মুর্শিদাবাদ
মুর্শিদাবাদ জেলা

নাম তার মুর্শিদাবাদ। পূর্বে নাম ছিল মুকসুদাবাদ। ১৭০৫ খৃস্টাব্দে মুর্শিদাবাদ সুবে বাংলার তথা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজধানীর মর্যাদা পায়। মুর্শিদাকূলি খান ঢাকা থেকে রাজধানী মুর্শিদাবাদে নিয়ে যান। তার নামানুসারেই মুকসুদাবাদের নাম হলো মুর্শিদবাদ। তার তৈরি কাটরা মসজিদ এখনও বর্তমান। আলীবর্দী খান ১৭৪০ সালে বাংলার মসনদে বসলেন। তার সময়ে লন্ডন শহরের চেয়েও মুর্শিদাবাদের আয়তন বড় ছিল এবং লোকসংখ্যাও বেশি ছিল বলে ঐতিহাসিকগণ মতপ্রকাশ করেছেন। ১৭৪৫ সালে নবাব আলীবর্দী খানের নাতি সিরাজ ও ইকরামউদ্দৌলার বিয়ে হয়। কিন্তু সিরাজের মেজভাই ইকরামউদ্দৌলার বিয়ে আগে সম্পন্ন হয়। আলীবর্দী খানের জীবদ্দশায় সিরাজদ্দৌলা নানাকে দিয়ে মতিঝিলের প্রাসাদের চেয়েও সুন্দর করে জাফরাগঞ্জ প্রাসাদের অদূরে হীরাঝিল প্রাসাদ নির্মাণ করান। হীরাঝিল অর্থ হীরার জলাশয়। এখানেই সিরাজ বাস করতেন। এটা মতিঝিলের চেয়েও অনেক বড় ছিল এবং তিনজন ইউরোপীয় রাজার বসবাসযোগ্য ছিল। হীরাঝিল ছাড়াও সিরাজ আলীবর্দী কানের নিজের জন্য তৈরি মনসুরাগঞ্জ প্রাসাদেও বাস করতেন। মনসুরা প্রাসাদে নবাব আলীবর্দী খান নিজেই বসবাস করতেন। এই প্রাসাদের সংলগ্ন ছিল চেহেল সুলতান বা দরবার কক্ষ। নবাব আলীবর্দী খান প্রথম কন্যার জন্য নির্মাণ করেছিলেন মতিঝিল প্রাসাদ। মতিঝিল অর্থ মোতিপূর্ণ হ্রদ। কোন এক সময়ে ভাগীরথী নদীর গতি পরিবর্তন করে এখানে অশ্বক্ষুরাকৃতির বাওড় বা হৃদ রেখে যায়। হাজার দুয়ারির অদূরে তিনদিকে পানি পরিবেষ্টিত স্থানে বাংলার সাবেক রাজধানী গৌড় পন্ডুরা থেকে পাথর এনে বহু অর্থ ব্যয়ে এই প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে তার কোন কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। কেবলমাত্র নাওয়াজিস মোহাম্মদের নির্মিত মসজিদটি বর্তমান। মসজিদ সংলগ্ন নাওয়াজিস মোহাম্মদ ও ইকরামউদ্দৌলার কবর এখনও পথিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। নবাব আলীবর্দী খান জাফরাগঞ্জ প্রাসাদটিও নির্মাণ করেন এবং তার প্রিয়তম ভাগ্নি শাহ খানমের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখেন। বিয়ের পরেও শাহ খানম তার স্বামী মীর জাফরের সাথে এই প্রাসাদেই বসবাস করতেন। জাফরাগঞ্জ প্রাসাদের অন্দরমহলের বাগানটি শাহ খানম অন্দর বাগিচা রূপে তৈরি করান। তিনি নিজে তার পরিচর্যা করতেন। শাহ খানম নানা জাতের পশু পাখি ও জীবজন্তু পুষতেন এবং নিজ হাতে তাদের যত্ন করতেন। তার আদরের একটি বানর ও পায়রা মারা গেলে তিনি এই বাগানেই তাদের কবর দেন এবং তা পাকা করিয়ে রাখেন, তা আজও বর্তমান। পরবর্তীতে মীর জাফর, শাহ খানসহ আরও অনেকজনকেই এখানে কবর দেয়া হয় এবং বাগানটি কবরখানায় রূপান্তরিত হয়। যা আজও দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে এই জাফরাগঞ্জ প্রাসাদের একটি কক্ষে বন্দী করে রাখা হয় এবং মীরনের আদেশে নিমক হারাম মোহাম্মদী বেগ তাকে ১৭৫৭ সালের ২ জুলাই এখানেই হত্যা করে। জাফরাগঞ্জ কবরখানইটি এখনও বর্তমান আছে কিন্তু জাফরাগঞ্জ প্রাসাদের প্রধান ফটকের সামান্য অংশ ছাড়া আর কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই। আঘাতের পর আঘাত হেনে হত্যা করলো ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে। তখন তার বয়স মাত্র তেইশ বছর। পরদিন সকালে সিরাজের কাটা লাশ হাতির পিঠে চাপিয়ে রাজপথে মিছিল চললো মীরনের নেতৃত্বে। সিরাজের মাতা আমিনা বেগম রাজপথের কোলাহল শুনতে পেয়ে পর্দার অন্তরাল থেকে পাগলিনীর মতো দৌড়ে গিয়ে হাতির সামনে বসে পড়লেন। আমিনা বেগমের আকুতি দেখে হাতিও এক পা না ফেলে সেখানেই বসে পড়ল। আমিনা বেগম সিরাজের লাশ আগলে রইলেন। সিরাজের লাশ দাফন করতে করতে কেউ এগিয়ে এলো না। এগিয়ে এলেন একমাত্র মৌলভী জয়নাল আবেদীন। সিরাজের লাশ অতি তাজিমের সাথে গোসল দিয়ে নদীর ওপারে নানা আলীবর্দী খানের কবরের পাশে খোসবাগে অতি সাধারণভাবে কবর দিলেন। এদিকে মীরন সিরাজের কনিষ্ঠ মাতা নাবালক মীর্জা মেহেদীকেও হত্যা করলেন এবং সিরাজের মেজভাই ইকরামউদ্দৌলা বসন্ত রোগে মৃত্যুবরণ করেন। সিরাজের পত্নী লুৎফুন্নিসা বেগম মুর্শিদাবাদে এসে খোসবাগের একটি কামরায় কন্যাসহ বাস করতে থাকেন। রোজ সন্ধ্যায় আলীবর্দী ও সিরাজের মাজারে তিনি জ্বালাতেন মোমবাতি। এভাবেই অতি সাধারণভাবে দিন যাপনের এক পর্যায়ে ১৭৮৬ সালে তিনি ইন্তিকাল করেন। মুর্শিদাবাদে আসার পর লূৎফুন্নিসা বেগম ১৭৬৭ সালে কন্যা উম্মে জোহরা ওরফে কুদসিয়া বেগমকে চৌদ্দ বছর বয়সে সিরাজের ভাই ইকরামউদ্দৌলার পুত্র মুরাদউদ্দৌলার সাথে বিয়ে দেন। মুরাদউদ্দৌলাও নবাব পরিবারে অতি আদর যত্নে পালিত হয়। বিশেষ করে বসন্ত রোগে ইকরামউদ্দৌলার মৃত্যুর চার মাস পরে জন্ম হওয়ায় তাকে সবাই ২য় ইকরামউদ্দৌলা বলতো। নবাব আলীবর্দী খান ইকরামউদ্দৌলাকে ঢাকার নবাব বলে ঘোষণা করেছিলেন। দুই ভাইয়ের ছেলে মেয়েতে বিয়ে হওয়াতে সিরাজউদ্দৌলা বংশের বাতি জ্বলতে থাকল, যা আজও বর্তমান।

সিরাজ বাংলার মসনদে আসীন ছিলেন মাত্র ১৪ মাস। কিন্তু এই স্বল্প সময়ে ভারত তথা বিশ্বের ইতিহাসে খ্যাত হয়ে রইলেন। সিরাজ হত্যাকারীরা মানুষের হাত থেকে রেহাই পেলেও আল্লাহর বিচারে রেহাই পেলেন না। যার দরুন প্রত্যেকটি ষড়যন্ত্রকারীদের মৃত্যু হয়েছে খুবই করুণ।

