ক্যারিয়ার টিপস

‘ক্যারিয়ার’ শব্দটি একজন শিক্ষার্থীর জীবনের মূল্যবান কিছু জিনিসের মধ্যে অন্যতম। গ্রাজুয়েশনের শেষ পর্যায়ে এসে অধিকাংশই শিক্ষার্থীই ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিজস্ব ক্যারিয়ার নির্ধারন করার জন্য। কিন্তু ক্যারিয়ার আসলে কি? আর কখন থেকেই বা এর ভাবনা করা উচিত? নিজস্ব ক্যারিয়ারে সফলতা আনা যায় বা কি করে? চলুন জেনে নেয়া যাক কিছু সফল ব্যাক্তির মতামত।

আমরা অধিকাংশ মানুষই ক্যারিয়ারকে জবের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করি। তবে শব্দ দু’টি আসলেই ভিন্ন। সহজ ভাষায় জব হল পেশা। অর্থাৎ, অর্থের জন্য নৈমত্তিকভাবে কোন কাজ করা। আর ক্যারিয়ার হল আপনার লাইফলঙ অ্যামবিশন।

বাংলায় প্রচলিত একটি প্রবাদ হল- সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়। ক্যারিয়ার ভাবনা গ্রাজুয়েশনের পর নয়, বরং তার অনেক আগেই করা উচিত। জীবনকে একটি চলন্ত রেলগাড়ির সাথে তুলনা করা যায়। আপনার গন্তব্যস্থল ঠিক থাকলেই আপনি প্রতিটি স্টেশন থেকে কিছু না কিছু অর্জন করতে পারবেন। অন্যথায়, আপনার রেলগাড়ি যখন তার শেষ স্টেশনে চলে আসবে তখন আপনি আপনার লক্ষ্যে আর পৌছাতে পারবেন না।

পৃথিবীতে মানুষ তার উন্নতি অবন্নতির ব্যাপার নিয়েই সে সবচেয়ে বেশি সতর্ক। সেটা অর্থনৈতিক, সমাজিক বা পারিবারিক যাই হোক না কেন! সুতরাং, ক্যারিয়ারে সফলতার ব্যাপারগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে আমাদের মনে রাখা উচিত সফলতা কোন নির্দিষ্ট ছক ধরে আসে না।

উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের দাবি, অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য আপনার কোন ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। কেননা তদের গবেষণা অনুযায়ী আমেরিকার ৪০০ শীর্ষ ধনী ব্যক্তির মধ্যে ৬৩ জনেরই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেই, যা প্রায় ১৫ শতাংশ।

তবে এক্ষেত্রে কিছু বিষয় মেনে চললে তা সফল জীবনে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ফোর্বস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ৪জন বিলিয়নিয়ারের কিছু টিপস তুলে ধরা হল-

১. শন পার্কার (ফেসবুক)

মোট সম্পদের পরিমানঃ ২.১ বিলিয়ন ডলার

SKIP COLLEGE; GOOGLE YOUR EDUCATION

***When these incredible tools of knowledge and learning are available to the whole world, formal education becomes less and less important.

ব্যাপারটা অনেকটা এই রকম- পুথিগত বিদ্যা আর পরহস্তে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন। অর্থাৎ, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা মূল্যহীন যদি তা বাস্তবে কাজে না আসে। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে, লেকচার হল থেকে নয়! আর শিক্ষাকে বাস্তবমুখী করার জন্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে।

২. ডাস্টিন মস্কোভিচ (ফেসবুক)

মোট সম্পদের পরিমানঃ ৩.৫ বিলিয়ন ডলার

YOU CAN ALWAYS GO BACK

***I could have gone back to Harvard anytime. My friends might not be there anymore. I might have to start over socially. That was a risk. But it was a pretty small risk compared to the opportunity at the time.

অর্থাৎ, আপনাকে অবশ্যই ঝুঁকি গ্রহণ করতে হবে। আপনি যেই ক্যারিয়ারই নির্ধারণ করুন না কেন, তাতে কিছু না কিছু ঝুঁকি অবশ্যই থাকবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে কিছুটা সচেতন হতে হবে। জলের গভীরতা এক পা ডুবিয়ে পরিমাপ করতে হয়, দুই পা নয়! সুতরাং ঝুঁকি ও রিটার্নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে।

৩. ফিল রাফিন (ট্রেজার আইল্যান্ড ক্যাসিনো)

মোট সম্পদের পরিমানঃ ২.৪ বিলিয়ন ডলার

LOOK OUT FOR NO. 1

***The advice I would give to young people? Quit your job. Don’t work for anybody. You really can’t make any money working for someone else.

অর্থাৎ, আপনাকেই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অন্যের দ্বারা চালিত না হয়ে নিজে চালনা করুন। জব না, ক্যারিয়ার নির্ধারন করুন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই ব্যাপারটি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত। সামান্য বেতনে চাকরি করার চেয়ে যারা নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠা করছে তারাই এখন অধিকতর সফল।

৪. জন পল দেজোরিয়া (পল মিশেল সিস্টেমস)

মোট সম্পদের পরিমানঃ ৪ বিলিয়ন ডলার

GET THICK-SKINNED

***I learned sales and marketing from knocking on a hundred doors a day. You quickly discover that you’ll get 99 slammed in your face before you make a sale

সাহিত্যের ভাষায় বলতে গেলে- পার কি না পার কর যতন আবার/ একবার না পারিলে, দেখ শতবার। অর্থাৎ, আপনাকে হতে হবে রবার্ট ব্রুসের মতো মানুষ। অদম্য চেষ্টা আর ধৈর্য নিয়ে আপনাকে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে- আপনি ব্যর্থ হতেই পারেন কিন্তু তাই বলে হাল ছাড়া যাবে না। আপনার ব্যর্থতাকেই সফলতার চাবিকাঠিতে রূপান্তর করতে হবে। এক্ষেত্রে যে যত দ্রুত ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবেন, তিনিই তত দ্রুত সফলতার মুখ দেখতে পারবেন।

লিখেছেনঃ তানভীর আহমদ

বিঃ দ্রঃ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ,চাকরি এবং বিজনেস  নিউজ ,টিপস ও তথ্য নিয়মিত আপনার ফেসবুক টাইমলাইনে পেতে লাইক দিন আমাদের ফ্যান পেজ বাংলার জব  এ ।