ডেল কার্নেগী

বিশ্বখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ডেল কার্নেগী মানুষের আচার-আচরণ, মনস্তত্ত্ব নিয়ে বিশদ গবেষণা করেছেন। তিনি দেখেছেন, আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসেই লুকিয়ে আছে আমাদের ভবিষ্যৎ সফলতা অথবা ব্যর্থতা, হতাশা। গবেষণায় দেখা যায়, অতীতের সেই মানুষেরাই বেশী সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন যারা ঝুঁকি মোকাবেলা করতে প্রস্তুত থাকতেন, লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য নিজের সিদ্ধান্ত দলের উপর চাপিয়ে দিতেন না, বরং সবার উপর বিশ্বাস রাখতেন।

এমনকি স্বার্থপর, আত্মভোলা মানুষের চেয়ে সেই মানুষেরা ক্যারিয়ারে বেশী উন্নতি করেন যারা তার চারপাশের মানুষের আবেগের মূল্য দেন, তাদের বোঝার চেষ্টা করেন এবং ভালো সম্পর্ক বজায় রাখেন। এসম্পর্কিত আরো বিস্তারিত লিখেছেন তিনি How to win friends and influence people নামক বইয়ে। ১৯৩৬ সালে বইটি প্রকাশিত হয় এবং আজও মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝতে হলে এই বইটির জুড়ি নেই। কার্নেগীর গবেষণার বিপুল ভান্ডার থেকে উক্তি সমূহ:-

– জীবনে পাওয়ার হিসাব করুন, না পাওয়ার দুঃখ থাকবেনা।
– ভদ্র আচরন করতে শিক্ষা লাগে, অভদ্র আচরন করতে অজ্ঞতাই যথেষ্ট।
– আত্মসম্মান, আত্মজ্ঞান, আত্ম নিয়ন্ত্রন- এই তিনটিই শুধু মানুষকে সর্বশক্তিমান করে তুলতে পারে। সঠিক জীবন যাপন নির্ভর করে এদের উপরে।
– দক্ষতা অর্জনের পথ হল- ১) অপরের অভিজ্ঞতা মনে রাখুন ২) নিজের উদ্দেশ্য সামনে রাখুন ৩) সাফল্যের জন্য মন কে তৈরি করুন ৪) যতটা সম্ভব অভ্যেস করুন।
– শুধু আজকের জন্য আমি সুখী হব।- আব্রাহাম লিঙ্কন এতে বোঝা যায় আব্রাহাম লিঙ্কন যা বলেছেন তাই ই ঠিক যে, অধিকাংশ মানুষ ই যতখানি সুখী হতে চায় তাদের মন যা চায় ততটাই তারা হয়। সুখ বাইরের বস্তু নয়- এটা হল অন্তরের।
– দুশ্চিন্তা দূর করার এক নম্বর উপায় হল- ব্যস্ত থাকুন।
– অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজুন, নিজেকে জানুন, নিজের পথে চলুন।
– সবসময় হাসতে হবে। হাসির মাধ্যমে আমরা জীবনের অনেক সমস্যাকেই দূর আকাশে পাঠাতে পারি।
– আমরা যখন আমাদের কর্তব্যকর্মে অবহেলা দেখাই, কোনো দায়িত্বকে নিষ্ঠার সঙ্গে গ্রহণ করি না, তখনই অকৃতকার্যতা আসে।
– জগতে যা সবচেয়ে খারাপ হতে পারে তা মেনে নাও। তুমি যদি সবচেয়ে বড় হতাশাগ্রস্ত হও তাহলে মেনে নাও মৃত্যু তোমার জন্য সবচেয়ে খারাপ হতে পারে। এখন তুমি তোমার কাজে মনযোগী হও। মনে রেখ শরীরের জন্য জীবন নয় বরং জীবনের জন্য শরীর। তুমি তো কবেই মারা গেছ। তাহলে এখন থেকে যা করবে তা তোমার জন্য বোনাস। তুমি হয়তোবা ‘চালস ডিকেন্স’ বা শেক্সপিয়ার হতে পারবে না।কিন্তু তুমি তোমার সময়কালের সেরা একজন হতে পার।তুমি ও রচনা করতে পার তোমার সময়কাল নিয়ে আধশতাব্দী।
– নিজের কাজকে ভালোবাসুন। আমাদের কাজের পিছনে যখন অনুভুতি কাজ করে আমরা তখনই সবচেয়ে সেরা হয়ে উঠি।
– নিজের ইচ্ছাকে রোজ কাজে লাগান। যতবার পারেন চেষ্টা করুন। কঠিন কোন কাজের চেষ্টা করুন। যে কাজ করতে আপনার আদৌ কোন ইচ্ছে নেই। ‘সুখকে’ একবার ফিরিয়ে দিন। সুখকে অন্তত একবারের মত ত্যাগ করুন। এটাই হলো ইচ্ছা সমন্বিত কাজের পথ, নিয়মিত কাজের পথ, সৎ উদ্দেশ্যে প্রনোদিত কাজের পথ।

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ,চাকরি এবং বিজনেস  নিউজ ,টিপস ও তথ্য নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বাংলার জব  এ ।