কওমী মাদরাসা

বেশ কিছুদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী কওমী মাদরাসার ওপর নানা পর্যায় থেকে সমালোচনা ও আক্রমণের তীর বর্ষিত হচ্ছে। কওমী মাদরাসাগুলোর ভেতরে কী কর্মকান্ড  হয়, সিলেবাস ও শিক্ষাধারায় কী কী অসামঞ্জস্য বিদ্যমান, কওমী মাদরাসায় আদৌ কোনো শিক্ষাদীক্ষা দেওয়া হয় কি না-এ নিয়ে একশ্রেণীর কপট বুদ্ধিব্যবসায়ী ও স্বঘোষিত সুশীল শ্রেণীর মতো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদারোহী ব্যক্তিবর্গও নানা বিষোদগার, বিভ্রান্তি ও জিজ্ঞাসার জন্ম দিয়ে চলেছেন। এ অবস্থায় প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরতে কওমী মাদরাসায় যারা পড়ান-পড়েন তাদের বক্তব্য যতই যুক্তিশীল হোক আত্মপক্ষ সমর্থনের দোষে দুষ্ট বানানো হতে পারে। আবার কওমী মাদরাসার সঙ্গে বাস্তব কোনো সম্পর্কই নেই-এমন বায়বীয়, সুশীল শ্রেণীর বক্তব্য অন্ধের হাতি দর্শনের মতোই বিভ্রান্তিপূর্ণ হতে বাধ্য। তাই এ পর্যায়ে কওমী মাদরাসায় লেখাপড়া সম্পন্ন করা কিন্তু বিভিন্নভাবে সরকার স্বীকৃত শিক্ষাব্যবস্থায় উচ্চ শিক্ষার সনদ অর্জনকারী কয়েকজনের অভিমত আলকাউসারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের প্রতি প্রশ্ন ছিল, ক. কওমী মাদরাসা আপনাকে কী দিয়েছে? খ. কওমী মাদরাসায় কি সাধারণভাবে মেধা ও শিক্ষাচর্চার কিছু আছে? কওমী মাদরাসায় লেখাপড়া করে জাগতিক ধারাতেও পড়েছেন এবং বাইরের কর্মক্ষেত্রে বিচরণও করছেন কওমী মাদরাসার কার্যকারিতা কিংবা ব্যর্থতা (?) নিয়ে তাদের কথার প্রাসঙ্গিকতা এক্ষেত্রে বিশেষ কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বের দিক চিন্তা করে আলকাউসারের পক্ষ থেকে এই অভিমতভিত্তিক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন

শরীফ মুহাম্মদ।

অধ্যাপক ড. এবিএম হিযবুল্লাহ

আলকুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া

[কওমী মাদরাসা থেকে হিফযুল কুরআন ও দাওরায়ে হাদীস সমাপ্ত করার পর মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পিএইচডি করেন। কওমী মাদরাসার নিয়মতান্ত্রিক লেখাপড়া শেষের পর এ দেশের কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদ না নিয়েও  পিএইচডি করতে পেরেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সঙ্গে অধ্যাপনা করছেন।]

আমার জীবনের গতিটাই মূলত পরিচালিত হয়েছে কওমী মাদরাসা কেন্দ্রিক। কওমী মাদরাসা থেকে আমার প্রাপ্তির যে ঋণ তা কোনোদিন আমার পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। পবিত্র কুরআন ও হাদীসের শিক্ষার ফাউন্ডেশনটাই আমি অর্জন করেছি কওমী মাদরাসা থেকে। কওমী মাদরাসাকেই আমার জীবন ও শিক্ষার মূল ভিত্তি বলা যায়। কওমী মাদরাসায় কুরআন ও সুন্নাহকে বুঝার যে রুট আমি পেয়েছি, সে রুট ধরেই এগিয়ে চলেছি। নৈতিকতা ও আদব-সৌজন্য বজায় রাখার যে চর্চা সেখান থেকে লাভ করেছি সেইসব গুণাবলি অর্জন করতে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উজ্জীবিত করতে চেষ্টা করি। আমার ক্লাসগুলোকে নিছক একাডেমিক একটা পর্ব মনে না করে প্রকৃত শিক্ষার পাঠ গ্রহণের একটি ক্ষেত্র যেন ছাত্ররা মনে করে আমি সেই আহবান ছাত্রদের কাছে নিয়মিত রেখে থাকি। আর এ সবের পেছনে মূল অবদান কওমী মাদরাসার।

