মানুষ কত প্রকার
পরম করূণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু।
সকল প্রশংসা জগত সমূহের প্রতিপালক আল্লাহতায়ালার।

মানুষ কত প্রকার ও কী কী ?

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন যথা ১। মুমিন ২। মোনাফেক ৩। কাফের
(মোশরেকরা কাফেরের অন্তর্ভুক্ত সুরা বায়্যিনা ৬ নং আয়াত) এই জন্য আল্লাহ
তায়ালা তিন নামে তিনটা সূরা নাযিল করেছেন ১।সূরা আল মুমিনুন ২। সূরা আল
মোনাফিকুন ৩। সূরা আল কাফিরুন।

*মুমিনঃ মুমিন দুই প্রকার -মুহসেন ও মুমিন ,যারা বিনা আযাবে জান্নাতে যাবে তাদেরকে বলা হয় মুহসেন
মুহসেনিন আর যারা প্রথমে আযাব ভোগ করে জান্নাতে যাবে তারা হলো
মুমিন।

*মোনাফেকঃ মোনাফেক দুই প্রকার ফাসেক মোনাফেক ও কাফের মোনাফেক। ফাসেক মোনাফেক আযাব ভোগ করে জান্নাতে যাবে আর কাফের মোনাফেক চিরস্হায়ী জাহান্নামে থাকবে

*কাফেরঃ কাফের দুই প্রকার কাফের ও মোশরেক।যারা কুফর করবে তারা কাফের আর যারা শিরক করবে তারা মোশরেক। কাফের মোশরেক
চিরস্হায়ী জাহান্নামে থাকবে।

মোনাফেক আর কাফের এর মধ্যে পার্থক্য কী ?

মোনাফেক আর কাফের এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য আছে। কাফের হচ্ছে তারা যাদের
অন্তরে কোন ঈমান নাই, মানে ঈশ্বরে বিশ্বাস নাই। আর মোনাফেক হইতেছে তারা যারা
বাইরে ঈশ্বর বিশ্বাসীর ভাব দেখায় কিন্তু ভেতরে ভেতরে আসলে ঈশ্বর অবিশ্বাসী।
মোনাফেক মাত্রই কাফের, কিন্তু সব কাফের মোনাফেক নয়। মোনাফেকরা দুমুখো সাপের
মত। মোনাফেকদের ক্ষতি করার ক্ষমতা অনেক বেশি কারণ সহজে এদের ধরা যায় না, কারণ
এরা সবসময়ই মিথ্যার মুখোশ পরে থাকে, কারণ এদের বিভ্রান্ত করার ক্ষমতা ভীষণ …

মুসলমান ও মুনাফিকের মাঝে পার্থক্য কী ?

একজন মুসলমানের জীবন ও মুনাফেকের জীবন এবং জীবন পদ্ধতি এক হতে পারে না।
মুসলমান ও মুনাফেকের মাঝে বিশদ পার্থক্য রয়েছে। মুনাফেক বলা হয় যারা মুখে এক
কথা বলে কিন্তু অন্তরে অন্য কথা ও বিশ্বাস লালন করে। মুনাফেকদের কথা ও কাজে
কোনো মিল থাকে না। আর একজন মুনাফেকের উদ্দেশ্য কেবলই দুনিয়া। আখেরাতের প্রতি
তার কোনো বিশ্বাস ও ভরসা নেই। আর মুসলমান বলা হয়, আল্লাহ তায়ালার একান্ত অনুগত
বান্দাকে। একজন মুসলমানের জীবনের উদ্দেশ্য দুনিয়া এবং আখেরাত উভয়টাই।

একজন মুসলমান আখেরাতকে প্রাধান্য দেয় এবং দুনিয়ায় ভালো থাকার জন্য সৎ ও হালাল
পথে জীবনযাপনের চেষ্টা করে। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরানে ইরশাদ করেছেন,
মুনাফেকের জন্য রয়েছে জাহান্নামের সর্বনিু স্থান। নবিজি [সা.] মুনাফেকের আলামত
বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, মুনাফেকের আলামত তিনটি। এক. যখন সে কথা বলে মিথ্যা
বলে। দুই. ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতি দিলে তা ভঙ্গ করে। তিন. কোনো কিছু আমানত রাখলে
খেয়ানত করে। একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের সবার ইমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো
নিজের নামটা যেন কোনোভাবেই মুনাফেকের তালিকাভুক্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।
কারণ আমার নাম যদি মুনাফেকের তালিকাভুক্ত হয়, জাহান্নাম আমার জন্য ওয়াজিব হয়ে
যাবে। তাই জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য মুনাফেকের আলামত-আমল ত্যাগ করতে
হবে। জীবনের প্রতিটি কাজে, প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনোভাবেই
মুনাফেকের কোনো আলামত নিজের মাঝে না আসে।
……………………..
জেনে নিন আপনার মধ্যে হাদিসে বর্ণিত মুনাফিকের চারটি অভ্যাসের কোনটি বিদ্যমান আছে কিনা যাতে আপনি নিজেকে সংশোধন করতে পারেন –

“যার মধ্যে চারটি অভ্যাস বিদ্যমান সে খাঁটি মোনাফেক”

আব্দুল্লাহ্ বিন আমর বিন ‘আস (রা) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন:
“যার মধ্যে চারটি অভ্যাস বিদ্যমান সে খাঁটি মোনাফেক। আর যার মধ্যে এগুলোর একটি
অভ্যাস থাকে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মোনাফেকীর একটি স্বভাব থাকে।
(১) তার কাছে আমানত রাখা হলে সে তার খেয়ানত করে
(২) কথা বললে মিথ্যা বলে
(৩) চুক্তি করলে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং
(৪) ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে।
-”বুখারী: ৩৪,মুসলিম: ৫৮