ফ্রিল্যান্সিং,আউটসোর্সিং , ওয়েব ডিজাইনিং

ফ্রীল্যান্সিং কি?
ইংরেজি সংজ্ঞাঃ

A freelancer, freelance worker, or freelance is somebody who is self-employed and is not committed to a particular employer long term. These workers are often represented by a company or an agency that resells their labor and that of others to its clients with or without project management and labor contributed by its regular employees.

সাধারন বাংলায় “একজন ফ্রীল্যান্সার এমন একধরনের কর্মী যিনি কোন একজন নির্দিষ্ট ব্যাক্তি কিংবা কোম্পানীর কাছে দীর্ঘদিন চুক্তিবদ্ধ থাকে না এবং সে স্বনির্ভর।সে তার একজন ক্ল্যায়েন্টের জন্য একটা জিনিস প্রস্তুত করে কিন্তু লম্বা সময় ধরে সেটার পরিচালনার কাজে থাকেনা”।

ধারনা টা পাওয়া যাচ্ছে যে একজন ফ্রীল্যান্সার কে এবং কি।

বাংলাদেশে ফ্রীল্যান্সাররা সাধারনত বড় অনলাইন ফ্রীল্যান্সিং নেটওয়ার্কে কাজ করে থাকেন।বাংলাদেশে ফ্রীল্যান্সিং এ যেসব কাজ সাধারনত আসেঃ

১.ওয়েব ডিজাইনিং[ আপনাকে বায়ারের জন্য একটি ওয়েব লেয়াউট বানাতে হবে]
২.ওয়েব ডেভলপমেন্ট[ আপনাকে বায়ারের জণ্য একটি ডায়নামিক ওয়েবসাইট কিংবা ওয়েব এ্যাপ্লিকেশন বানাতে হবে]
৩.গ্রাফিক্স ডিজাইন[ আপনাকে বায়ারের জন্য লোগো,পোষ্টার,কার্টুন কিংবা ফেশিয়াল ক্যারেক্টর ডিজাইন করতে হবে]
৪.আর্টিকেল রাইটিং[ আপনাকে বায়ারের জন্য কোন নির্দিষ্ট কিংবা অনেকগুলো র‍্যান্ডম টপিকের ওপর আর্টিকেল লিখতে হবে,অনুবাদ করতে হবে,ভাষান্তর করতে হবে,শুদ্ধিকরণ করতে হবে কিংবা কপি করতে হবে]
৫.অ্যানিমেশন [আপনাকে বায়ারের জন্য ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশন বানাতে হবে যার মধ্যে আছে ব্যানার,ফ্ল্যাশ বাটন,ফ্ল্যাশ-অ্যাকশন স্ক্রিপ্ট এ্যাপ্লিকেশন কিংবা একটা পুরো ফ্ল্যাশ সাইট]

সাধারনত এই সব কাজ বাংলাদেশে বেশি আসে।এই কাজ গুলোর মধ্যে নানা রকম বিভাগ আছে।আসুন ধাপে ধাপে দেখি।

ওয়েব ডিজাইনিং

এই সেক্টরে সাধারনত একটা সাইটের ব্যাসিক লেয়াউট তৈরী করতে হয়।সেখানে আপনাকে একটা টেমপ্লেট থেকে শুরু করে গোটা একটা সাইট বানাতে হবে।কিংবা একই অথবা ভিন্ন ডিজাইন এর একাধিক পেজ বানাতে হবে।

দরকারী প্রোগ্রামিং: HTML,CSS,JavaScript
সাইটকে ইন্টার অ্যাকটিভ করতে দরকারঃ jQuery,prototype,mootools এই ধরনের javascript লাইব্রেরী গুলো।

