চাকুরি, ব্যবসায় উদ্যোগ, সফল উদ্যোক্তা

শিক্ষাজীবন শেষ করে প্রায় সবাই চাকরি খোঁজা শুরু করেন। কেউ কেউ অল্প সময়ে চাকরি পেয়ে গেলেও অনেককেই ব্যয় করতে হয় প্রচুর সময়। আবার অনেকেই বছরের পর বছর ঘুরেও চাকরির দেখা পান না বা পেলেও সেটির বেতনভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদি হয়ত মনঃপুত হয় না। চাকরির বাজারের এমন যখন অবস্থা তখন লেখাপড়া শেষ করে উদ্যোক্তা হতে চাইলে ক্যারিয়ার গঠনে অনেকটাই হয়ত এগিয়ে যাবেন জীবনে।

বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে নতুন করে ব্যবসা শুরু করাও খুব সহজ কোনো ব্যপার নয়। তবে আপনি যদি আপনার সম্পদকে সুন্দরভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে এগিয়ে যান তাহলে আপনি প্রতিযোগিতার মধ্যেও সফলভাবে আপনার ব্যবসাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন। এজন্য ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে কিছু হোম ওয়ার্ক করে নিতে হবে যা আপনাকে আপনার নতুন গ্রাহক সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। আর এ জন্য নিচের কিছু টিপস নতুন উদ্যোক্তাদের সহায়তা করবে।

আপনার নিজস্ব পরিচয় ঠিক করুন: ব্যবসার শুরুতে আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো ঠিক করুন যা আপনার ব্যবসাকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলবে। তাই ব্যবসা শুরু করার আগে একটি সুন্দর স্ট্যান্ডার্ড লোগো তৈরি করুন।

আইনগত নিবন্ধন: ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকারভেদ অনুযায়ী দেশের নীতিমালা সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন করুন। যদি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হয় তবে সিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করবেন। আর যদি লিমিটেড বা পার্টনারশিপ হয় তবে আরজেএসসি থেকে রেজিস্ট্রেশন করাবেন। তবে বর্তমানে ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) খুবই জরুরি। তাই টিন (TIN) করাতে ভুলবেন না। আপনার ব্যবসার ধরনের উপর আবার সরকারের বিভিন্ন বডি থেকে নিবন্ধন নিতে হয়। যেমন: বিনিয়োগ বোর্ড, বিটিআরসি, বিটিসিএল ইত্যাদি।

ওয়েবসাইট তৈরি করুন: বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে আপনাকেও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিতে হবে। আপনার পণ্যের বর্ণনা দিয়ে একটি সুন্দর ওয়েবসাইট তৈরি করুন যা অনলাইনে আপনার গ্রাহক বাড়াতে সহায়তা করবে। অনলাইন বিজ্ঞাপনের ব্যয় পত্রিকা থেকে অনেক কম তাই কম খরচে আপনি চাইলে ওয়েবসাইটে আপনার বিজ্ঞাপন দিতে পারেন অথবা ফেসবুকেও বিজ্ঞাপন দিতে পারেন যা আপনার প্রতিষ্ঠানের বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করবে।

বেতনভাতা: যদি আপনার প্রতিষ্ঠানটি ছোট প্রতিষ্ঠান হয় তবুও নির্দিষ্ট সময়ে আপনার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ করার চেষ্টা করুন। নির্দিষ্ট সময়ে বেতনভাতা পেলে কর্মচারীরা নতুন উদ্যমে কাজ করতে আগ্রহী হবে যা আপনার প্রতিষ্ঠানকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে দ্রুত।

সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনা: আপনার আয়ব্যয়ের হিসাব সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজনে সফটওয়ারের সাহায্য নিতে পারেন। বর্তমানে কম খরচে অনেক ভাল হিসাব ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার পাওয়া যায়। আপনাকে সবসময় মনে রাখতে হবে টাকা গাছে ধরে না তা আপনাকে কষ্ট করে আয় করতে হয়।

অনলাইনে পেমেন্টের ব্যবহার: আপনার পণ্য যাতে গ্রাহক ক্রেডিট কার্ড বা অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ক্রয় করতে পারে সে ব্যবস্থা রাখুন কারণ বর্তমানে ব্যচ্চতার কারণে অনেকে অনলাইনে পেমেন্ট করতে পছন্দ করে যা আপনার আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে যেমন সহজ করবে তেমনি আপনার বিক্রিও বাড়িয়ে দেবে।

নির্দিষ্ট ঠিকানা: শুরুতে বড় আকারের কোনো অফিস নেয়া কঠিন হলে আপনি আপনার বাসার একটি রুম অফিস হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন অথবা অন্য কারও সাথে অফিস শেয়ার করতে পারেন যা প্রাথমিকভাবে আপনার খরচ অনেক কমিয়ে দেবে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে এগুলো অল্প সময়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্তা।

শাব্বির আহমদ তামীম