ছড়া

ছেলেবেলায় ইংরেজি স্কুলে পড়লে নিশ্চয়ই আপনাকে হাম্পটি ডাম্পটি জ্যাক এ্যান্ড জিল, মেরীমেরী কোয়াইট কন্ট্রারী ইত্যাদি মজাদার ছড়াগুলো শিখতে হয়েছে। আর যারা ইংরেজি স্কুল পড়েননি। তারাও নিশ্চয়ই এই বিশ্বখ্যাত ইংরেজি রাইমসগুলোর সাথে কোনো না কোনোভাবে পরিচিত। তবে এগুলো স্রেফ ছেলেভুলানো ছড়া আর কিছুই নয়। এসব ছড়া তৈরির পেছনে আছে চমৎকার সব গল্প। ইংল্যান্ডের অনেক নার্সারি রাইমের শুরু লোকগীতি হিসেবে। রেস্তোরাঁ বা সরাইখানায় সুর করে গাওয়া হত কোন কোনটা। কিছু-ছড়ার সৃষ্টি আবার রাস্তার পাশের বিভিন্ন খেলা থেকে। দু’ একটার পেছনে আবার কোন রাজনৈতিক ঘটনা নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কৌতুক অথবা ইংল্যান্ডের রাজা রাণীদের নিয়ে আজগুবী গল্পস্বল্পও শেষ পর্যন্ত ছড়ায় এসে ঠাঁই পেয়েছে- এমন ঘটনাও কম নয়। কোন কোন ছড়ার ভাষা প্রথম দিকে ছিল খুবই অশ্লীল। সময়ের আবর্তে ওগুলোর ভাষা পরিশোধিত পরিমার্জিত হয়েছে। এখানে তেমন কয়েকটি ইংরেজি ছড়ার কথা উল্লেখ করা হলো। সেগুলো সৃষ্টির পেছনে রয়েছে চমকপ্রদ সব কাহিনী।

হাম্পটি ডাম্পটি

হাম্পটি ডাম্পটি স্যাট অন এ ওয়াল।
হাম্পাটি ডাম্পাটি হ্যাড এ গ্রেট ফল।
অল দ্য কিংস হর্সেস
অ্যান্ড অল দ্যা কিংস মেন।
কুডন’ট পুট হাম্পটি ডাম্পটি টুগেদার
এগেইন।
হাম্পটি ডাম্পটি একটি কাল্পনিক ডিমের নাম। তা হোক, কিন্তু হাম্পটি ডাম্পটির ছড়াটির নায়কটি আসলে কে ছিল? কেউ কেউ বলেন, এই ছড়াটি লেখা হয়েছিল বৃটেনের একজন অভিজাত বংশীয় ব্যক্তিকে ঠাট্টা করার জন্যে। ইনি রাজার অনুগ্রহ প্রার্থনা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। সম্ভবত রাজাটি ছিলেন ইংল্যান্ডের তৃতীয় রিচার্ড যিনি পঞ্চদশ শতাব্দীতে দেশ শাসন করে গিয়েছিল।

লিটল জ্যাক হর্নার

লিটল জ্যাক হর্নার
স্যাট ইন এ কর্নার
ইটিং হিজ ক্রিস্টমাস পাই।
হি স্টাব ইন হিজ আম্ব
অ্যান্ড পুলড আউট এ গ্রাস।
অ্যান্ড সেইড, হোয়াট এ গুড বয়
অ্যাম আই?
শোনা যায় লিটল জ্যাক হর্নার আদপে কোন বালক ছিল না। টমাস হর্নার ছিল ইংল্যান্ডের প্রাপ্তবয়স্ক একজন মানুষ। চার্চের জনৈক কর্মকর্তা তাকে রাজা অষ্টম হেনরীর কাছে পাঠায় উপহার হিসেবে একটি ক্রিস্টমাস পাই পৌঁছে দিতে। পাই এর পুরের মালিকানায় ছিল মজার জিনিস – ১২টি ম্যানর হাউসের মালিকানা বিষয়ক কাগজ। আসলে দেয়া হয়েছিল রাজা অষ্টম হেনরীকে যাতে তিনি চার্চের জায়গা জমি দখল না নেন। যাত্রাপথে হর্নার ক্রিস্টমাস পাই এর মাঝে ঢুকে নিজেই এটা কিশমিশ গাছ সেজে থেকে বসে। এরপর সে সেলস ম্যানের মালিকানার কাগজটি সরিয়ে ফেলে। একটি সূত্র জানিয়েছে টমাস হর্নারের উত্তর পুরুষরা এখনও সেলসম্যানের এ কাজ করছে। তার আত্মীয়-স্বজনরা অবশ্য দাবি করে থাকে যে বাড়িটি হর্নার চার্চের সেই আফিসারের কাছ থেকেই কিনেছিল।

