গুগল, অ্যাপল ও অ্যামাজন

মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলকে অনেকেই ফোন, কম্পিউটার আর স্মার্ট ঘড়ি উৎপাদনের জন্য চেনেন। কেননা এই পণ্যগুলোই প্রতিষ্ঠানটিকে সবচেয়ে বেশি পরিচিত করে তুলেছে। তারা যে জ্বালানি উৎপাদনেও কাজ করছে তা হয়তো অনেকেরই অজানা।
গেলো বছর ক্যালিফোর্নিয়ার মনটরে ২ হাজার ৯শ’ একর জুড়ে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কাজ শুরু করে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। এই কেন্দ্র থেকে ১শ’ ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হওয়ার কথা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে তারা বাজারে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে সক্ষম।
এরই ধারাবাহিকতায় আগস্ট মাসে প্রতিষ্ঠানটিকে বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমতি দেয় মার্কিন প্রশাসন। অ্যাপল বলছে, বর্তমানে তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে আরও বেশি অর্থায়ন করবে।
অ্যাপলের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে প্রযু্ক্তি উৎপাদক অনেক প্রতিষ্ঠানই। অনলাইনে পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যামাজন’ও সম্প্রতি টেক্সাসে ২শ’ ৫৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে আগ্রহী অনলাইন সার্চ ইঞ্জিন ‘গুগল’ও। এরই মধ্যে ‘সান পাওয়ার’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তারা কাজও শুরু করে দিয়েছে। তবে কেন প্রযু্ক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো হঠাৎ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে? উত্তর খুঁজেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি।
আইএইচএস টেকনোলজি প্রতিষ্ঠানের সৌর জ্বালানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যাশ শর্মার মতে, বড় আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুতের জন্য অনেক খরচ করতে হয়। তাদের জন্য এই খাতে খরচ কমানো খুব কঠিন বিষয়।
যেমন গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ডাটা সেন্টারগুলোতে সব সময় বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। আবার সার্ভারগুলো ভালো ও কর্মক্ষম রাখতে সেগুলোকে সবসময় ঠাণ্ডা রাখতে হয়। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য তাই যেমন প্রচুর জ্বালানির প্রয়োজন.. ব্যয়ও হয় তেমনই। তাই নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদনই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে খরচ যেমন কম, তেমনই দ্রুত উৎপাদনে আনা যায়। এছাড়া পরমাণু, গ্যাস কিংবা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা থাকলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে এ ধরনের ঝুঁকি একেবারেই নেই। রসদেরও (যেমন সূর্যের আলো কিংবা বাতাস) অভাব নেই।
শর্মার মতে, সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে জ্বালানি খরচ অনেকটাই কমানো সম্ভব। আর বড় প্রতিষ্ঠানগুলোয় জ্বালানি খরচ কমে গেলে উৎপাদিত পণ্যেও তার প্রভাব পড়বে।
এই প্রসঙ্গে তিনি চীনের উদাহরণ তুলে ধরেন। চীনে বর্তমানে প্রচুর পণ্য উৎপাদিত হয়। অন্যান্য দেশের তুলনায় দামও অনেক কম। মজার ব্যাপার হল, চীনে ৮০ ভাগ প্রতিষ্ঠানই চলে সৌর বিদ্যুতে।
পৃথিবীতে ব্যবহৃত জ্বালানি শক্তির মাত্র ১ ভাগ সৌরবিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। তবে এর উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে বলেই মনে করেন অ্যাশ শর্মা। তাতে জ্বালানি খরচও অনেক কমে আসবে।
শর্মার মতে, টেক জায়ান্টরা বিষয়টি অন্যান্য মহলের চাইতে ভালো বোঝে বলেই তারা এখন এই খাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। কাজেই গুগল কিংবা অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর জ্বালানি উৎপাদনে এগিয়ে আসায় অবাক হওয়ার কিছু নেই। এসব প্রতিষ্ঠানগুলো জানে, উৎপাদনের উপরই নির্ভর করে ব্যবসায়িক সাফল্য।

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ,চাকরি এবং বিজনেস  নিউজ ,টিপস ও তথ্য নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বাংলার জব  এ ।