আমি জোরের সঙ্গে বলতে পারি, কওমী মাদারাসার ছেলেরা যদি সাধারণ শিক্ষিত ছাত্রদের সমান সুযোগ পায় তাহলে চ্যালেঞ্জ দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। আমার এ কথার পক্ষে এখন অজস্র দৃষ্টান্তও বিদ্যমান। কওমী মাদরাসা থেকে আসা ছেলেরা বিভিন্ন পরীক্ষা দিয়ে বিগত কয়েক বছর যেই যেই কর্মক্ষেত্রে অবতরণ করেছে সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে। অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থেকে কৃতিত্ব স্থাপন করেছে। কোনো পর্যায়ে কোনো অংশেই তারা পিছিয়ে থাকেনি। মেধার বিকাশ, প্রশাসন, শিক্ষা, গবেষণা, সম্পাদনা, রচনা, নানা ক্ষেত্রে তারা এগিয়ে আছে। তাদেরকে সুযোগ ও ক্ষেত্র দিয়ে পরীক্ষা করা হলেই তাদের সাধারণ মনন ও মেধার স্ফূরণ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করা সম্ভব হবে। #

অধ্যাপক ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ

ওমর গণি এম ই এস কলেজ, চট্টগ্রাম

[কওমী মাদরাসায় নিয়মিত ছাত্র থেকে দাওরায়ে হাদীস ফারেগ হয়েছেন। মাঝে এসএসসি-ইন্টারমিডিয়েটের সমমানেরপরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। যথারীতি অনার্স-মাস্টার্স এবং পি এইচ ডি সম্পন্ন করেছেন। এখন কলেজে অধ্যাপনা করছেন এবং একজন গবেষক-লেখক হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন।]

 

কওমী মাদরাসা আমাদেরকে দ্বীনী তালীম, তথা পবিত্র কুরআন ও হাদীসের শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের জীবনকে পরিশীলিত করতে ও রাখতে কওমী মাদরাসার অবদান সবচেয়ে বেশি। কলেজের কর্মজীবনেও দ্বীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে পরিশীলিত জীবনের পথে চলার শিক্ষা আমরা কওমী মাদরাসা থেকেই পেয়েছি।

যোগ্যতা তো দিয়েছেই, যোগ্যতা অর্জনের ভিতও তৈরি করে দিয়েছে কওমী মাদরাসা। সকালে ঘুম থেকে উঠা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা রক্ষা করে লেখাপড়া করা এবং নিজেই নিজের জন্য পাহারাদারের ভূমিকা রাখার পাঠ আমরা কওমী মাদরাসা থেকে পেয়েছি। #

 

ড. মুশতাক আহমদ

গবেষণা কর্মকর্তা-প্রকাশনা বিভাগ

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

[কওমী মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স-মাস্টার্স সমাপ্ত করে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং গবেষক-লেখক হিসেবে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।]

