অনলাইন ব্যবসা

অনলাইনে ব্যবসা যেমন অনেক সহজ তেমনি জটিলও। ই-কমার্সের প্রসারের যুগে প্রতিদিন অনেক তরুণ নতুন করে ব্যবসায়িক সাইট খুলছেন অনলাইনে। ফেসবুকে পেজ খুলছেন আরো কয়েকগুণ বেশী মানুষ। তাই প্রতিযোগিতা অনেক বেশী। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এই ১০ টি ভুল করা যাবে না কোনক্রমেই।

১। পণ্য বা সার্ভিস লঞ্চ করতে দেরী-
অনেকেই হয়ত মূলধন ইনভেস্ট করে অনেক পণ্য কিনেছেন। অথবা আপনার প্রতিষ্ঠানে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা এরকম নতুন কিছু চালু করতে চান। দেরী করবেন না। কারণ আপনার আইডিয়া অন্য কারো মাথাতেও আসতে পারে। বাজারে একটা কিছু যখন আপনিই প্রথম আনছেন তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই পণ্য/সেবা আপনাকে দেবে অনন্যতা। কিন্তু যখনই আপনি ২য় বা ৩য় হয়ে যাবেন, তখন তা আর বিশেষ কিছু থাকবে না। তাই যা করবেন দ্রুত করে ফেলুন।

২। গুরুত্বহীন সমস্যার সমাধান-
আপনার প্রতিষ্ঠানের একটা সমস্যা তা যত ছোটই হোক দ্রুত সমাধান করে ফেলুন। আপনি যে সমস্যাকে ছোট ভাবছেন আপনার কর্মীদের চোখে সেটা হয়ত অনেক বড় সমস্যা। আপনার উৎপাদন যন্ত্রের ছোট্ট একটি ত্রুটি আপনার কর্মীকে বড় দূর্ঘটনায় ফেলতে পারে। আপনার হয়ত পণ্য ক্রেতার কাছে পৌছানোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ২/১ জন কম। নিতে চাইছেন কিন্তু নিচ্ছেন না। আপনার ক্রেতার মনে অসন্তুষ্টি তৈরি হতে পারে। এভাবে হয়ত আপনি ক্রেতা হারাবেন।

৩। ক্রেতার অভিযোগ শোনা-
আপনি হয়ত মনোযোগ দিয়ে ক্রেতার অভিযোগ শুনছেন না। এতে কিন্তু সমস্যায় পড়বেন আপনিই। কারণ আপনার পণ্য বা সেবায় কী ত্রুটি আছে আপনার জানা হল না। দীর্ঘসময়ে গিয়ে এতে আপনার পণ্যের মান নেমে যেতে পারে, সুনাম ক্ষুন্ন হতে পারে। আবার ক্রেতাও আপনার কাছ থেকে সেবা নেয়া বন্ধ করে দিতে পারে।

৪। ‘ইউনিক’ না হওয়া-
এখন চারিদিকে প্রচুর দোকান। আপনি যে পন্যেরই ব্যবসা শুরু করুন না কেন আপনি একাই সেই ব্যবসা করছেন না, আছে আরো অনেক বিক্রেতা। তাই আলাদাভাবে নজরে পড়তে আপনার পণ্যকে হতে হবে যথেষ্ট আলদা। ভিন্নতাই হবে একমাত্র কৌশল যা ক্রেতাকে হাজার অনলাইন শপের ভীড়ে ফিরিয়ে আনবে আপনার কাছে।

৫। সম্পূর্ণ অজ্ঞাত বিষয় নিয়ে কাজ করা-
আপনি হয়ত এমন একটি সংযোজন করলেন ব্যবসায় যা  সম্পর্কে আপনি তেমন জানেনই না। যেমন, আপনার হয়ত কাপড়ের ব্যবসা। আপনি ভাবলেন পাশাপাশি একটা অনলাইন রেস্টুরেন্ট খুলবেন। প্রথমত দুইটি বিষয় একেবারেই আলাদা, এদের কাস্টমার, চাহিদা, বাজার, সমস্ত কিছুই আলাদা, তার উপর হয়ত রান্নার কিছু জানেনও না আপনি। কীভাবে সম্ভব ভেবেছেন কি? যে বিষয়ে আপনি কাজ করবেন সে বিষয়ে প্রত্যক্ষ ভাবে আপনার নিজের জ্ঞান থাকা খুবই জরুরি।

৬। বেশি চিন্তা, কম কাজ-
আপনি হয়ত কী কী করবেন, কীভাবে করবেন তা নিয়ে বিশদ চিন্তা করছেন, কিন্তু যে সময় দেয়া দরকার সে কাজকে বাস্তবায়ন করতে তা করছেন না। এভাবে আপনি এগোতে পারবেন না। প্রতিদিন বরং নিজের কাজের একটা টার্গেট ঠিক করুন। সে অনুযায়ী দিন শেষে মিলিয়ে দেখুন কী কী করেছেন, কী কী বাকি আছে। কাজই আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই পরিশ্রম হলেও দিনের কাজ দিনে শেষ করুন। বেশি চিন্তা করে সময় নষ্ট করবেন না।

৭। একা চলার মানসিকতা-
আপনার প্রতিযোগী অবশ্যই অনেক, কিন্তু তারা আপনার শত্রু নয়। তাদেরকে সাথে নিয়েই আপনার এগিয়ে যেতে হবে। আমরা অনেকে যে ভুলটি করি, প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলতে গিয়ে আশ্রয় নেই অনেক নোংরা পথের। পেছনে দূর্নাম করা, প্রতিযোগিদের আইডিয়াকে নিজের বলে চালানোর চেষ্টা, এসবই আমাদেরকে সবার থেকে দূরে ঠেলে দেবে। আবার আমরা যত ইউনিকই হই না কেন অধিক আত্মবিশ্বাসী হওয়াও ভুল। আপনার প্রতিযোগীকে আপনার বন্ধু করে নিন, দেখবেন দুঃসময়ে তাঁর ছোট্ট সহযোগিতা আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে দেবে।

অনলাইন বা অফলাইন ব্যবসায়ী হতে হলে অনেক পরিশ্রমী, গুনী হওয়ার পাশাপাশি আপনাকে কৌশলীও হতে হবে। তাই নিজের ছোট ছোট ভুলকেও প্রশ্রয় দেবেন না, এগিয়ে যাবেন সবাইকে সাথে নিয়ে। একতাই সফলতার মূল মন্ত্র।

 আফসানা সুমী