এগুলো শেখার লিঙ্ক গুলোও দিয়ে দিচ্ছি একে একেঃ
HTML Learning
CSS learning 
javaScript Learning
এগুলো সাধারন কাজে লাগবে।আপনার ওয়েব পেজ কে আরো সুন্দর এবং ইন্টার অ্যাকটিভ করার জন্য দরকার হবে জাভাস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরী গুলোর।চলুন সেটাও শিখে আসি।

jQuery শেখার জণ্য এই সাইট টা খুব ভালো। এখানে একদম অ্যামেচার থেকে প্রফেশনাল লেভেল পর্যন্ত টিউটোরিয়াল দেয়া আছে।
ProtoType এর জন্য তেমন ভালো কোন সাইট আমি পাইনি।যা আছে সব হ য ব র ল অবস্থা।আমি এটা খুব একটা ব্যবহার করি না।[আসলে তেমন একটা জানি না,ব্যবহার করবো কেমনে?]
Mootools এর বেশ কিছু ভালো টিউটোরিয়াল আছে এখানে ।আর শুরু থেকে শেখার জণ্য এখানে

এই সাইট টা তেও চোখ বুলিয়ে আসতে পারেন।jQuery বনাম Mootools এর কম্পেয়ার করে সাইট টা বানানো।অনেক কাজের জিনিস পাবেন এখানে।

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট 

এই সেক্টর এ বাংলাদেশে সাধারনত তিন ধরনের কাজ আসে।
১. CMS[Content management system] ডিজাইন,কাষ্টোমাইজেশন,এক্সটেনশন ডিজাইন এবং থিম ডেভেলপমেন্ট
২. ই-কমার্স সাইট ডিজাইন[CMS দিয়েও করতে বলে অনেকে] সাথে পেপাল,এলার্টপে এবং মানি বুকার্স এ পি আই ইন্টিগ্রেশন।
৩. ডায়নামিক সাইট/কন্টেন্ট ডিজাইন[সোজা বাংলায় PHP-MySQL এ্যাপ্লিকেশন]

CMS[Content management system]
এই ক্ষেত্রে রাজত্ব করে দুইজন।জুমলা এবং ওয়ার্ডপ্রেস।এই দুটোর যে কোন একটাতে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে যদি ওয়েব ডেভলপমেন্ট সেকশন এ কাজ করতে চান।

জুমলা সাধারনত ডায়নামিক সাইট ডিজাইন এ ব্যবহার হয়।এটার ব্যবহার খুবই সহজ।এটার থিম মার্কেট ও বেশ ভালো।এটার ব্যবহার,ডাউনলোড এবং যাবতীয় এক্সটেনশন এখানে পাবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস কে বলা হয় ব্লগ কিংডম এর সম্রাট।পৃথিবীর বেশির ভাগ ব্লগ সাইট চলে ওয়ার্ডপ্রেস এ।বলা বাহুল্য এটার মার্কেট ও অনেক চাঙ্গা।এটার থিম মার্কেট সবচেয়ে বেশি ষ্টং।পাশাপাশি ওয়ার্ডপ্রেস জুমলার তুলনায় নিরাপদ,সহজে ব্যবহার যোগ্য এবং সাইজে ছোট। এর জন্মকুন্ডলী পাবেন এখানে। 

এদের বাহিরে ড্রুপাল,এক্সপুজ সহ আরো বেশ কয়েকটী আছে।তবে মার্কেট এক চেটিয়া ভাবে দখলে রেখেছে উপররে দুইটা।

ডায়নামিক সাইট,কন্টেন্ট

এই সেক্টর এর কাজ অনেক।তবে আপনাকে প্রথমে জানতে হবে PHP এবং SQL ল্যাংগুয়েজ সম্পর্কে। সাধারনত পি এইচ পির জন্য MySQL ডাটাবেজ ব্যবহার হয়,এ জন্য আপনাকে এই দুইটার কোডিং সম্প্ররকে জানলে হবে না,সেই সাথে কিভাবে কাজ করে এবং কিভাবে এটা ডাটা প্রসেস কর সেটাও জানতে হবে।
PHP learning and Details
MySQL Learning And Details