আমার ওপর কওমী মাদরাসার সবচেয়ে বড় ইহসান বা অবদান হচ্ছে, আমাকে  কওমী মাদরাসা দ্বীনের সহীহ মিযাজ দান করেছে। এখানে মিযাজ কথাটিকে একটি বহুমাত্রিক অর্থে ধরতে হবে। আক্বীদা, আমল, আখলাক, রূহানিয়াত সবকিছু মিলে দ্বীনের সমন্বিত ফিৎরাত বা স্বভাব যা দাঁড়ায়, সেই ফিতরী মিযাজই আমি কওমী মাদরাসা থেকে পেয়েছি। নৈতিক শিক্ষা ও চেতনা এবং নৈতিকতার বাস্তব প্রশিক্ষণ কওমী মাদারাসা থেকে অর্জিত হয়। এক্ষেত্রে অন্যধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশগ্রহণ নেই। কওমী মাদরাসা কিংবা সাধারণ মাদরাসারই এক্ষেত্রে একক ভূমিকা বিদ্যমান। এদেশে মাদরাসা ব্যতীত যতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোতে কেবল বস্ত্তগত শিক্ষা-প্রশিক্ষণই দেওয়া হয়, নৈতিকতার কোনো শিক্ষা কিংবা চেতনা দেওয়া হয় না। সিলেবাসের বইপত্রেও নৈতিকতার কথা থাকে না, পরিবেশেও নৈতিকতার আবহ থাকে না। কওমী মাদরাসায় এ  দুটো ক্ষেত্রেই নৈতিকতার পাঠ উপস্থিত।  যে কারণে চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী অথবা ড্রাইভার হওয়ার পরও মানুষের প্রতি জুলুম না করার শিক্ষাটা একজনের মাঝে গভীরভাবে প্রোথিত থাকে না। এর কুফল আমাদের সমাজে দৃশ্যমান। অথচ কওমী মাদরাসায় এ শিক্ষাটাই প্রধান আকারে দেওয়া হয়। এজন্য একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, দেশে নৈতিকতার যে শিক্ষা রয়েছে তার প্রায় ১০০% ভাগই দেওয়া হয় কওমী মাদরাসায় এবং সাধারণ মাদরাসায়।

বিষয়টা কেবল নৈতিকতা-অনৈতিকতারই নয়, বাস্তব ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠিতেও তারা অগ্রসর। কোনো সনদ-সার্টিফিকেট না থাকা সত্ত্বেও কওমী মাদরাসার আলেমরা এই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে ইসলাম বিষয়ক বইপত্র রচনা, অনুবাদ, সম্পাদনা, গবেষণা-সমালোচনায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছেন। এটা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি। অন্যান্য ধারায় শিক্ষাপ্রাপ্তদের চেয়ে এসব অঙ্গনে তারা অনেক এগিয়ে।

দ্বীনী বিষয়ে সম্পূর্ণ কুরআন-সুন্নাহ্ভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ চিন্তাধারাও কওমী মাদরাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণকারীরা লালন করেন। এই শিক্ষাটা কওমী মাদরাসাতেই দেওয়া হয়। এজন্য দ্বীনের কোনো একটি বিষয়ে প্রান্তিক অবস্থান তাদের মধ্যে দেখা যায় না। একইভাবে দ্বীনী বিষয়ে আপোষহীনতার প্রেরণাও কওমী মাদরাসা শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে মনে করি। এজন্য দেখবেন, যে কোনো ইসলাম বিরোধী মতবাদের বিষয়ে এরাই সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। বাতিল মতবাদের খন্ডনের বিষয়ে কওমী ধারার আলিমদের দ্বারা যে বিপুল রচনাসম্ভার তৈরি হয়েছে তা এ বিষয়েরই প্রমাণ বহন করে। #

ড. আবদুল জলীল

 

গবেষণা কর্মকর্তা ইসলামী বিশ্বকোষ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

কওমী মাদরাসায় পবিত্র কুরআন হেফয ও দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেছেন। মাঝে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাদিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে মাস্টার্স ও পি এইচডি সম্পন্ন করেছেন। ইফাবার কর্মকর্তা এবং একজন গবেষক-লেখক হিসেবে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছেন।]

 

আমার জীবনে কওমী মাদরাসার অবদান অনেক। কুরআন-হাদীসের বেসিক জ্ঞান আমি কওমী মাদরাসা থেকেই শিখেছি। মূল থেকে সরাসরি ইসলামকে জানার আয়োজন কওমী মাদরাসাগুলোরই ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান। এবং আজ যতটুকু যা কাজ করতে পারছি সবকিছুর পেছনে প্রধান অবদান কওমী মাদরাসার।

