শিক্ষা ব্যবস্থা

বিশ্বশিক্ষক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি বাকশিস চট্টগ্রাম জেলা শাখা আয়োজত শিক্ষক সংবর্ধনা আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. অনুপম সেন প্রধান অতিখির  বক্তব্যে বলেন, একজন শিক্ষক চির জীবন শিক্ষকই থাকেন। অপরাপর পেশার ক্ষেত্রে হয়তো ছেদ পড়ে। কিন্তু একজন শিক্ষকের ক্ষেত্রে তা ঘটে না। শিক্ষা এবং শিক্ষক আমাদের সংবিধানের অংশ। শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। এটি আমাদের সংবিধান স্বীকৃত। কিন্তু সমাজ বাস্তাবতায় আমাদের শিক্ষা অনেক পিছিয়ে। শিক্ষকদের ন্যায্য মর্যাদা আজো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আমাদের সংবিধান অনুসারে সমাজতন্ত্র স্বীকৃত। সমাজতন্ত্র অনুসারে প্রত্যেক শিশুরই শিক্ষার অধিকার প্রাপ্য। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো অনেক পথ শিশু শিক্ষার আলো ছাড়াই পথে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা সকলেই যদি সুশিক্ষা পেতো তাহলে দেশ জাতি আরো উন্নত হতো। সব শিশুর মধ্যেই প্রতিভা লুক্কায়িত। তাদের প্রতিভা বিকাশে রাষ্ট্রের কিছু করণীয় আছে। প্রাচীন গ্রিসে প্লেটো একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের শিক্ষার আন্দোলন পুরো ইউরোপকে আলোকিত করেছে। তাদের রাষ্ট্র সমূহকে সমৃদ্ধ করেছে। আমাদেরকে সেই ইতিহাস মাথায় রেখে সবার জন্য বিজ্ঞান ভিত্তিক সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল শিক্ষকই শিক্ষক অভিধায় অভিষিক্ত। এখানে বড় ছোট ভেদাভেদ নেই। শিক্ষকদের মূল্যায়ণ ও মর্যাদা প্রদান করতে হবে। কারণ মাতা পিতার পরেই শিক্ষকদের স্থান। একমাত্র শিক্ষার মাধ্যমেই জাপান উন্নতি লাভ করেছে। তারা ইউরোপিয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিজের দেশে নিয়ে এসেছিল তাদের মাতৃভাষায়। চীন কোরিয়া প্রভৃতি দেশ একমাত্র শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমেই উন্নতি লাভ করেছে। তাই বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কলেজ পর্যন্ত শিক্ষাকে জাতীয়করণ করতে হবে। তা না হলে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। ক্যানাডায় স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনের তারতম্য খুবই কম। আমাদেরকে এ বিষয়ে অবশ্যই নজর দিতে হবে।
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি- বাকশিস চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ দবিরউদ্দীন  খানের সভাপতিত্বে গতকাল ৫ অক্টোবর ২০১৬ থিয়েটার ইন্সিটিউট চট্টগ্রাম এ বিকেল ৫টায় অধ্যাপক সনজীব বড়ুয়া, অধ্যাপক তাসকিয়াতুন নুর তানিয়া এবং কৃষ্ণা দাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষক সংবর্ধনা, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাকশিস চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য অধ্যাপক আবু তাহের চৌধুরী।
দুই পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের শিক্ষক সংবর্ধনা ও আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. অনুপম সেন সংবর্ধিত শিক্ষক নেতৃবৃন্দকে সম্মাননা ক্রেষ্ট প্রদান করেন এবং বাকশিস নেতৃবৃন্দ তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। সংবর্ধিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে কবি ও মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ফাউজুল কবির, উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, অধ্যাপক আবদুল আলী, অধ্যাপক মিলন কান্তি রায় চৌধুরী, অধ্যাপক ইসহাক উদ্দীন চৌধুরী ও অধ্যাপক সুচিত্রা চৌধুরী সম্মাননার প্রেক্ষিতে তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
সংবর্ধিত শিক্ষক নেতৃবৃন্দের জীবন ও কর্ম পাঠ করেছেন অধ্যাপক শিব প্রসাদ, অধ্যাপক আবু জাফর সিদ্দিকী, অধ্যাপক এস, এম রাশেদ, অধ্যাপক বিকিরণ বড়ুয়া, অধ্যাপক জীবন কৃষ্ণ বণিক ও অধ্যাপক আয়েশা পারভিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাকশিস সাংস্কৃতিক ফোরাম এর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান ও আবৃত্তি করেন অধ্যাপক পিন্টু ঘোষ, অধ্যাপক পুলিন বিহারী নাথ, অধ্যাপক সুপর্ণা রায় চৌধুরী, অধ্যাপক প্রণব বড়ুয়া, অধ্যাপক রাশেদা খানম, অধ্যাপক সুচিত্রা চৌধুরী, অধ্যাপক কুমকুম বড়ুয়া, অধ্যাপক কৃষ্ণা দাশ, অধ্যাপক ইন্দিরা চৌধুরী, অধ্যক্ষ তাসকিয়াতুন নুর তানিয়া, অধ্যাপক শিউলী বড়ুয়া, অধ্যাপক নীলিমা দাশ, অধ্যাপক কণিকা চক্রবর্ত্তী, অধ্যাপক চিত্রা বড়ুয়া, অধ্যাপক জয়া দত্ত, অধ্যাপক সৃষ্টি বড়ুয়া ও অধ্যাপক চম্পা দাশ প্রমুখ।

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ,চাকরি এবং বিজনেস  নিউজ ,টিপস ও তথ্য নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বাংলার জব  এ ।