ কন্যা ম্যাক্সের যত্ন-আত্তিও করছে জার্ভিস।

জার্ভিস কী?

জার্ভিস একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সহকারী প্রযুক্তি।  এটি কক্ষের লাইট জ্বালানো-নেভানো, তাপমাত্রা নির্ধারণ, গান বাজানো, দরজা খুলে দেওয়ার মতো কাজ করতে সক্ষম।  মানুষের ভাষা বুঝতে ও নির্দেশনা মতো কাজ করার জন্যে ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং এবং স্পিচ রিকগনিশন ব্যবহারও করে থাকে জার্ভিস।

এমনকি মানুষের মুখমণ্ডল চেনারও সামর্থ্য রয়েছে এর। তা কাজে লাগিয়েই অতিথি চিনে দরজা খুলে দিতে পারে প্রযুক্তিটি।

জাকারবার্গের হাতে কেন জার্ভিস?

মূলত মেয়ের জন্যেই জার্ভিস তৈরিতে হাত দেন জাকারবার্গ।  এটি তৈরি ও ৩৬৫ মাইল চালানো চলতি বছরে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছিল তার। এর আগের বছর চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি মান্দারিন ভাষা শেখা, মাসে দু’টি বই পড়া এবং দিনে অন্তত একজন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের চ্যালেঞ্জ নেন।

জার্ভিসে’র কার্যক্ষমতা

দিনের কার্যসূচি জানানো থেকে শুরু করে ভাষা শেখানো, পরিবারের অন্যদের খবরা-খবর, ভিডিও কনফারেন্স সেট আপ, সিনেমা চালানো করতে পারে জার্ভিস।

জিমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোও মনে করিয়ে দিতে পারে প্রযুক্তি নির্ভর এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।  সকালের নাস্তা বানানোর জন্য রান্নাঘরে গেলে এটি টোস্ট বানানোর জন্যও পরামর্শ দিতে পারে।

জাকারবার্গের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট করা নতুন ভিডিওতে জার্ভিসের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পেয়েছে। ভিডিওতে আফসোস করে সে বলেছে-তার প্রতিভা গৃহস্থলীর কাজে নষ্ট হচ্ছে।

আর যাই হোকে- এ পদ্ধতি মার্কের বাড়িকে যে প্রযুক্তি নির্ভর বাড়ি বা স্মার্ট হোম করে তুলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জার্ভিসে’র কণ্ঠস্বরে কে?
জার্ভিসের কণ্ঠস্বর আসলে অস্কার বিজয়ী জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা মর্গান ফ্রিম্যানের। ফাস্ট কোম্পানিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এমনটাই জানিয়েছেন জাকারবার্গ।

তিনি বলেন, জার্ভিসের কণ্ঠস্বর কার হতে পারে তা জনগণের কাছে প্রশ্ন রাখলে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ মর্গান ফ্রিম্যানকে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে এক অনুষ্ঠানে ফ্রিম্যানের সঙ্গে দেখা হলে তাকে জার্ভিসে কন্ঠ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।  এতে তিনিও রাজি হয়ে যান।

তবে ফাস্ট কোম্পানির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্ভিসের কিছু কথায় ফ্রিম্যানের কন্ঠস্বর থাকবে।

জাকারবার্গ ও তার পরিবার কীভাবে জার্ভিস পরিচালনা করছে?
জার্ভিসের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে, ফেসবুক মেসেঞ্জার বট ও অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন জাকারবার্গ পরিবার।  নিজের ফেসবুক টাইম লাইনে জাকারবার্গ জানান, শুধুমাত্র আইফোনে থাকা অ্যাপের মাধ্যমে জার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপলিকেশন তৈরির কাজও চলছে।  গুগল নাউ ও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের অনুরূপ অ্যাপটির মাধ্যমেও জার্ভিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে।

জার্ভিস কীভাবে কাজ করে?
অন্যান্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক প্রযুক্তির মতো জার্ভিস ব্যবহারকারীরাও আচরণ বুঝে কাজ করতে পারে।  তবে কাজের ক্ষেত্রে ভুল হয়ে গেলে জাকারবার্গ তা সংশোধন করে দেন, যাতে পরবর্তীতে এটি আরও ভালো করতে পারে।

পরবর্তীতে জার্ভিসে আরও কী থাকছে?
জার্ভিসকে আরও সক্ষম করার পরিকল্পনা রয়েছে জাকারবার্গের। জার্ভিসকে ঘিরে আইডিয়া দেওয়ার জন্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি

সম্পাদনা: এম আলম/