টাইটানিক

১৪-১৫ এপ্রিল ২০১২ পৃথিবীর বিখ্যাত প্রমোদতরী ‘টাইটানিক’ ট্রাজেডির শতবর্ষ পূর্ণ হল। ১৯১২ সালের এই দিনে প্রথম সমুদ্র যাত্রাতেই এটি সমুদ্রের অতল গহবরে ডুবে যায়। তারই কিছু জানা-অজানা তথ্য নিয়ে আজকের আয়োজন।

u ১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল দুপুরে ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটন বন্দর থেকে ‘টাইটানিক’ যাত্রা শুরু করে।

u যাত্রার শুরুতেই মাত্র চার ফুটের জন্য ‘এসএসসিটি অব নিউইয়র্ক’ জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ হওয়ার উপক্রম হয়।

u জাহাজটির পুরো নাম হচ্ছে ‘আরএমএস টাইটানিক’ অর্থাৎ রয়্যাল সেল স্টিমার টাইটানিক।

u এর প্রস্তুতকারক উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘হোয়াইট স্টার লাইন’।

u জাহাজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯০৭ সালে এবং শেষ হয় ১৯১২ সালে।

u প্রায় ৩ হাজার প্রযুক্তিবিদ ও কারিগরের অক্লান্ত পরিশ্রমে বেলফাস্টে জন্ম হয় ঐতিহাসিক জাহাজ টাইটানিকের।

u জাহাজটি লম্বায় ৮৮২ ফুট ৫ ইঞ্চি, উচ্চতায় (তলা থেকে চুড়া পর্যন্ত) ১৭৫ ফুট এবং চওড়ায় ৯২ ফুট ৫ ইঞ্চি। আর এর ওজন ছিল প্রায় ৬০ হাজার টন।

u এটি তৈরিতে খরচ হয়েছিল প্রায় ৭৫ লাখ ডলার যা আজকের দিনে ৪০ কোটি ডলারের সমান।

u সাধারণ যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করে এর টিকিট বিক্রয় করা হয়।

u প্রথম শ্রেণীর টিকিটের মূল্য ছিল ৩ হাজার ১০০ ডলার যা বর্তমানে ১ লাখ ৬৪ হাজার ডলারের সমান। এবং তৃতীয় শ্রেণীর ভাড়া ছিল ৩২ ডলার যা বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭০০ ডলারের সমান।

u  জাহাজটি ছাড়ার সময় এর বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল- The Biggest Ever Creation of Man is on The Mov

u যাত্রা শুরুর পর ৭৭ নটিক্যাল মাইল এগিয়ে শেরবুর্গ থেকে ২৭৪ জন যাত্রী তুলে নেয়।

u ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় আয়ারল্যান্ডের কর্ক পোতাশ্রয় থেকে ১২০ জন যাত্রী তুলে নেয়। যার মধ্যে ১১৩ জন তৃতীয় শ্রেণীর এবং ৭ জন দ্বিতীয় শ্রেণীর যাত্রী।

u যাত্রার চতুর্থ দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ১৯১২ রাত ১১টা ৪০ মিনিটে আটলান্টিক মহাসাগরের নিউফাউন্ডল্যান্ডের কাছে ভাসমান আইসবার্গের সাথে সংঘর্ষ হয়।

u এর ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর অর্থাৎ রাত ২টা ২০ মিনিটে টাইটানিক সমুদ্র গর্ভে তলিয়ে যায়।

u যাত্রার সময় এর যাত্রী ও ক্রুর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২২৯ জন।

u টাইটানিকের ১ হাজার ৫১৭ জন শীতার্ত যাত্রী এবং ২ জন ক্রু ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড সমুদ্রজলে অসহায় অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

২)          আরএমএস কার্পাথিয়া নামক একটি জাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার করা হয় ৭১২ জন যাত্রী ও ক্রু।

u টাইটানিক ডোবার অযোগ্য ঘোষণা করে মাত্র ২৪টি লাইফবোট রাখা হয়।

u প্রথম শ্রেণীর যাত্রীদের মধ্যে ৯৭ শতাংশ এবং ৩৪ শতাংশ পুরুষ লাইফবোটের সাহায্যে নিজেদের প্রাণে বেঁচে যান। দ্বিতীয় শ্রেণীর যাত্রীদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ মহিলা এবং ৮ শতাংশ পুরুষ প্রাণে বেঁচে যান। আর তৃতীয় শ্রেণীর যাত্রীদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ মহিলা এবং ১২ শতাংশ পুরুষ প্রাণে বেঁচে যান।

u ১৯৮৫ সালে এর অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২ হাজার ৬০০ ফুট গভীরে স্থির হয়ে আছে।

u এর ভৌগোলিক অবস্থান ৪১০ ৪৪র্ উত্তর অক্ষাংশ ও ৫০০ ১৪র্ পশ্চিম দ্রাঘিমায়।

u ১৪ জুলাই ১৯৮৬ সালে টাইটানিক পুনরাবিষ্কৃত হয়।

u টাইটানিকের সম্মুখভাগ সমুদ্র গভীরে ৬০ ফুট মাটির গভীরে প্রোথিত।

u দ্বিখন্ডিত জাহাজটির দু’টি টুকরো ১৯৭০ ফুট দূরে অবস্থান করছে।

-মহিউদ্দিন নোমান