মুর্শিদাবাদ ভ্রমণে দেখে আসতে পারেন, অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক ও অসাধারণ তেজস্বী নবাব সিরাজউদ্দৌলা নাম লক্ষবার উচ্চারিত হলেও বাঙালী জাতি তাকে প্রতিদিন স্মরণ করলেও তার একমাত্র বংশধর কন্যা উম্মে জোহরার ভাগ্যে কি ঘটেছিল, তার কোন বংশধর ছিল কিনা বা থাকলেও কে কি অবস্থায় ছিলেন বা আছেন, তার কোন খোঁজ খবর প্রায় কেউ রাখেনি। নবাব সিরাজউদ্দৌলার কন্যা উম্মে জোহরার ডাকনাম কুদসিয়া, বিয়ে হয়েছিল তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে, তাদের বংশধরগণ বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদসহ বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন। তারা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বংশধর বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন বিখ্যাত হাজার দুয়ারী প্রাসাদ। ইংল্যান্ডের রাজা চতুর্থ উইলিয়ামের প্রদত্ত মডেল  অনুযায়ী বৃটিশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার ডানকান  ম্যাকলয়েড ইতালীর স্থাপত্যের অনুকরণে এই ভবনের নক্সা করেন। সাগর মিস্ত্রির তত্ত্বাবধানে এর নির্মাণকার্য সমাধান হয়। ১৮২৯ সালের ২৯ আগস্ট তারিখে হুমায়ুন ঝা এই ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এবং ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ বছরে ১৮৩০ সালে ভবন তৈরি সম্পন্ন হয়। এই প্রাসাদের দৈর্ঘ্য ৪২৫ ফুট, প্রস্থ ২০০ ফুট ও উচ্চতা ১০০ ফুট। নির্মাণকালীন একজন মিস্ত্রির মজুরি ছিল এক আনা এবং একজন জোগালীর দুই পয়সা। ভিতরের ৪টি সিঁড়ি ছাড়া বহির্ভাগে ৩৭টি সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠতে হয়। বর্তমানে একটি যাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মোগল আমল থেকে নবাবদের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্রসহ বহু প্রাচীন জিনিসপত্র এখানে রাখা আছে যা দর্শকদের কিছু সময়ের জন্য হলেও সেদিনকার নবাব বাদশাহ্ বেগমগণের কাহিনী স্মরণ করায় এবং তাদের অনেক অনেক কথা ও কাহিনী চোখের সামনে ভেসে ওঠে। আরও দেখে আসতে পারেন, ফরিদুন ঝা দ্বারা নির্মিত হাজার দুয়ারি প্রাসাদের সামনে অবস্থিত অপূর্ব সুন্দর কারুশৈল্পের সমন্বয়ে তৈরি বড় ইমামবাড়া। নবাব সিরাজউদ্দৌলা নির্মিত সুন্দর, কারুকার্য খচিত কাঠের তৈরি ইমামবাড়ায় মহররমের মূল উৎসব অনুষ্ঠিত হতো। আগুন লেগে সেটা পুড়ে যাওয়াতে বড় ইমামবাড়া তৈরি হয়। যা সারা ভারতবর্ষের মধ্যে বৃহত্তম এবং অপূর্ব সুন্দর একটি স্থাপনা। দেখতে ভুলবেন না, লাল ইমরাতের কাটরা মসজিদ, জাফরাগঞ্জ প্রাসাদ, মনসুরাগঞ্জ প্রাসাদ, মতিঝিলে নওয়াজিস মোহাম্মদের নির্মিত সুন্দর কারুকার্যের মসজিদ, হীরাঝিল প্রসাদ, রাণী ভবানীর মন্দির, খোসবাগ, ওয়াসিফ মঞ্জিল, জিঞ্জিরা প্রসাদ, বীর ভূম। মন জুড়িয়ে যাবে ভাগীরথী নদীর সৌন্দর্য চার পাশের পরিবেশ, ঘণ্টা ঘর, পুরনো সব বিশাল বিশাল লাল ইটের স্থাপনা পাথরের মূর্তি, বিশাল আকৃতির সব হনুমানদের গাছ গাছালি ও দালান কোঠায় দৌড়াদৌড়ি, কাঠবিড়ালিদের দুষ্টুমি এবং অরণ্যঘেরা পরিবেশ পরিচিতি অপরিচিতি সুন্দর সব পশু পাখির মিলনমেলা রাজকীয় এই স্থান থেকে স্মৃতি হিসেবে মনের মতো জিনিস কেনাকাটা করতে ভুলবেন না কিন্তু। নান্দনিক সব স্থাপনা দেখার জন্য বন্ধুরা মিলে ঘোড়ার গাড়িতে আনন্দ উল্লাসে ভ্রমণ করতে পারেন।