এখানে আপনাকে পুরো একটা সাইট ডিজাইন করতে হতে পারে যার তথ্য গুলো ডাটাবেজে থাকবে।পি এইচ পির মাধ্যমে সেটাকে কল করতে হবে এবং ব্রাউজারে প্রদর্শন করতে হবে।অথবা আপনাকে সাইটের কোণ একটা ছোট্ট অংশ ডিজাইন করতে হবে।যেমন অর্ডার প্রসেসিং,ফিডব্যাক প্রসেসিং কিংবা ফর্ম প্রসেসিং।আরো অনেক কিছু।এটা আগে থেকে বলে নেই যে ওয়েব ডেভলপমেট এর যে কোন সেকশন এ কাজ করতে আপনাকে PHP-MySQL প্রোগ্রামিং এবং ইন্টিগ্রেশন সম্পর্কে জানতে হবে।সেটা সি এম এস ই হোক আর ই কমার্স ই হোক।

ই-কমার্স

এই ক্ষেত্রে সাধারনত অনলাইন বেচা কেনার কাজ বোঝানো হয়,একটা সাইট যেখান থেকে অনলাইনে অর্ডার করা যাবে এবং অনলাইনে কিংবা অফলাইনে পেমেন্ট করা যাবে।অনলাইন পেমেন্ট থাকলে সে ক্ষেতে পেপাল,এলার্টপে কিংবা মানি বুকার্সের এ পি আই এর ব্যবহার জানতে হবে।

এই টাইপের সাইট আপনি PHP-MySQL ব্যবহার করে নিজেও বানাতে পারেন।আবার যে কোন সি এম এস ব্যবহার করতে পারেন।এই সেক্টর এ ম্যাগিনটো,ও এস কমার্স এবং যেন কার্ট এর ভালো মার্কেট রয়েছে।
OS COMMERCE
ZEN CART
Magento

উপরে যে সেক্টর গুলো সম্পর্কে লিখলাম সেগুলো সম্পর্কে আমার [মোটামুটি/বেশ/হালকা পাতলা/অল্প সল্প] জ্ঞান আছে। বাকি সেক্টর গুলোর ওপর নাই।

এতক্ষন বর্ননা করলাম ফ্রীল্যান্সিং এ কি কি ধরনের কাজ আছে এবং সেগুলো কিভাবে শেখা যায়।এবার আসবো ফ্রীল্যান্সিং কিভাবে করা যায়।
http://www.odesk.com
http://www.freelancer.com
http://www.elance.com
http://www.guru.com
http://www.vworker.com
http://www.scriptlance.com
http://www.getacoder.com
ঊপরের সাইট গুলো সব গুলোই ফ্রী ল্যান্সার নেটওয়ার্ক,এর মধ্যে আমার ব্যাক্তিগত পছব্দ http://www.freelancer.com এবং http://www.odesk.com । এদের কাজের রেঞ্জ বেশি,ঝামেলা কম।

এর মধ্যে যে সাইট টীতে আপনার রেজিষ্ট্রেশন করতে ইচ্ছে করবে সেখানে রেজিষ্ট্রেশন করুন।আপনি কি কি কাজ পারেন সেই ক্রাইটেরিয়া গুলো সিলেক্ট করুন।আপনি যে সব অপশন সিলেক্ট করবেন তার ভিত্তিতে আপনাকে কাজের লিষ্ট দেখাবে।এর পর আপনি কাজের ক্যাটাগরী অনুযায়ী কাজ ব্রাউজ করে যেটা পারবেন বলে মনে হয় সেটাতে বিড করুন। freelancer.com এ মাসে ৫০ টা বিড করার সুযোগ থাকে। odesk.com e কিছু টেষ্ট পাস করার আগে ২ টা বিড করার সুযোগ থাকে।টেষ্ট পাস করার পর বিডের লিমিটেশন বাড়ানো হয়।