কওমী মাদরাসায় পড়াশোনার যে উন্নত ও একাগ্র পরিবেশ পাওয়া যায় এবং সুন্দর অভ্যস্ততা গড়ে উঠে, যে শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতার অভ্যাস তৈরি হয় পরবর্তী জীবনেও তার গভীর ইতিবাচক ছাপ থাকে। আমাদের জীবনে এখন পর্যন্ত আমরা সে প্রভাবেই চলছি। সেই রুটিন ও শৃঙ্খলার বদৌলতে এখনও সময়ে বরকত অনুভব করি। কওমী মাদরাসার পাঠ্যক্রম ও সিস্টেমে মেধাবী-পরিশ্রমী ও যোগ্য শিক্ষার্থী তৈরি হয়। কওমী মাদরাসা তার ছাত্রদের মাঝে যোগ্যতা ও মেধার এক অভূতপূর্ব অনুশীলনের সৃষ্টি করে। এ কারণে এক কথায় বলা যায়, সত্যিকারের মানুষ এবং মনোযোগী ছাত্র নির্মাণে কওমী মাদরাসার ভূমিকা বিরাট ও বিশেষ। #

 

মুহাম্মদ তারেক

সহকারী অধ্যাপক, পরিসংখ্যান বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা

[কওমী মাদরাসায় হাফেয ও দাওরায়ে হাদীস ফারেগ। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে মেধা তালিকায় অবস্থান করে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।]

 

কওমী মাদরাসা আমাদেরকে দ্বীনদারির মজবুত ভিত্তি দান করেছে। নিজস্ব ধর্ম, ধর্মাচার ও নীতির সঙ্গে এত দৃঢ় সম্বন্ধ তৈরি করে দিয়েছে যে, আল্লাহর রহমতে যে কোনো প্রতিকূলতার মুখেও দ্বীনকে অবলম্বন করে টিকে থাকার মতো অবস্থা বজায় থাকে। ক্ষণিকের ভ্রান্তি বা চাকচিক্যে কওমী মাদরাসার কোনো ফারেগ কিছু সময়ের জন্য এদিক-সেদিক গেলেও সে অবস্থাটা তার মাঝে স্থায়ী হয় না। আবার দ্বীনের আসল গোড়ার দিকে প্রত্যাবর্তন ঘটে থাকে। কওমী মাদরাসা থেকে তার প্রত্যেক শিক্ষার্থী দ্বীনের মূল পরিচিতি ও কান্ডের সঙ্গে সংযুক্তির একটি সম্পর্ক শিখে আসে। এ থেকে স্থায়ীভাবে কিংবা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিচ্যুত হওয়া কওমী ফারেগ যে কারো জন্য কঠিন হওয়ার কথা।

কওমী মাদরাসায় লেখা-পড়ার কারণে মুতালাআ ও তাকরার তথা নিমগ্নতার সঙ্গে পাঠ ও গ্রূপ ডিসকাশনের যে ধারার সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত হয়েছি, এর সুফল অন্যধারার শিক্ষাঙ্গনে বড়ভাবে পেয়েছি। এ ধরনের চর্চা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেই। পরীক্ষাকেন্দ্রিক বা আনুষ্ঠানিক লেখাপড়ার সিস্টেমের বাইরে সার্বক্ষণিক পাঠের নিমগ্নতার যে ধারা কওমী মাদরাসা দান করে তা দেখে অন্যরা কিছুটা অবাকই হয়ে থাকে। তাছাড়া লেখাপড়ার ক্ষেত্রে, মেধাকে শানিত ও বিকশিত করার ক্ষেত্রে কওমী মাদরাসার শিক্ষাধারা যে বিরাট ভূমিকা রাখে তা সংশ্লিষ্ট যে কারো জানার কথা। ক্লাসে যাওয়ার আগে পঠিতব্য বিষয়ে ছাত্রেরও যে মুতালাআ (অগ্রিম কিছু ধারণা নেওয়ার চেষ্টা) করার একটা ব্যাপার থাকে, এটা কওমী মাদরাসা ছাড়া এ দেশের কোনো শিক্ষাধারাতেই নেই। মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী ছাত্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কওমী মাদরাসার অবদান অনেক বড় ও অনস্বীকার্য। #

