কানাডায় নাগরিকত্বের সুযোগ

কানাডায় আগের চেয়ে সহজ হলো অভিবাসীদের নাগরিকত্ব পাওয়া। এখন থেকে ২২ বছরের কম বয়সী সন্তানরাও বাবা মায়ের সঙ্গে কানাডায় স্থায়ী হতে পারবে।

দেশটিতে নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন সংক্রান্ত আইন ‘বিল সি-৬’ পাস হওয়ায় এখন থেকে এই সুযোগ পাচ্ছে অভিবাসীরা

সঠিক নিয়মে আবেদন করলে এক বছরের মধ্যেই পরিবারসহ কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়া সম্ভব। সব শেষ গত ৩১ মে অনুষ্ঠিত ড্র অনুযায়ী এ বছর অন্য সময়ের চেয়ে বেশি মানুষ ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে কানাডায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রাথমিকভাবে আবেদন করার যোগ্যতা যাদের রয়েছে তাদের আর দেরি না করে একজন দক্ষ আইনজীবীর সহায়তায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে যথাসময়ে ও সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করা উচিত বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইনজীবী ড. শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজু। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে কানাডা সরকার ‘আগে আসলে, আগে পাবেন’ পলিসিতে কাজ করে।

বিল সি-৬ অনুযায়ী নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের যোগ্য হতে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কানাডায় পাঁচ বছরের মধ্যে তিন বছর বসবাস করতে হবে, যেটি এর আগে ছিলো ছয় বছরের মধ্যে চার বছর থাকার নিয়ম। এ ছাড়া কানাডায় যারা অস্থায়ী স্ট্যাটাসে ছিলেন যেমন- ওয়ার্ক এবং স্টাডি পারমিট, তারাও তাদের কানাডায় বসবাসের সময়টুকু তিন বছরের মেয়াদের একটি অংশ হিসেবে গণনা করতে সক্ষম হবে।

নতুন নিয়মে পিএনপি, এক্সপ্রেস এন্ট্রি, এফএসডব্লিউপি, এফএসটিপি, কিউএসডব্লিউপি, এআইপিএন, এসআইপিএন, এমপিএনপি, এনএসএনপি, বিসিপিএনপি, ওআইএনপি, আটলান্টিক ইমিগ্রেশন পাইলট প্রোগ্রাম, কেয়ারগিভার, বিজনেস, ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ, এমপ্লয়মেন্টসহ নতুন নতুন বিভিন্ন প্রোগ্রামে সহজ নিয়মে পেশাজীবীদের ইমিগ্রেশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আকর্ষণীয় সেল্ফ ইমপ্লয়েড পার্সসন প্রোগ্রাম: কানাডাকে বলা হয় ইমিগ্র্যান্টদের স্বর্গ। সারা পৃথিবী থেকে হাজার হাজার বিভিন্ন পেশার ও ভাষার লোকজন কানাডার সমাজ ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগতের বাসিন্দা এবং খেলোয়াড়দেরও সুযোগ রয়েছে আবেদন করে কানাডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করার।

যেসব পেশার মানুষ আবেদন করতে পারবেন: বিভিন্ন খেলার খেলোয়াড়, কোচ, ট্রেনার। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেমন: মডেল, গান, নাচ, অভিনয় বা মুকাভিনয়ের শিল্পী, কৌতুক অভিনেতা, মেকাপম্যান, প্রযোজক, পরিচালক, কোরিওগ্রাফার, ফটোগ্রাফার, ভিডিও ও ভিজ্যুয়াল ক্যামেরা পারসন, ভিডিও এডিটিং, ফ্যাশন ডিজাইনার, অ্যানিমেশন ও মাল্টিমিডিয়ার স্পেশালিস্ট পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত লেখক, কলামিস্ট, সম্পাদক, সাংবাদিক, কার্টুন নির্মাতা, ছড়াকার, ব্রডকাস্ট টেকনিশিয়ান, গ্রাফিক্স ডিজাইনার, চারু শিল্পী, ইনটেরিয়র ডিজাইনার ইত্যাদি পেশার লোকজন পরিবারসহ কানাডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারেন।

যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট পেশায় অন্তত ২ বছরের আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথবা দুই বছরের সেল্ফ এমপ্লয়মেন্ট হিসেবে কাজ করার বা দুই বছরের ফার্ম ম্যানেজমেন্ট অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সেই সঙ্গে এক লাখ কানাডিয়ান ডলার ইনভেস্টমেন্ট করার ক্ষমতাও থাকতে হবে।