আজ শুধু ব্যাসিক টা লিখলাম।এর পর freelancer.com নিয়ে লিখবো।ফ্রীল্যান্সিং করতে গেলে কিছু জিনিস অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

-আপনাকে ইংরেজি তে যথেষ্ট ভালো হতে হবে।প্রয়োজনে আপনাকে ক্ল্যায়েণ্টের সাথে ভয়েস চ্যাট ও করতে হতে পারে।তাই ইংরেজি স্কিল খুব জরুরী।নিখুঁত ইংরেজি লিখতে ও বলতে পারা আপনার কাজ পাওয়াকে অনেক সহজ করে দেবে।
-আপনি যে কাজ পারবেন না সেটা কখনোই বিড করবেন না।পরে কাজ না হলে আপনার রেপুটেশন খারাপ হবে।যে সব কাজ আপনি সন্দিহান যে পারবেন কিনা,সেটা দেখে শুনে বিড করুন।
-যে কাজ টা পাবেন আগে সেটা ভালো ভাবে বুঝে নিন।প্রয়োজনে ক্ল্যায়েন্টের সাথে বিস্তারিত কথা বলুন।অনেক সময় কাজের বিবরন দেখে যেমন মনে হয় কাজ করতে গেলে দেখা যায় তা নয়।আমি একবার একটা কাজ পেয়েছিলাম একটা ডায়নামিক ফর্ম বানাতে হবে যেখানে সবার যাবতীয় ডিটেইলস থাকবে।কাজ এ হাত দেয়ার পর ক্লায়েন্ট বলে দেশ বিভেদে ফর্ম আলাদা হবে।উদাহরন সরূপ ইউ এস এর জন্য সোশ্যাল সিকিউরিট নম্বর এর ফিল্ড থাকবে এবং ইন্ডিয়ার জন্য আই কার্ড নম্বর[এটা কাজে ছিলো না,উদাহরন দিলাম]।,শুনে তো আমার মাথায় হাত।
-যথা সম্ভব চেষ্টা করুন সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে।এতে আপনার রেপুটেশন বাড়বে।আর বিড করার সময় আপনি যে সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবেন সেই সময় ই উল্লেখ করুন।অযথা কম বা বেশি সময় দেবেন না
-যে কোন কাজ শেষ করার পর কয়েক দফা রিভিউ করুন।ওয়েব ডিজাইন সেকশন এর কাজ হলে যতো গুলো ব্রাউজারে সম্ভব টেষ্ট করুন।দেখুন সব গুলোতে ঠিক দেখাচ্ছে কিনা।
-কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্লায়েন্টের সাথে ভালো যোগাযোগ রাখুন।বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট যদি আপনার কাজে খুশি হয়,ভবিষৎ এ সেই আপনাকে আরো কাজ এনে দেবে,নিজের বা অন্যের।আমি আমার এক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ছোট ছোট অনেক গুলো কাজ পেয়েছিলাম।
-পেমেন্টের ব্যাপারে আগে থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।কিভাবে পেমেন্ট নেবেন সে প্রসেস ঠিক করে নিন।আর বিড করার সময় আপনার যতো $ হলে আপনি কাজ টি করতে পারবেন সেটার নিচে বিড করবেন না।পরে কাজের সময় নিজে থেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।তাই আপনার চাহিদার সাথে কাজের সমন্বয় করুন।
-আপনার ব্যাপারে কোন ভূল তথ্য ক্লায়েন্ট কে দেবেন না।যতোটা সম্ভব সৎ থাকার চেষ্টা করুন।যদি কোন কাজ না পারেন,ক্লায়েন্ট কে সরাসরি জানিয়ে দিন।

লেখকঃ  asas xcxc

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ,চাকরি এবং বিজনেস  নিউজ ,টিপস ও তথ্য নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বাংলার জব  এ ।