তেল তোলা, রাশিয়া, সৌদি আরব

শেষ পর্যন্ত তেল তোলার সীমা বাঁধতে রাজি সৌদি আরব ও রাশিয়া। বিশ্বের বৃহত্‍ দুই তেল উত্‍পাদনকারীর পাশাপাশি ওই একই পথে হাঁটার কথা জানাল ভেনেজুয়েলা এবং কাতারও। যদিও তার জন্য যে শর্ত চাপানো হয়েছে, তাতে এই সমঝোতা টেকা নিয়ে সন্দেহ থাকছে যথেষ্ট। গত ১৯ মাস ধরে বিশ্ব বাজারে নেমেছে অশোধিত তেলের দাম। ১১৫-১২০ ডলার থেকে প্রতি ব্যারেলের দর নেমে এসেছে ৩০-৩৫ ডলারে। তার উপর চাহিদায় ভাটার কারণে উত্‍পাদনও হচ্ছে তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে এ দিন দোহায় চার দেশের তেলমন্ত্রীর বৈঠকের পরে আর উত্‍পাদন না-বাড়ানোর এই ঘোষণা। কাতারের তেলমন্ত্রী জানান, জানুয়ারিতে যে তেল রাশিয়া ও সৌদি আরব তুলেছিল, তাতেই উত্‍পাদন বেঁধে রাখবে তারা।

কিন্তু শর্ত হল, একই কাজ করতে হবে অন্য প্রধান তেল উত্‍পাদকদেরও। এখানেই খটকা বিশেষজ্ঞদের। প্রথমত তেলের দর এত দিন টানা কমতে থাকা সত্ত্বেও উত্‍পাদন ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটেনি কোনও দেশ। এখনও বাকিরা উত্‍পাদনের ঊর্ধ্বসীমা বাঁধতে রাজি হবে কি না, সে বিষয়ে সন্দিহান তাঁরা। বিশেষত যেখানে সদ্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরে পুরোদমে তেল রফতানিতে কোমর বাঁধছে সৌদি আরবের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান। নিষেধাজ্ঞার জেরে হারানো বাজার যে কোনও মূল্যে ফের কব্জা করতে চায় তারা। কাতারের তেলমন্ত্রীর দাবি, উত্‍পাদন আর না-বাড়ানোর বার্তা নিয়ে শীঘ্রই ওপেক (পশ্চিম এশীয় তেল উত্তোলনকারী দেশগুলির সংগঠন) এবং তার বাইরের দেশের সঙ্গে কথা হবে। কিন্তু তাতে ইরান, ইরাকের মতো দেশ কতটা রাজি হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই। তেল উত্‍পাদক দেশগুলি মনে করেছিল, গত বছরের মাঝামাঝি থেকে চাহিদা বাড়বে। কিন্তু হয়েছে উল্টো। মার্কিন অর্থনীতি এখনও চাঙ্গা নয়। চাহিদায় শৈত্য ইউরোপে। এ সবের সঙ্গে বড় ধাক্কা চিনের অর্থনীতি নড়বড়ে হয়ে পড়া। যারা তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম খরিদ্দার। ফলে চাহিদা বাড়ার লক্ষণ নেই। অথচ বাড়তি উত্‍পাদনের জেরে জমে আছে ৩০০ কোটি ব্যারেলেরও বেশি তেল। তাই উত্‍পাদন না ছেঁটে শুধু ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছ।