ইন্টারনেটের ভালোমন্দ

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সাড়া জাগানো আলোচিত বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেট। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়া বা মাধ্যম। মিডিয়াকে বলা হয় সমাজের আয়না। এটি দু’ধরনের, প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক বা ওয়েব মিডিয়া। এটি মানুষকে গতি দিয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এটি ছাড়া আজ বিশ্ব অচল। এর ব্যবহারে রয়েছে যেমন ইতিবাচক দিক তেমনি রয়েছে নেতিবাচক দিক। একজন নতুন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী অনায়াসেই, অজান্তেই এর এমন সাইটগুলোতে প্রবেশ করার পথ জানতে পারেন যা তার জন্য নৈতিকতা বিরোধী ও ক্ষতিকর। অনিচ্ছা সত্ত্বেও এখান থেকে সে বের হয়ে আসতে পারেন না। ফলে সে এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন।
ইন্টারনেট অর্থ আন্তর্জাল। ইন্টারনেট সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা অনেকগুলো কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এমন একটি বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বিশ্বের নানা প্রান্তের কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সাথে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিনিময় করা যায়। এটি ১৯৬০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ Advanced Research Projects Agency (ARPA) নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়, যার উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যাতে যুদ্ধের সময়েও এক সামরিক ঘাঁটি থেকে অপর ঘাঁটির সাথে যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন থাকে। এই নেটওয়ার্ককে বলা হয় আরপানেট (ARPANET)। এখান থেকেই এর যাত্রা শুরু করে। শুরুতে ইন্টারনেটের ব্যবহার খুব সীমিত থাকলেও বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সার্ভিস, ইমেইল সার্ভিস, এফটিপি বা ফাইল ট্রান্সফার প্রটোকল, টেলনেট, রিমোট বা ইন্টারনেট প্রিন্টিং, রিমোট স্টোরেজ, নিউজ গ্রুপ, ভিওটি বা ভয়েস ওভার টেলিফোন, ইনস্ট্যন্ট মেসেজ, ভিডিও কনফারেন্সিং, ইন্টারনেট চেটিং প্রভৃতি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ৬ জুন ১৯৯৬ সাল থেকে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (ISN)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম ইন্টারনেট সেবার কাজ শুরু হয়।
আজকের বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। সংবাদপত্র পাঠ, তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান, যোগাযোগ, হিসাব সংরক্ষণ, ফাইল ও ডাটাবেজ সংরক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণার কাজ, কেনাকাটা, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সামাজিক যোগাযোগ, বিনোদন, লাইভ ভিডিও কনফারেন্স, কুরআন-হাদীস চর্চা, সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজের নিষেধ, ইসলামের দিকে দাওয়াত দান, ইসলামের শত্রুদের জবাব দান, মাকতাবাতুশ শামেলার ব্যবহার, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম, নৈতিক চরিত্র গঠন ও উপকারী জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যে কাজ শেষ করতে অনেকগুলো মানুষের প্রয়োজন হয়, যে কাজ করতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয় তা স্বল্প সময় ও অর্থ ব্যয়ে অতি দ্রুততার সাথে নিপুণভাবে শেষ করা যায়। তাই দিন দিন ইন্টারনেটের উপর মানুষের নির্ভরতা বাড়ছে। এমতাবস্থায় ইসলাম নিয়ে যারা ভাবেন, ইসলামের প্রসারই যাদের কাম্য ও কর্ম, তাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না। ইসলাম প্রচারে ইন্টারনেটকে কাজে লাগানো এখন সময়ের দাবি।
ইন্টারনেট যেমন কাউকে বিশাল জ্ঞানের রাজ্যের সন্ধান দিতে পারে তেমনি দিতে পারে বিশাল খারাপ একটি রাজ্যের সন্ধানও। পৃথিবীর সকল আবিষ্কারের লক্ষ্যই মানবকল্যাণ, কিন্তু মানুষ ব্যক্তিস্বার্থে এসব আবিষ্কারকে খারাপ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করে। ‘নিউক্লিয়ার’ আবিষ্কৃত হয়েছিল মানবকল্যাণে, ব্যবহৃত হয়েছে মানব ধ্বংসের হাতিয়ার হিসেবে। প্রযুক্তি মানুষকে জ্ঞানের আলো দেখায় আবার মানুষের পশুবৃত্তির কারণে ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করে সমাজ ও রাষ্ট্রের। বর্তমান তথ্যের রাজ্যে বাধাহীন, অবাধ বিচরণের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে ইন্টারনেট। এটি এখন সর্বাধিক আলোচিত ও ব্যাপক সমালোচিত। এর প্রধান কারণ হল ইন্টারনেটের বাধাহীন ও শাসনহীন অবাধ ব্যবহার। ফলে সমাজ জীবনে বয়ে নিয়ে আসছে বিপজ্জনক সব ভাইরাস, বয়ে নিয়ে আসছে অপসংস্কৃতি, অশ্লীল, উলঙ্গ ও বিকৃত সব ছবি বা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর কিছু। প্রবাদে আছে, ‘কোন বস্তুর ভালবাসা তাকে অন্ধ করে দেয়।’ অর্থাৎ মানুষ যখন কোন বস্তুকে ভালবাসে এবং তার ভালবাসা সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন সে তার দোষ-ত্রুটি ও ক্ষতির দিক ভুলে যায়। ফলে সে তাতে কোন দোষ-ত্রুটি দেখে না, তাতে কোন বিপদ বা অকল্যাণ খুঁজে পায় না, যদিও সেখানে অনেক দোষ-ত্রুটি, বিপদ ও অকল্যাণ থাকে। অনেকেই আছেন যারা ইন্টারনেটকে বৈধ প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। কিন্তু আধুনিক যুগে যুবক ও যুবতীদের মাঝে ইন্টারনেট প্রীতি, গভীর মনোনিবেশ সহকারে এর যথেচ্ছ ব্যবহার, কোন প্রকার ক্লান্তি অথবা বিরক্তবোধ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেটের সামনে বসে থাকা এমনি একটি বিষয় যা সামাজিক ও চারিত্রিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসংখ্য যুবক-যুবতী রয়েছে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে উলঙ্গ ছবি দেখার জন্য, অশ্লীল দৃশ্যসমূহ উপভোগ করার জন্য এবং অবৈধ ওয়েবসাইটসমূহ খোঁজার জন্য, যা একজন যুবককে পাশবিক শক্তিতে বন্দি করে ও দুর্বল করে ফেলে। ফলে তাকে ফলদায়ক উপকারী যে কোন কাজ থেকে বিরত রাখে এবং তাকে সংকীর্ণ গ-িতে আটকে রেখে তাকে পূর্ণভাবে গ্রাস করে ফেলে। ড. সুলাইমান আল-কুদরী বলেন, ‘এ অশ্লীল ছবিসমূহ যুবক-যুবতীদের মানসিক ও স্বাস্থ্যগত দিক থেকে অত্যন্ত ক্ষতিকর, কেননা এ ছবিসমূহ তার মনে ও ব্রেইনে সারাক্ষণ ঘুরপাক খেতে থাকে, ফলে তা দেখা তার বদ অভ্যাসে পরিণত হয়।’ এক্ষেত্রে একটি কেসস্টাডি তুলে ধরা হলো: নিলয়, রাজধানীর নামি-দামী স্কুলের ৮ম শ্রেণীর নিয়মিত ছাত্র। একদিন প্রবাসী বড় ভাইয়ের নিকট ল্যাপটপের জন্য বায়না ধরে। শুরুতে রাজি না হলেও পরবর্তীতে মা-বাবার কথা মতো বড় ভাই একটি ল্যাপটপ পাঠায়। এতেই পাল্টে যায় তার জীবন। একাকী থাকা তার খুব পছন্দ। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরেও দমফাটা গরমে দরজা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকে। সারাক্ষণ কেমন যেন অস্থির, চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ। শিক্ষক জানায়, নিলয়ের পড়ালেখায় অমনযোগিতার সাথে যুক্ত হয়েছে ক্লাস ফাঁকি দেয়া। মা-বাবা  খোঁজ নিয়ে ভয়ংকর তথ্য জানতে পারে, নিলয় আগের মত নেই, তার রুম বন্ধ করে সারাক্ষণ বাজে ছবি দেখে, ফেসবুকে চেট করে সময় নষ্ট করে। এতেই তার রেজাল্ট খারাপ হয়। মা-বাবা তার কাছ থেকে ল্যাপটপটি সরিয়ে রাখে। এতেও সে থামেনি, এখন সে সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে সে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে; সাথে যুক্ত হয়েছে মাদকাসক্তি। এক পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণে দেখা যায়: ইন্টারনেটে আড্ডায় নিমজ্জিত ৮০% যুবক পরবর্তীতে বিয়ে করে না। এদের ৭০% নিষিদ্ধ পল্লিতে যাতায়াত করে এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ে। এদের ৫৫% তাদের পরিবারের কোন খোঁজখবর নেয় না। এদের অধিকাংশই খরাপ ওয়েবসাইটসমূহের ঠিকানা বিনিময় করে, এমনকি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহেও। ফলে এটি শিক্ষা কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। ইন্টারনেটে আসক্ত অধিকাংশ যুবকের শিক্ষা জীবনের উপর এর কু প্রভাব পড়ে। তাদের কেউ কেউ লেখাপড়ায় অগ্রগামী থেকেও আস্তে আস্তে পশ্চাদগামী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইভটিজিং, ধর্ষণ, অপহরণ, খুন, গুম, হত্যাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এরা সারাদিন ফেসবুক, টুইটারে রুচিহীন মন্তব্য আদান-প্রদান করে। অশ্লীল ভিডিও, ছবি লাইক দেয় ও দৃশ্য শেয়ার করে এবং অসত্য মন্তব্য পোস্ট করে। চরিত্রহীন বন্ধু/ফ্যান/ভক্তকে ফ্রেন্ডলিস্ট-এ কনফারমেশন দেয়। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি প্রেম ভালবাসার কথা আপডেট দেয় ও চ্যাটিং করে। ঠাট্টা-মশকরা বিষয় নিয়েই শুধু সারাক্ষণ মেতে থাকে। নৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে উঠার পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ঘটনা ঘটায়। পারিবারিক বন্ধনকে শিথিল করে দেয়। অবৈধ পন্থায় অবাধ জীবন যাপনে এরা অভ্যস্ত হয়ে উঠে। এরা মনে করে যৌনতাই বিবাহের মূল উদ্দেশ্য, আর সে উদ্দেশ্য যদি বিবাহ ছাড়াই পূরণ করা সম্ভব হয়, তাহলে বিবাহের আর প্রয়োজন কি! এভাবে অল্প বয়সেই তাদের নৈতিক স্খলন ঘটছে। বেছে নিচ্ছে তারা মাদক ও অপরাধের পথ। ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে পাশ্চাত্য অপশক্তি ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপ পরিচালনা করছে। সে জন্য একজন মুসলিম ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে জানতে হবে কিভাবে ইসলামের বিরুদ্ধ শক্তি এটিকে কাজে লাগিয়ে ইসলামের ক্ষতি সাধন করছে। পাশাপাশি যে সমস্ত অনৈতিক তথা ইসলামের জন্য ক্ষতিকর এমন ওয়েবসাইট রয়েছে তা থেকে বেঁচে থেকে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করা যায়। অমুসলিমরা মুসলিমদের মন-মানসে তাদের চিন্তা-চেতনা ঢুকিয়ে দিচ্ছে। এ প্রচেষ্টা তাদের অব্যাহত রয়েছে।
ইন্টারনেটে কিছু নেতিবাচক দিক থাকলেও এর ইতিবাচক দিকই বেশি। এটিকে ব্যবহার করে একদিকে যেমন অতি দ্রুত নানা কাজ করা যায় তেমনি অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা যায়। সন্দেহ নেই আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকার চমৎকার মাধ্যম এ ইন্টারনেট। কারণ-ইন্টারনেটের প্রতি দিন দিন মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই দাওয়াতী মাধম্যে খরচ অনেক কম। এর মাধ্যমে কাজ করা অনেক সহজ। একবার পোস্ট করলে দীর্ঘ মেয়াদী দাওয়াতের প্রচার চলতে থাকে। মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে হয় না। ব্যাপক অঙ্গনজুড়ে একে কাজে লাগানো যায়। আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি ড. মাহাথির মুহাম্মদ বলেছেন, ‘আমরা ইন্টারনেটের মোকাবেলা করতে পারি ইন্টানেটের সাহায্যে, কম্পিউটারের মোকাবেলায় কম্পিউটার, কলমের মোকাবিলা করতে পারি কলমের সাহায্যে। আমরা উটের পিঠে চড়ে ল্যান্ডক্রুজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে পারি না।’ বিশ্বায়নের এ যুগে মুসলিমদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞানও অর্জন করতে হবে এবং এর ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে ইসলামের দিকে মানুষকে আহ্বান করা যায়, বিশেষ করে যারা এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিলা পালন করতে পারেন যেমন আলিম সমাজ, শিক্ষক, ডাক্তার, লেখক, ইসলামী বই প্রকাশক, মসজিদের খতীব ও সমাজে নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
