কওমি মাদরাসা ,বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড, বেফাক,

বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) ৩৯তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
বুধবার বেলা ১২টায় বেফাকের নিজস্ব কার্যালয়ে মহাসচিব মাওলানা শেখ আবদুল জব্বারের হাতে ফলাফলেরর ফাইল তুলে দেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুফতি আবূ ইউসুফ।
এবারের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। মুমতায (স্টার মার্ক) হয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ হাজার ২৭৭ জন। জায়্য়িদ জিদ্দান (প্রথম বিভাগে পাস) হয়েছে ১৪ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী।
৯ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় ৭টি স্তরে ৬৯৩টি কেন্দ্রে ৮৬ হাজার ১৭০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ছাত্র ৫৮ হাজার ২৬১, ছাত্রী ২৭ হাজার ৯০৯ জন। এদের মধ্য ৬২ হাজার ২৯৩ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।
ফলাফলের সব তথ্য বেফাকের ওয়েবসাইটে (www.wifaqbd.org) পাওয়া যাচ্ছে।
কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ ক্লাস তাকমিলে (স্নাতকোত্তর ডিগ্রি) এবারের পরীক্ষায় পাসের হার ছাত্রদের ৭৪ শতাংশ, ছাত্রীদের ৬৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
তাকমিলে মেধাতালিকার শীর্ষে ঢাকা জেলার বাইতুল উলুম ঢালকানগর মাদরাসার মুহাম্মদ কামরুল হাসান। মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন নারায়নগঞ্জের জামিয়া রাব্বানিয়া আরাবিয়া’র মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম।
তাকমীলে বালিকা শাখায় মেধাতালিকার শীর্ষে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার রাবিবা হুসাইন বুশরা। মেধাতালিকায় দ্বিতীয় হয়েছেন বগুড়া আল জামিয়াতুল আরাবিয়া লিল বানাত মাদরাসার মোচ্ছামত সুমাইয়া তাছনীম।
ফযিলত (স্নাতক ডিগ্রি) ছাত্রদের পাসের হার ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬২ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
ফযিলতে মেধাতালিকার শীর্ষে ঢাকার জামিয়া ইসলামিয়া বাইতূন নূর মাদরাসা  মুহাম্মদ জাওয়াদ আহমাদ। ফযিলতে দ্বিতীয় ঢাকার বাইতুল উলুম ঢালকানগর মাদরাসা মুহাম্মদ আদনান।
বালিকা শাখায় মেধাতালিকার শীর্ষে ঢাকার রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদরাসার মাহিরা। দ্বিতীয় হয়েছেন জামিয়া সাহাবানিয়া দারুল উলুম ঢাকার জান্নাতুন নাঈম সাদিয়া ।
সানাবিয়্যাহ (উচ্চমাধ্যমিক) ছাত্রদের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
মেধাতালিকার শীর্ষে খুলনার ওমর বিন খাত্তাব (রা.)  মাদরাসার সাইয়্যেদ আবু সাঈদ। দ্বিতীয় হয়েছেন কুমিল্লার রাজাপুর জামিয়া ইসলামিয়া মোহাম্মদিয়া মাদরসার মুহাম্মদ কামরুল হাসান।
সানাবিয়্যাহর বালিকা শাখায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার মিরপুর মহিলা মাদরাসার মারইয়াম মুবাশশিরা এবং দ্বিতীয় হয়েছেন বরিশালের চরমোনাই জামিয়া রশীদিয়া আহসানাবিদ মহিলা মাদরাসার মোসাম্মত রুকাইয়া।
মুতাওয়াসসিতাহ (নিম্নমাধ্যমিক) ছাত্রদের পাসের হার ৮১ দশমিক ১০ শতাংশ, ছাত্রীদের ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
যৌথভাবে মেধাতালিকার শীর্ষে তিন জন হলেন- গাজীপুরের আল জামিয়াতুল উসমানিয়া দারুল উলুম সাতাইশ মাদরাসার মোজাম্মেল হক, কুষ্টিয়ার আসরাফুল উলুম মাদরাসার হাবীবুর রাহমান এবং মুহাম্মদ মুযযাম্মিল হক। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছে ঢাকার জামিয়া রহমানীয়া আরাবিয়া মাদরাসার খালেদ সাইফুল্লাহ এবয কুষ্টিয়ার আশরাফুল উলুম মাদরাসার  মুহাম্মদ ইমতিয়াজ মাহমূদ আনাস।
বালিকা শাখায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার দারুল উলুম মহিলা মাদরাসার নাজিয়া সুলতানা। দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকার আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) মাদরাসার নুসরাত জাহান।
ইবতিদাইয়্যাহ (প্রাইমারি) ছাত্রদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৬ শতাংশ ও ছাত্রীদের ৬১ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
মেধাতালিকার শীর্ষে কুমিল্লা রাজাপুর জামিয়া ইসলামিয়া মুহাম্মাদিয়ার মুহাম্মাদ মাহাদী হাসান । দ্বিতীয় হয়েছেন একই মাদরাসার সানাউল্লাহ।
বালিকা শাখার মেধাতালিকার শীর্ষে ময়মনসিংয়ের মিফতাহুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার নুসরাত জান্নাত জারীন। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন কিশোরগঞ্জের হালিমা সাদিয়া মহিলা মাদরসার উম্মে কুলসুম এবং কুমিল্লার আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদরাসার সিরাজাম মুনিরা।
এছাড়া হিফজ ও ক্বিরাআত বিভাগের পাসের হার যথাক্রমে ৮৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও ৮৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং হিফজের ৪২ টি ও ক্বিরাআতের ২টি গ্রুপে পৃথক পৃথকভাবে মেধাতালিকার শীর্ষে রয়েছে অনেকেই।
বেফাকের মহাসচিব মাওলানা শেখ আবদুল জব্বার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, কওমি মাদরাসার ছাত্রছাত্রীরা নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা দিয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। জাতির আশা পূরণ করতে সক্ষম হবে। যোগ্য আলেম ওলামা সমাজে ইসলামের সঠিক কথা তুলে ধরবেন এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা পালন করবেন বলে আমার একান্ত বিশ্বাস।
ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে বেফাকের সহকারী মহাপরিচালক মাওলানা জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাওলানা আবদুল জলিলসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফলাফলে কারো অসন্তুষ্টি বা পূনরায় বিবেচনা করতে চাইলে ফল প্রকাশের পর থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করা যাবে।