প্রয়োজনীয় পয়েন্ট: আবেদনের জন্য ১০০-এর মধ্যে ন্যূনতম ৩৫ পয়েন্ট হলেই চলবে।

কিউবেক ইনভেস্টর প্রোগ্রাম: গত ২৯ মে কিউবেক ইনভেস্টর প্রোগ্রাম আবার চালু হয়েছে। সবচেয়ে দ্রুত ও কম সময়ে পরিবারসহ স্থায়ী নাগরিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে এই প্রোগ্রামের আওতায়। আট লাখ কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ করে এই প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। বিনিয়োগটি শতভাগ নিরাপদ।

এই প্রোগ্রামে আবেদন করার সুবিধা হলো, বিনিয়োগ করা আট লাখ কানাডীয় ডলার পাঁচ বছর পর বিনা সুদে ফেরত পাওয়া যায়। পরিবারসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করা যায়। এ ক্ষেত্রে আবেদনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আইইএলটিএসের কোনো শর্ত নেই। এ ছাড়া এক দশমিক ৬ মিলিয়ন কানাডীয় ডলারের সম্পদ থাকলেই এই প্রোগ্রামের আওতায় কানাডায় স্থায়ী হওয়া যায়। দরখাস্ত মঞ্জুর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগ করতে হয়।

এন্টারপ্রেনার প্রোগ্রাম ইন কানাডা: এই প্রোগ্রামের জন্যতিন লাখ কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। এ জন্য কৃষি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল বা কমার্শিয়াল কাজে জড়িত ব্যবসায়ীরা আবেদন করতে পারবেন। মাত্র তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই চলবে। ফেডারেল এবং প্রভিনশনাল সরকারের অধীনে এই এন্টারপ্রেনার প্রোগ্রাম চলমান আছে।

কানাডা সরকার পরিচালিত অন্য প্রোগ্রামগুলো হচ্ছে:

১. এক্সপ্রেস এন্ট্রি: আমেরিকার সরকার H-1B ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করার পর, বিপুল সংখ্যক দক্ষ ও যোগ্য পেশাজীবীর মাইগ্রেশনের শেষ ভরসাস্থল এখন এক্সপ্রেস এন্ট্রি। প্রোগ্রামটি মূলত তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। এগুলো হলো: ক) ফেডারেল স্কিল্ড ওয়ার্কার খ) ফেডারেল স্কিল্ড ট্রেডার গ) কানাডিয়ান এক্সপ্রেরিয়েন্স ক্লাস। এখানে প্রফেশনের কোনো ধরা-বাঁধা তালিকা নেই বা কোনো কোটা সিস্টেমও নেই।

এক্সপ্রেস এন্টির পেশাসমূহ: সব ধরনের ইঞ্জিনিয়ার, আইটি প্রফেশনাল, অ্যাকাউন্টেন্ট, অডিটর, ব্যাংকার, আর্কিটেক্ট, ডাক্তার, ডেন্টিস্ট, নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট, রেডিওলোজিস্ট, সনোগ্রাফার,ফার্মেসিস্ট ইত্যাদি পেশার লোকজন তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করতে পারবে।

এই প্রোগ্রামে আবেদন করার ন্যূনতম যোগ্যতা হচ্ছে:

বয়স সীমা: এই  প্রোগ্রামে আবেদন করার জন্য প্রার্থীর বয়স অবশ্যই ৫৩ বছরের নিচে হতে হবে। প্রার্থীকে অন্তত গ্র্যাজুয়েশন বা সমমানের ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে। সেই সঙ্গে প্রার্থীকে অন্তত এক বছর বা ক্ষেত্র বিশেষে দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

এই প্রোগ্রামেআবেদনের জন্য প্রার্থীকে অবশ্যই আইইএলটিএস (জেনারেল) এর প্রতিটি ব্র্যান্ডে ৬.৫ এবং এভারেজে ৭.০+ স্কোর করতে পারেন। সেই সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ভাষা জানা থাকলে ইমিগ্রেশনে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।

