অর্থ

ঈদের আগে পণ্য বিক্রির অর্থ ব্যাংকে জমা দিতে না পারলে বিপাকে পড়তে পারেন ব্যবসায়ীরা। একারণে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। টানা ৯ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় অর্থ সংকটে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষও।

আবার অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বেতন ও বোনাস ঈদের আগের দিনও দিয়ে থাকে। ব্যাংক বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন-বোনাস দিতে পারবে কি না সেটা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে এবার টানা নয়দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঈদের আগে ৪ জুলাই বন্ধ রাখা দিনের অফিস করতে হবে ১৬ জুলাই।

ঈদের মৌসুমে সাধারণ বিকিকিনি অনেক বেশি হয়ে থাকে। বিভিন্ন বিপণি বিতান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন করেন ঈদকে ঘিরে। রাজধানী ছাড়াও দেশের বড় বড় বিপনী বিতানগুলোতে বিপুল পরিমান অর্থ লেনদেন হয়। এসময়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় টাকা জমা নিয়ে বিপাকে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দোকান মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এত দীর্ঘ সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলে ব্যবসারীরা ঈদ বাজারে পণ্য বিক্রির অর্থ নিয়ে বিপাকে পড়বেন। ব্যাংকে জমা না দেওয়ার সুযোগ নিতে মরিয়া হয়ে উঠবে চোর, ছিনতাই ও ডাকাতদল।

তিনি জানান, ঈদ মৌসুমে সাধারণত বিকিকিনি অনেক বেশি হয়ে থাকে। বিভিন্ন বিপণি বিতান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেন করেন ঈদকে ঘিরে। কিন্তু এ বছর ঈদের আগে টানা চার দিন সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ থাকায় তারা উত্কণ্ঠিত।

এফবিসিসিআইর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি আবুল কাশেম আহমেদ বলেন, সরকারি চাকরিজীবিদের জন্য দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করা ভালো। তবে ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে ঈদের আগে দু’একদিন ব্যাংক খোলা রাখা প্রয়োজন। কারণ ঈদের সময় বিকিকিনির অর্থ দোকান বা বাসায় রাখতে গেলে বিপদ হবে।

এদিকে টানা ছুটির সময় দেশের শিল্প এলাকা বিশেষ করে গার্মেন্ট সংশ্লিষ্ট এলাকায় ২ ও ৩ জুলাই ব্যাংক লেনদেন নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা হলেও বিভিন্ন বিপণি বিতানের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

তবে ৪ জুলাই দেশের সব ব্যাংক খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিস এ খান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময় ব্যাংক বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হবে তা নয়। সাধারণ জনগণও নগদ টাকার সংকটে পড়বেন। কারণ রাজধানীতে যে পরিমান এটিএম বুথ আছে। সারাদেশে সেই তুলনায় খুবই প্রতুল। কাজেই ব্যাংক বন্ধ থাকলে ঢাকার বাইরে অনেকেই টাকা তুলতে পারবে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, আমরা চাইলেও সব ব্যাংক শাখা খোলা রাখতে পারবো না। সরকারি ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে আমরা পোশাকশিল্প এলাকার ব্যাংকগুলো ২ ও ৩ জুলাই খোলা রাখতে নির্দেশ দিয়েছি। ৪ জুলাইও খোলা রাখা যায় কি না তা চিন্তা কর‍া হচ্ছে।