‘বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব, তোমার শেষ উপদেশ ভুলিনি জনাব, ‘বাংলা হিন্দুর নয়, বাংলা মুসলমানের নয়, বাংলা হিন্দু-মুসলমান সকলের ‘ভুল আমিও করেছি, গোলাম হোসেন,’’ গুরু গম্ভীর কণ্ঠের এসব সংলাপ বাঙালীর অতি পরিচিতি। এখনও এপার বাংলা-ওপার বাংলার শহর বন্দর গ্রামগঞ্জে যাত্রা, সিনেমা, টিভি, বেতারযন্ত্রে ভেসে আসা শক্তিমান অভিনেতা নির্মলেন্দু লাহিড়ী এবং পরে আনোয়ার হোসেনের কণ্ঠে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার আবেগময়ী আবেদন শুনে কৃষক তার লাঙ্গল থামায়, গৃহবধূ বাসন মাজা বন্ধ করে, রাখাল বালক থামিয়ে দাঁড়ায়, সিরাজের প্রতি গভীর মমত্ববোধে তাদের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে বা তারও আগে বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের কালে বহু বছর ধরে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় এবং ঐতিহাসিক বিশ্লেষণে, শচীন সেনগুপ্তের নাটকে এবং নির্মলেন্দু লাহিড়ী এবং আনোয়ার হোসেনের কণ্ঠে বাঙালী জাতি আগ্রহ ভরে শুনে আসছে তাদের নবাবের কণ্ঠের ধ্বনি প্রতিধ্বনি। বৃটিশবিরোধী আন্দোলনে বা স্বাধীনতা সংগ্রামের দিনগুলোতে বা অন্য যে কোন আন্দোলনে বাংলাদেশের লক্ষ কোটি জনতার কণ্ঠে যে নাম দু’টি আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বার উচ্চারিত হয়েছে বা এখনও হচ্ছে, সে দু’টি হলো বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা আর বিশ্বাসঘাতক মীর জাফরের।

অকৃত্রিম দেশপ্রেমিক ও অসাধারণ তেজস্বী নবাব সিরাজউদ্দৌলার নাম লক্ষবার উচ্চারিত হলেও বাঙালী জাতি তাকে প্রতিদিন স্মরণ করলেও তার একমাত্র বংশধর কন্যা উম্মে জোহরার ভাগ্যে কি ঘটেছিল, তার কোন বংশধর ছিল কিনা বা থাকলেও কে কি অবস্থায় ছিলেন বা আছেন, তার কোন খোঁজ খবর প্রায কেউ রাখেনি। নবাব সিরাজউদ্দৌলার কন্যা উম্মে জোহরার ডাকনাম কুদসিয়া, বিয়ে হয়েছিল তার চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে, তাদের বংশধরগণ বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদসহ বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন। তারা বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বংশধর ফলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অধীনে পরিচালিত বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ৮০’র দশকের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’-এর ২৫-২-১৯৮৪ ইং তারিখে প্রচারিত পর্বে দর্শকনন্দিত উপস্থাপক মরহুম ফজলে লোহানী উক্ত ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন-বাংলাদেশে বসবাসরকত নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের সদস্যদের। তাদের বিষয়ে এবার আলোচনায় আসা যাক। উক্ত নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের অন্যতম প্রধান সদস্য সৈয়দ গোলাম মোস্তফা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বাংলাদেশের একজন সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি অত্যন্ত সাহসী, সময়নিষ্ঠ, কঠোর নিয়মানুবর্তী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি জীবনে সুপরিচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি সমাজের সুখ্যাত, সুপ্রতিষ্ঠিত গণ্যমান্য-ব্যক্তিদের একজন। দরিদ্র আত্মীয়স্বজন, ভাই বোন জামাতাদের সম্পর্কের বন্ধনে রাখতে এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা ও তাদের দান খয়রাতের জন্য তার সমাজে যথেষ্ট সুনাম আছে।

বেকার মানুষদের কর্মসংস্থান ও এতিম শিশুদের কল্যাণে তিনি খুলনায় বিশাল পরিসরে মাদরাসা স্থাপন করেছেন। তাছাড়া তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সেবামূলক কাজের সাথে জড়িত। তাঁর জীবন সঙ্গিনী সৈয়দা হোসনে আরা বেগম ছিলেন মমতাময়ী, স্বল্পভাষী, অন্যের দুঃখে দুঃখী, গরীব-দুঃখীর আপন, সহজ-সরলতায় অনন্যা, সৎ, সত্যবাদী, সকলকে আপন করে রাখার গুণাবলী, সাধারণ মানের জীবন যাপনে অভ্যস্ত, গাছপালা পশু পাখির আপন আল্লাহ্তায়ালা ও তার আমলের ভক্ত সকলের আপনজন একজন সুগৃহিণী অন্যান্য নারী, দূরের আকাশের তারা হয়েও আপন রঙে আলোকিত করছেন আপনজনদের। ঐ দূরের আকাশের বাসিন্দা হয়েও নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের সকলের মনে, সাধারণ মানুষের মনে আজও তিনি ঘর বেঁধে আছেন। স্মৃতিতে অমর আছেন, অপর থাকবেন। উক্ত ঐতিহ্যবাহী সুখ্যাত নবাব পরিবারের দম্পতির চার ছেলে-মেয়ে, সৈয়দা নাজনীন, সৈয়দ গোলাম আববাসসহ অন্যরা নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত, সুপরিচিত। উক্ত সিরাজউদ্দৌলা পরিবারের সকলে স্বল্পভাষী, প্রচার বিমুখ, তেমন কোন ঝামেলা জটিলতা পছন্দ করেন না। দেশ-বিদেশের অনেকেই তাদের পরিচয় জানেন না। বর্তমান সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তির কাছে প্রয়োজনের তাগিদে ঘুরে ফিরে বার-বার আসতে হয়, বাংলা বিহার উড়িষ্যার শেষ স্বাধীন নবাব অসাধারণ দেশপ্রেমিক ও তেজস্বী সিরাজউদ্দৌলার বংশধরদের। আজকের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জানেন না যে, তাদের বংশ পরিচয়। এর পূর্ব পুরুষদের কাছে ইংরেজ, ফরাসী, দেশী-বিদেশী লর্ড ক্লাইভ আর ওয়াটসগণ এ রকমই ঘুরে ফিরে বারবার আসতেন, দাঁড়িয়ে থাকতেন তাদের কৃপালাভের জন্য। কাল এভাবে গড়িয়ে চলে উত্থান আর পতনের মধ্যদিয়ে। তাই হয় ইতিহাস।

আখতার হামিদ খান