বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি

আজ (২৪ জুলাই ২০১৬) রোববার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি (বিইউ) অডিটোরিয়ামে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তি সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রুখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোধ করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জঙ্গি, সন্ত্রাসীরা পবিত্র রমজানের মধ্যে গুলশান আর্টিজান রেস্তোঁরা ও শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে হামলার চেষ্টা করেছে। হামলাকারীদের মিস গাইড করে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গি বানানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার স্থান। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিভাবে গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীর মত যুদ্ধাপরাধীদের ছেলেরা শিক্ষকতার সুযোগ পায় সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জবাব দিতে পারেনি। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞানী তৈরি না হয়ে কিভাবে জঙ্গি তৈরি হয় তারও জবাব দিতে পারেনি। জঙ্গিবাদ এখন গণমানুষের দুশমন। দ্বিতীয়বার যেন আর্টিজান রেস্তোঁরার মতো হামলা না হয় সেজন্য সকলকে একেকজন পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে, বাড়াতে হবে নজরদারি।

স্বাগত বক্তব্যে বিইউ’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজ চেয়ারম্যান জনাব কাজী জামিল আজহার বলেন, জঙ্গি হামলার পর বিইউ’র শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ সবার মধ্যে সচেতনতা এসেছে। আমরা উচ্চশিক্ষা ও মানুষ গড়ার পক্ষে আর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গিবাদ রুখতে আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি।

বিইউ’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সদস্য জনাব স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, শুধু নজরদারি নয় ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসার বন্ধন সুদৃঢ় করলে জঙ্গি নয় সোনার মানুষ বের হবে।

তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার জনাব বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, একটি কুচক্রী মহল হতাশাগ্রস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জঙ্গিবাদে উদ্ধুদ্ধ করছে। আমরা জঙ্গিবাদের মাজা ভেঙ্গে দিয়েছি। পুলিশ দিয়ে জঙ্গিবাদ নির্মূল সম্ভব নয়, সবাই জঙ্গি নির্মূলে এগিয়ে আসতে হবে।

ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বিইউ’র ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম রহমান বলেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদকে আমরা কখনো প্রশ্রয় দেয়নি, দেবও না। আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলব।

মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদপুর জোনের সিনিয়র উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার জনাব হাফিজ আল ফারুক, মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মো. জামাল উদ্দিন, ৩৩ নং ওয়ার্ড কমিশনার জনাব তারিকুজ্জামান রাজিব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।