২. প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম (পিএনপি): কানাডার ১১টি প্রদেশে ইমিগ্রেশনের জন্য আবেদনকারীদের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। একেক প্রদেশে একেক সময়ে তাদের উন্মুক্ত করে দেয়। সাধারণত প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রামের শর্তগুলো আলাদা হয়। প্রার্থীদের তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করা উচিত। তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হয় প্রোগ্রামের সময়কাল সম্পর্কে। অনেক শর্তই এ ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য। তবে কিছু কিছু নতুন শর্তও আরোপ করতে দেখা যায়।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রভিন্সিয়াল প্রোগ্রাম, সাসকাচুয়ান ইমিগ্র্যান্ট নমিনি প্রোগ্রাম ও অন্টারিও প্রভিন্সিয়াল নমিনি প্রোগ্রাম এখন চালু আছে। এ ছাড়া রয়েছে আটলান্টিক ইমিগ্রেশন পাইলট প্রোগ্রাম। এ ছাড়া ১৯ মে থেকে শুরু হয়ে গেছে কুইবেক স্কিল ও ইনভেস্টর প্রোগ্রাম।

ক) ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রভিন্সিয়াল প্রোগ্রাম: আইইএলটিএসে ৫.৫ স্কোরসহ দুই বছর কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা স্নাতক ডিগ্রি থাকলেই কানাডার অন্যতম সুন্দর প্রদেশ ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় আবেদন করা যাবে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রভিন্সিয়াল প্রোগ্রামটি চারটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত। এক্সপ্রেস এন্ট্রি বিসি-স্কিলড ওয়ার্কার ও ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট এবং স্কিলস ইমিগ্রেশন: স্কিলড ওয়ার্কার ও এন্ট্রি লেভেল সেমি-স্কিলড। সর্বশেষ ড্রতে ৩৭৭ জন মনোনয়ন পেয়েছে শুধু ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে।

খ) সাসকাচুয়ান ইমিগ্র্যান্ট নমিনি প্রোগ্রাম: কানাডার অন্যতম সেরা এবং উন্নত প্রদেশ সাসকাচুয়ানে কিছু বিশেষ পেশাজীবীরা খুব সহজ আবেদন করা ও দ্রুততম সময়ে সপরিবারে ইমিগ্রেশন ভিসা পেতে পারেন। পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

–কম্পিউটার বা ইনফরমেশন সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার বা অ্যানালিস্ট
–সিভিল ইঞ্জিনিয়ার
–মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
–এনজিও কর্মকর্তা বা সোশ্যাল ওয়ার্কার বা প্রজেক্ট ম্যানেজার
–অ্যাগ্রিকালচার ম্যানেজার বা কৃষি কর্মকর্তা
–সাপ্লাইন চেইন বা পারচেজ ম্যানেজার
–ম্যাথমেটিশিয়ান বা স্টাটিসটিশিয়ান

গ) অন্টারিও ইমিগ্র্যান্ট নমিনি প্রোগ্রাম: কানাডায় যারা পড়াশোনা করেছেন, কানাডায় চাকরি করার যোগ্যতা রয়েছে, কানাডায় চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন বা ব্যবসা করতে ইচ্ছুক তারাই এই নির্দিষ্ট প্রদেশে আবেদন করে স্থায়ী হতে পারেন।

আবেদন করার শেষ তারিখ: প্রোফাইল তৈরি করার পর ১৪ দিন সময় থাকে যেকোনো ক্যাটাগরিতে আবেদন করার।

ঘ) নোভা স্কটিয়া নোমিনি প্রোগ্রাম (এনএসএনপি): ২০১৫ সালের পর এই প্রোগ্রাম ইতিমধ্যে চালু আছে। ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টস, অ্যাডমিন অফিসার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, কম্পিউটারে দক্ষ, নার্স ও এনজিও কর্মীরা প্রোগ্রামটিতে আবেদন করতে পারবেন।

আটলান্টিক ইমিগ্রেশন পাইলট প্রোগ্রাম: মার্চ-২০১৭ থেকে তিনটি ক্যাটাগরিতে আটলান্টিক ইমিগ্রেশন পাইলট প্রোগ্রাম চালু হয়েছে। এর আওতায় দীর্ঘদিন কানাডায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। যেহেতু প্রোগ্রামটিতে চাকরির অফার থাকে, তাই অনেকের পছন্দনীয় প্রোগ্রাম এটি। ২০১৭ সালে দুই হাজার পরিবার এ সুযোগ পাবে বলে আটলান্টিক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ঙ) কিউবেক ইমিগ্রেশন: কিউবেক কানাডার একটি প্রদেশ হলেও এর ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া আলাদা ও স্বতন্ত্র। বছরের যেকোনো সময় নির্দিষ্ট কোটা উল্লেখ করে প্রোগ্রাম ঘোষণা করা হয়। সাধারণত এই প্রদেশের শর্ত বা যোগ্যতাগুলো অনেক সহজ ও শিথিল থাকে। কিউবেকের প্রোগ্রামগুলো মূলত তিনটি ক্যাটাগরিতে হয়ে থাকে। সেগুলো হলো-দ্য কিউবেক স্কিলড ওয়ার্কার প্রোগ্রাম, এন্টারপ্রেনিয়ার প্রোগ্রাম ও কিউবেক এক্সপেরিয়েন্স ক্লাস। প্রতিটি প্রোগ্রামের নিজস্ব শর্ত রয়েছে। আগামী ১২ মাসের মধ্যে আরো পাঁচ হাজার অভিবাসী নেবে এই প্রদেশ।