সুপারিশমালা: প্রত্যেক মুসলিমকে এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, জীবনে যত সময় ব্যয় হয় কিয়ামতের দিন এ সময়গুলোর হিসাব দিতে হবে। তাই প্রয়োজন তাকওয়ার অনুশীলন করা, দৃষ্টির হিফাজত তথা দৃষ্টিকে শরীয়তে নিষিদ্ধ ও অবৈধ বস্তু থেকে ফিরিয়ে রাখা, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ না করা, পরিণতির কথা চিন্তা করা, প্রবৃত্তির উদ্দীপক বিষয় থেকে দূরে থাকা, প্রবৃত্তির লাগাম টেনে ধরা, যৌন আবেদনময় সকল বিষয় থেকে দূরে থাকা, গড্ডালিকা প্রবাহে ভাসিয়ে না দেয়া। পাশাপাশি  বৈধ চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা করা। পরিবারের সাথে দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আরো বেশি সময় দেয়া। নিজের প্রকৃত দুঃখ-কষ্ট সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং তা দূর করার জন্য সচেষ্ট হওয়া। নিজের সমস্যাগুলো নিজের মাঝে গুটিয়ে না রেখে আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের সাথে আলোচনা করা। ড্রাগ, এলকোহল বা অন্য কোন মানসিক সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা। ভালো মানুষের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা। অসামাজিক, আত্মকেন্দ্রিক ও ঘরকুনো স্বভাব থাকলে তা পরিবর্তন করা। প্রয়োজনে মানসিক বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া এবং চিকিৎসা নেয়া। ধীরে ধীরে ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় ও গুরুত্ব কমিয়ে আনা। নতুন ইসলামী সাইটের ঠিকানা এবং এর শরয়ী বিষয় ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো প্রচার করা। নবাগত ভালো লেখকদের মন্তব্য জানিয়ে উৎসাহ প্রদান করা। যে ইবাদত সামনে আসছে মানুষকে তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া। যেমন লায়লাতুল কদর, আশুরার সাওম ইত্যাদি। চলমান ইস্যুগুলো সংশ্লিষ্ট ফিকহী দিকগুলো মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়া। মানুষকে বিদআত, নিষিদ্ধ ও হারাম কাজ থেকে সতর্ক করা। নির্দিষ্ট কোন হারাম কাজ নির্মূলের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং তা নির্মূলের চেষ্টা করা। জনকল্যাণমূলক কাজে মানুষকে পথ দেখানো। বিপদগ্রস্ত মানুষের আশু সাহায্যের আবেদন প্রচার করা। মানুষকে সুসংবাদ পৌঁছে দেয়া। মিথ্যা খন্ডন করা এবং ইসলামের অপপ্রচারের জবাব দেয়া। দাওয়াতী কাজে সহযোগিতার আবেদন প্রচার করা। অশ্লীলতার বিরুদ্ধে সরকারিভাবে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া।
প্রতিটি মিডিয়া ফুলের মত, যার মধ্যে মধু ও বিষ উভয়টিই রয়েছে। মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে; মাকড়সা বা এ জাতীয় কীটপতঙ্গ এখান থেকে বিষ সংগ্রহ করে। এটি আবার ধারালো ছুরির ন্যায়। এটিকে যেভাবে কাজে লাগানো যায় সেভাবেই কাজ করে। এ জন্য বলা যায় মিডিয়া একটি নিরপেক্ষ ও নিরীহ বস্তু। এমতাবস্থায় শুধু ইন্টারনেট নামক মিডিয়াকে গালাগালি, দোষারোপ করলেই চলবে না; এ জন্য সুস্থ ধারার ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যবস্থা করা এবং এর ব্যবহারকারীকে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, ইন্টারনেট অনলাইনের যেমন দশটি ভালো দিক রয়েছে ঠিক তেমনি খারাপ দিকও রয়েছে যা একটি দশটির সমতুল্য। তবে আমরা যদি অহেতুক সময় নষ্ট না করি। ইন্টারনেটকে কেবল বিনোদন হিসেবে না নিয়ে ক্যারিয়ার, সফলতা কিংবা অধিক জানার আগ্রহ হিসেবে ব্যবহার করি তবে মনে করি এক্সিডেন্ট নয় এর অনেক ফল বলে আনবে। এটি প্রত্যাশিত যে, প্রতিটি সচেতন মুসলিম ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হারাম পথ পরিহার করে যাবতীয় কাজ পরিচালনার করবেন; পাশাপাশি এর মাধ্যমে নিজেকে একজন আল্লাহর পথে আহ্বানকারী তথা দাঈ হিসেবে মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বান করবেন। বর্তমান সময়ে সুউচ্চ অট্টালিকার দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দাওয়াতী কাজ করা খুবই কষ্টসাধ্য বৈকি। এমতাবস্থায় ইন্টারনেট হতে পারে দাওয়াতী কাজের এক বিশ্বমঞ্চ। যার মাধ্যমে একজন দাঈর বক্তব্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে দিতে পারেন বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম

লেখক : গবেষক ও সহকারী অধ্যাপক