ডা. আবদুল বারী

 

এমবিবিএস, এফসিপিএস (১ম পর্ব)

এমডি, রেজিস্টার, মেডিসিন বিভাগ

কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ

[পবিত্র কুরআন হেফয ও দাওরায়ে হাদীস কওমী মাদরাসায় সম্পন্ন করেছেন। যথারীতি এসএসসি-ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছেন।]

 

আমার ক্ষেত্রে কওমী মাদরাসার অবদান হল, কওমী মাদরাসা আমাকে হক বা সত্য চিনতে সাহায্য করেছে। আমার জীবনে এ বিষয়টাকেই আমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কওমী মাদরাসায় আমার জীবনের যে সময়টুকু কেটেছে সে সময়টুকুকে আমি বর্ণিল, সুন্দর ও সমৃদ্ধ সময়কাল হিসেবে চিহ্নিত করব। যোগ্যতার যে ভিত্তিটা সেখানে তৈরি হয়েছে পরবর্তীকালে তা আমার অনেক উপকার করেছে।

কওমী মাদরাসায় শিক্ষাদান ও প্রতিভা ঝালিয়ে তোলার উজ্জ্বল ব্যবস্থাপনা রয়েছে। কওমী মাদরাসায় অসাধারণ প্রতিভা ও যোগ্যতা সম্পন্ন বহু ছাত্র ও আলেম রয়েছেন, যারা অন্য অঙ্গনে এলে অন্য যে কারো চেয়ে ভালো করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। অন্যধারার প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশ-অবকাঠামো, আয়োজন ইত্যাদিতে হয়তো কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু কওমী মাদরাসা সামগ্রিকভাবে যে শৃঙ্খলা, সময়ানুবর্তিতা, মনোনিবেশ ও সততার শিক্ষা দেয়-তা অসাধারণ ও অনন্য। #

ড. খলীলুর রহমান খান

 

প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ

ওয়ালিনেওয়াজ খান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, কিশোরগঞ্জকওমী মাদরাসায় হাফেয ও দাওরায়ে হাদীস পাশ করেছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দিয়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স-মাস্টার্স এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন।]

 

কওমী মাদরাসা আমাকে অনেক কিছুই দিয়েছে। কওমী মাদরাসার ছাত্র ছিলাম বলেই পরবর্তীতে অন্যধারার শিক্ষাঙ্গনে সমপর্যায়ের অন্যদের তুলনায় সবচেয়ে ভালো করেছি।

 

বস্তুত কওমী মাদরাসা আমাদেরকে যা দিয়েছে সেটিকে শুধু ভিত্তি বললে ভুল হবে, তার এরিয়া অনেক ব্যাপক, তার আয়তন অনেক বিশাল। সব বিষয়েই একটি সমগ্রতা ও ব্যাপকতা আমরা কওমী মাদরাসা থেকে পেয়েছি। কওমী মাদরাসার জগতটাকে যদি একটি দেশ ধরা হয় তাহলে অন্যধারার শিক্ষাঙ্গন আমার কাছে একটি জেলার মতো। পরিধি ও ব্যাপকতায় কওমী মাদরাসা আসলেই এতোটা ব্যাপক। আমার একটি অনুভূতি হচ্ছে, কওমী মাদরাসায় পড়ে অন্য ধারার শিক্ষাঙ্গনে  যখন গিয়েছি তখন নিজের পরিধিকে আপনা থেকেই অনেক বড় মনে হয়েছে। এটা কওমী মাদরাসারই অবদানের কারণে সম্ভব হয়েছে।

আলকাউসার থেকে সংগৃহীত