ফেডারেল স্কিলড ট্রেডারস প্রোগ্রাম (এফএসটিপি), কার্পেন্টার, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, ওয়েল্ডারসহ কয়েকটি পেশাজীবীরা এই প্রোগ্রামের আওতায় আবেদন করে চাকরিসহ ইমিগ্রেশন করতে পারেন। তবে তাদের বিদেশি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে ‘ট্রেড স্কিল সার্টিফিকেট’থাকতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতাও থাকতে হবে। এ ছাড়া কনস্ট্রাকশন, চিফ কুক, বেকার, ফিস প্রসেসিং, ইলেকট্রিক্যাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল, যন্ত্রপাতি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদ পরিচালনা, কৃষিকাজ ইত্যাদি কাজেরও প্রচুর চাহিদা রয়েছে কানাডায়। পরিবারের যোগ্য সদস্যরা এই প্রোগ্রামের আওতায় কানাডায় যেতে পারবেন। বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছর হলেই আবেদন করা যাবে।

ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন: ফ্যামিলি স্পন্সরশিপের আওতায় কানাডার ইমিগ্রেশন পাওয়া সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত হয়। তবে যাঁদের নিকটাত্মীয় নেই, তাঁরা এই সুযোগ পাবেন না।

কেয়ারগিভারস প্রোগ্রাম: এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে পরিবারসহ কানাডায় স্থায়ী হওয়া যায়। শুধু সনদপ্রাপ্ত নার্সরা আবেদন করতে পারবেন। অন্য প্রচলিত প্রোগ্রামের মতো ৬৭ পয়েন্ট বা এক হাজার ২০০ সিআরএস পয়েন্টের প্রয়োজন নেই। নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা বা বিএসসি পাস ও আইইএলটিএসে ন্যূনতম স্কোর পাঁচ থাকলেই আবেদন করে চাকরিসহ কানাডায় যাওয়ার সুযোগ থাকছে লাইভ ইন কেয়ারগিভার (এলপিসি) প্রোগ্রামের মাধ্যমে। শিশু শিক্ষা ও যত্ন, গেরিয়াট্রিক কেয়ার, পেডিয়াট্রিক নার্সিং বা বয়স্কদের বা প্রাথমিক শিক্ষা ইমিগ্রেশনপ্রাপ্তদের প্রধান কাজ হবে।

কানাডায় ভিসার নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে লেখক, কলামিস্ট, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ রাজুর। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে যারা যোগ্যতা রাখেন, তাদের আর দেরি করা ঠিক হবে না।’

সেই সঙ্গে অযোগ্য ব্যক্তিরা যেন অযথা আবেদন করে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট না করেন সেই অনুরোধও করেন এই আইনজীবী।

এ বিষয়ে সাহায্য প্রয়োজন হলে আগ্রহীরা ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো যাবে info@worldwidemigration.org ই-মেইল ঠিকানায়। এ ছাড়া যোগাযোগ করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপ অথবা ভাইবারে +৬০১৪৩৩০০৬৩৯ নম্বরে। এ ছাড়া ভিজিট করা যাবে www.wwbmc.com. ওয়েবসাইটে।

এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় ৭ নম্বর সেক্টরের ৫১ সোনারগাঁও জনপথে অবস্থিত খান টাওয়ারে ওয়ার্ল্ডওয়াইড মাইগ্রেশন লিমিটেডের অফিসেও খোঁজ নেওয়া যেতে পারে। ফোনে প্রাথমিক তথ্যের জন্য কথা বলতে পারেন ০১৯৬৬০৪১৫৫৫, ০১৯৯৩৮৪৩৩৪০, ০১৯৬৬০৪১৮৮৮, ০১৯৯৩৮৪৩৩৩৯ ও ০১৯৬৬০৪১৩৩৩ নম্বরে।