আহমদ শফী

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতির লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগের মধ্যে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক) বোর্ডের সভাপতি শাহ আহমদ শফী। তিনি বলেন, ‘কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতি দিতে অতিউৎসাহী তৎপরতা গভীর ষড়যন্ত্রের দিকনির্দেশ করে। গত পাঁচ ছয় বছরের ঘটনা পর্যালোচনা করলে এমন ষড়যন্ত্রের জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া যায়। শনিবার সকালে হাটহাজারী মাদ্রাসায় নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের কওমি মাদ্রাসাগুলোর  পরিচালকদের ৩০ সদস্যের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
আল্লামা শাহ আহমদ শফীর প্রেসসচিব মাওলানা মুনির আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে, ১৭ অক্টোবর সোমবার রাজধানির মিরপুর জামেয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদ্রাসায় বেফাক আয়োজিত ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে অংশ নিতে দেশের আলেমদের আহবান জানিয়েছে শাহ আহমদ শফী।
প্রতিনিধি দলের সদস্যদের উদ্দেশে বেফাক সভাপতি শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসাগুলো দারুল উলুম দেওবন্দের  নীতি-আদর্শ মেনে পরিচালিত হয়। সনদের ইস্যুসহ যেকোনও বিষয়ে দেওবন্দের নীতি-আদর্শের পরিপন্থী কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ যেভাবে পরিচালতি হয়, সনদের মান নির্ধারণের বিষয়ে দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিমালা যেরকম, আমরা সেভাবে চলতে চাই। সনদ ইস্যুসহ কওমি মাদ্রাসার যেকোনও বিষয়ে আমাদের ভারতের দেওবন্দ মাদ্রাসার নজির সর্বাবস্থায় সামনে রাখতে হবে।’
শাহ আহমদ শফী বলেন, ‘সরকার দাওরায়ে হাদিসের কওমি শিক্ষা সনদের মান থাকার যৌক্তিকতা উপলব্ধি করলে, সে পর্যায়ে উচিত শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের সঙ্গে খোলামনে আলোচনা করা এবং ওলামায়ে কেরামের সম্মিলিত পরামর্শের আলোকে পদক্ষেপ নেওয়া। কওমি সনদের বিষয়ে সরকার একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিতে থাকলে, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে।’
বেফাক সভাপতি  আহমদ শফী বলেন, ‘কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা সাধারণ শিক্ষার স্কুল-কলেজ থেকেও অনেক বেশি উন্মুক্ত। সুতরাং এসব মাদ্রাসার শিক্ষাদানসহ সব কার্যক্রম যে কেউ যখন-তখন অবলোকন করার সুযোগ রয়েছে। কওমি মাদ্রাসায় মারামারি, দলাদলি ও রাজনৈতিক কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িত হওয়ার ঘটনা নেই। আলেমরা শুধু ঈমান, আকিদার বিষয়গুলোতেই কথা বলে। যে কারণে কওমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যাচারে জনগণ বিভ্রান্ত হয় না।’
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী মিরওয়ারিশপুর হোসাইনিয়া মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা নিজাম উদ্দীনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন, মাওলানা সফি উল্লাহ , মাওলানা মোশাররফ হোসাইন , মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা আতাউল্লাহ, মাওলানা ইউসুফ , মাওলানা নোমান আহমদ (পরিচালক, জামেয়া মাদানিয়া মাইজদি), মাওলানা মোস্তাকুন্নবী, মাওলানা ইয়াকুব কাসেমী, মাওলানা মনজুর সিদ্দিক, মাওলানা মুকতাদির, মাওলানা আমীর হোসেন প্রমুখ।

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ,চাকরি এবং বিজনেস  নিউজ ,টিপস ও তথ্য নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বাংলার জব  এ ।