মোবাইল ফোন ইন্টারনেট

বর্তমান যুগ হল কম্পিউটার আর ইন্টারনেটের যুগ। এগুলো যেমন আমাদের জীবনের ধারা পাল্টে দিয়েছে, তেমনি আমাদের জীবন পরিচালনা হয়েছে সহজ থেকে সহজতর। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোনও গোটা বিশ্বকে এনে দিয়েছে আমাদের হাতের মুঠোয়। যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট এনে দিয়েছে এক বিপুল পরিবর্তন। প্রতি মুহূর্তের খবর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণে সক্ষম হচ্ছি আমরা। এককালে এগুলোকে মনে করা হত আলাদীনের জাদুর প্রদীপের মত। কিন্তু কালের আবর্তনে যুগের পরিবর্তনে আজ মোবাইল ফোন, কম্পিউটার আর ইন্টারনেট হয়েছে অনেক অনেক সহজলভ্য। আর তারই ফলশ্রুতিতে গোটা বিশ্ব আজ আমাদের দোরগোড়ায় হাতছানি দিচ্ছে।
মোবাইল ফোন আমাদের দেশে এখন ছেলের হাতের মোয়া। সকল শ্রেণী এবং পেশার মানুষ আজ যোগাযোগের জন্য হয়ে পড়েছে মোবাইল নির্ভর। মোবাইল ছাড়া যেন এক মুহূর্তও আমরা চলতে পারি না। মোবাইল প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পূর্বে আমাদের জীবনের গতি ছিল অত্যন্ত শ্লথ। চিঠিপত্র লেনদেনের মাধ্যমে খবর আদান-প্রদান করতে হতো। কিন্তু তাতে সময় লেগে যেত অনেক বেশি। বর্তমানে যে খবর দু’-তিন সেকেন্ডের ব্যবধানে আমরা পেয়ে যাচ্ছি, তার বিপরীত চিঠিপত্রের মাধ্যমে সে খবর পৌঁছাতো দু’-তিন দিনে। যা বর্তমান যুগে চিন্তা করাই যায় না। তাই মোবাইল ফোন আমাদের জীবনে এনে দিয়েছে এক বৈপ্লাবিক পরিবর্তন। বর্তমান সমাজে মোবাইল ফোনের ব্যাপকতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, দেশের আনাচে-কানাচে অন্ধকার নিভৃত পল্লীতেও পৌঁছে গেছে এই প্রযুক্তি। কিন্তু যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হলেও আমরা আমাদের এক ঐতিহ্য আজ প্রায় হারিয়েই ফেলেছি। তা হল চিঠিপত্রের লেনদেন। মোবাইল ফোন যেমনি আমাদের চলার পথ সহজ ও সাবলীল করে দিয়েছে, তার বিপরীতে এর মাধ্যমে আমাদের সমাজের কোমলমতী তরুণ-তরুণীরা এক মরণ ফাঁদে পা ফেলতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের নৈতিক চরিত্র, মূল্যবোধ, মনুষ্যত্ববোধ, বিবেক, ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের অশ্লীল বিজ্ঞাপন প্রচার করছে এসব মোবাইল কোম্পানি। যার দিকে আকৃষ্ট হয়ে যুবক-যুবতীরা পথ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। মোবাইল ফোনের সবচেয়ে মারাত্মক পরিণতি মোবাইল পর্ণগ্রাফী। যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে পা বাড়াচ্ছে অনৈতিক কর্মকান্ডের দিকে।
ইন্টারনেট না থাকলে বর্তমান বিশ্বে আমরা যে কতটা পিছিয়ে পড়তাম তা চিন্তাও করা যায় না। খুবই সীমিত সময়ের মধ্যে বিশ্বের সব ধরনের সংবাদ আমরা জানতে পরছি এই মহাআবিষ্কার ইন্টারনেটের কল্যাণে। সংবাদ মাধ্যমসমূহের মধ্যে সবচেয়ে তড়িৎ গতিতে সংবাদ পরিবেশন করে ইন্টারনেট। সর্বশেষ ঘটনাবলী জানার জন্য ইন্টারনেটই সবচেয়ে সহজ ও সাবলীল মাধ্যম। আর সে কারণেই বর্তমান যুগকে বলা হয় ইন্টারনেটের যুগ। আর বর্তমান বিশ্বমানে ইন্টারনেটের বিশ্ব। ইন্টারনেট যেমনিভাবে কোন দেশের উন্নতির জন্য অনেক বেশি সহায়ক, কোন খবরা খবর নিমিষেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণ, বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রহসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে সহায়ক, অপরপক্ষে এক ভয়াল কালো থাবার মাধ্যমে যেকোন জাতির নীতি-নৈতিকতা, চরিত্র, মূল্যবোধ, মনুষ্যত্ববোধ শূন্যের কোটায় আনতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ইন্টারনেটে বিভিন্ন অশ্লীল ওয়েবসাইট, বিভিন্ন পর্নো ওয়েব সাইট, উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ছবি, ভিডিওসহ আরও হাজার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোন জাতি নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এগুলো যদি বন্ধ করা বা নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। ইংল্যান্ড আমেরিকার মত যেখানে শতকরা প্রায় ৪০ জন সন্তান জারজ হিসেবে জন্ম নেয়, বাংলাদেশও তেমনি ভয়াবহ অবস্থার সম্মুখীন হবে।
বাংলাদেশকে বিভিন্ন দিক দিয়ে অপসংস্কৃতি, অন্যায়, দুর্নীতি, অনৈতিকতার কালো থাবার মাধ্যমে ধ্বংস করার জন্য গোটা বিশ্বে নানা রকম চক্রান্ত চলছে। এসব কার্যক্রম এরই প্রতিচ্ছবি। আজ যদি এ দেশের মানুষ সচেতন না হয়, তবে এ দেশের ভবিষ্যৎ হবে সংকটময়। এসব অনৈতিকতার পথ ছেড়ে সকল ধরনের প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আমরাই গড়তে পারব সুখী-সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।
আসুন, আমরা সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।-আমীন

আনোয়ারুল্লাহ সিদ্দিকী