জ্যাক অ্যান্ড জিল

জ্যাক অ্যান্ড জিল ওয়েন্ট আপ দ্য হিল
টু কেচ আ পেইল অভ ওয়াটার।
জ্যাক ফেল ডাউন অ্যান্ড ব্রোক হিজ
ক্রাউন
অ্যান্ড জিল কেম ট্যাম্বলিং আফটার
কিছু সূত্র মতে, এই ছড়াটির মূল ভার্সনে জিল নামে কোন মেয়ের কথা ছিল না। আসল ঘটনা হলো দু’জন ব্যক্তিকে নিয়ে যারা বাস্তব জীবনে ছিল শক্তিশালী দুই ধর্মীয় নেতা। এরা দু’জন ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরীর অধীনে কাজ করত। ১৫১৮ খ্রীষ্টাব্দে এই দুই নেতা একজন কার্ডিনাল অন্যজন বিশপ ফ্রান্স এবং রোমের যেভোরি একটি দীর্ঘকালীন দ্বনদ্ব মিটিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলে ফ্রান্স এবং রোমের ভেতরে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। কার্ডিনাল ব্রিটিশ সৈন্য পাঠায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে এবং যুদ্ধকালীন খরচ চালানোর জন্য বাড়তি ট্যাক্স ওঠাতে শুরু করে। লোকজন এই উটকো মন্ত্রণাটিকে সহ্য করতে পারিনি। দুই নেতাকে ঠাট্টা করার জন্যে তখন এই ছড়াটি সৃষ্টি হয়।

মেরী মেরী কোয়াইট কনট্রারী

মেরী মেরী কোয়াইট কনট্রারী
হাউ ডাজ ইয়োর গার্ডেন গ্রো?
উইথ সিলভার বেলস অ্যান্ড ককল শেলস
অ্যান্ড প্রিটি মেইডস অল ইন এরো।
যাকে নিয়ে এই ছড়া বাস্তবে আদৌ যেকোন বাচ্চা মেয়ে ছিল না। লোকচার বিদ্যার পন্ডিত ব্যক্তিরা মনে করেন। মেরী আসলে ছিলেন স্কটল্যান্ডের রাণী যিনি ১৫৪২ থেকে ১৫৮৭ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এ ধরিত্রীর বুকে। কোয়াইট কনট্রারী শব্দটি এসেছে তার একটি মুদ্রাদোষ থেকে যা কিনা তিনি অর্জন করেছিলেন একদা ফ্রান্সে বসবাস করার সময়। আর প্রিটি মেইডসরা হলো তার চারজন ব্যক্তিগত পরিচারিকা। এদিকে তার সুন্দর গার্ডেনে যে সব সাজসজ্জা সৃষ্টিকর্মের মাধ্যমে খচিত হয়েছিল সেগুলোকে বলা হয়েছে ককল শেলস।

রিং অ্যারাউন্ড দ্য রোজী

রিং অ্যারাউন্ড দ্য রোজী
আ পকেট ফুল অভ পোজিস
অ্যাশেস! অ্যাশেস!
উই অল ফল ডাউন।
ছড়াটি শুনে মনে হয় যেন কোন মজার খেলা চলছে। বেশির ভাগ ছেলে-মেয়ে খেলার সময় গানের মত এই ছড়াটি সুর করে আবৃত্তি করতে করতে বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকে অথচ এর পেছনের ইতিহাসটি বড় ভয়ঙ্কর। বড় মর্মান্তিক। তাতে বাচ্চাদের মজা পাওয়ার কিছুই নেই।
১৬৬৪ এবং ১৬৬৫ সালে লন্ডনে মহামারীর আকারে ভয়াবহ এক প্লেগ রোগ দেখা দেয় যা ‘দ্য গ্রেট প্লেগ’ নামে পরিচিত। এই সংক্রামক রোগে ৭০,০০০ এরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এই ছড়াটি সেই ভয়ঙ্কর প্লেগ নিয়ে রচিত।
ছড়ার প্রথম লাইনটি ইংগিত করছে যে একজন মানুষের শরীরের সবখানে গোলাপী রঙের ছোট ছোট ফুসকুড়ি উঠেছে। এটাই প্লেগের প্রাদুর্ভাবের প্রথম সঙ্কেত।
দ্বিতীয় লাইনে আমরা দেখছি লোকে সুগন্ধী ফুল, লতা-পাতা ইত্যাদি পকেটে ভরছে। বহু আগে থেকে মানুষ বিশ্বাস করে আসছে যে শয়তানের নি:শ্বাস থেকে দুগন্ধ বের হয় সেটাই হলো গিয়ে বিভিন্ন রোগের কারণ। তাই নিজেদেরকে শয়তানের নি:শ্বাসের হাত থেকে অর্থাৎ প্লেগের কবল থেকে রক্ষার জন্য তারা সুগন্ধী ফুল রাখত পকেটে। ছড়ার তৃতীয় লাইন অ্যাশেস! অ্যাশেস! এর মানে হলো রোগী অচেতন হবার আগে কাশি শুরু করেছে।
আর সর্বশেষ লাইনের মানে রোগী অচেতন হয়ে পড়েছে। মুত্যৃ তার অবধারিত। বাচ্চারা ছাড়টি পড়ে মজা পায়। আনন্দ করে কিন্তু তারা ঘুর্নাক্ষরেও জানে না এই ছড়ার আড়ালে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর ভয়াবহতম এক রোগের মরণ ছোবলের কথা।

আখতার হামিদ খান

(সূত্র : ইন্টারনেট থেকে অনূদিত)