ড. মশিউর রহমান মৃধা

কর্মই জীবন। শিক্ষাই জীবনের আলো। ভাল কাজের মাধ্যমে মানুষ বেঁচে থাকে চিরকাল। প্রতিভা, মেধা, সাহস যদি মানুষের কল্যাণে হয় তবে সেই মানুষই হয় সমাজ তথা জাতির কাছে আলোকিত মানুষ। এমনই একজন ব্যক্তি যিনি নানা মুখী গুনের অধিকারী নরসিংদী জেলার শিক্ষানুরাগী, মৌলিক গবেষক, লেখক, প্রাবন্ধিক, সংগঠক, সমাজসেবক ও কবি ড. মশিউর রহমান মৃধা। নরসিংদীর এই আলোকিত মানুষটিকে নিয়ে এ প্রতিবেদন। ইতিহাস প্রমান করে ৩শ শতাব্দী থেকে নরসিংদী নামক জনপদ, তৎকালিন পূর্ববঙ্গের মশ্বেরদী পরগনার মানুষ ছিল সুশিক্ষিত। নরসিংদী জেলার আশ্রাফপুর ও বেলাব থেকে প্রাপ্ত তাম্রলিপির পাঠোদ্ধারে জানা যায় ৩শ শতাব্দীতে নরসিংদীর উত্তারাঞ্চল বর্তমান শিবপুর ও এর আশপাশের এলাকায় মহাবিদ্যালয় সমমানের ৪টি মঠ ছিল। খরগ রাজাদের তত্বাবধানে পরিচালিত এসব মঠে বিভিন্ন সাস্ত্রে জ্ঞান অর্জনের জন্য দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসত। কালের বিবর্তনে শিক্ষাক্ষেত্রে নরসিংদী যখন অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছিল ঠিক তখনই শিক্ষানুরাগী ড. মশিউর রহমান মৃধা তার মেধা ও নিরলস পরিশ্রম দিয়ে জাতীয় ভাবে নরসিংদীর শিক্ষাঙ্গনের মুখ উজ্জল করেছেন। কর্মঠ সদালাপি এ মানুষটি ছাত্র জীবন থেকে সামাজিকভাবে ভাল সংগঠক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। প্রচুর সুনাম কুড়িয়েছেন প্রবন্ধ ও গল্প লিখেও। প্রচার বিমুখ ড. মশিউর রহমান মৃধার জন্ম নরসিংদী সদর উপজেলার সাহেপ্রতাব গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। পিতা মরহুম মোখলেছুর রহমান মৃধা, মাতা জাহানারা বেগম। ৮ ভাই বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা সাহিত্যে অর্নাসে মাস্টার্স শেষ করে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর মহাবিদ্যালয়ে তার শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। ২০০৬ইং সালে নরসিংদীর স্বনামধন্য কলেজ আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি  কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিলেন ড. মশিউর রহমান মৃধা। তার নিরলস প্রচেষ্টায় ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ইং সালে কলেজটি জাতীয়ভাবে সারাদেশে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সুনাম কুড়িয়েছে। ড. মশিউর রহমান মৃধার সাথে আলাপ চারিতায় বের হয়ে আসে তার স্বপ্ন ছিল নরসিংদীর শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা। আর এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নরসিংদী কলেজ শিক্ষক সমিতি। এ সংগঠনের মাধ্যমে নরসিংদীর প্রতিটি কলেজে নিঃসন্দেহে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে তা এখন সুধী মহল স্বীকৃত। নরসিংদী জেলার প্রায় কলেজ বর্তমানে শতভাগ পাশের দাবিদার। সমাজকে সুন্দর করার লক্ষ্যে তার নিজ এলাকায় গঠন করেছেন একাধিক সামাজিক সংগঠন। একজন লেখক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে বলতে গেলে তিনি শত শত প্রবন্ধ লিখেছেন। নরসিংদী জেলা থেকে প্রকাশিত এমন কোন ম্যাগাজিন বা স্মরণিকা নেই যাতে ড. মশিউর রহমান মৃধার লেখা ছাপা হয় নাই। তার কাব্যিক মেধা পাঠক সমাজে প্রকাশিত হয়েছে বিপন্ন যৌবন নামক কাব্য গ্রহ্ন প্রকাশের মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি রচনা করেন, কাব্য গ্রহ্ন স্বপ্নের খসড়া, হৃদয়ের চিলে কোঠায়, আনন্দ নন্দিত শুভ সম্ভাষন, বেদনার সাবলিল প্রকাশ, গহীন রাতের উড়ো চিঠি, মশিউর রহমান মৃধার নির্বাচিত কবিতা, আগুনে ফাগুনে বাসন্তি জীবন (সিডি)। শত ব্যস্ততার মাঝেও বর্তমানে তিনি প্রতিবন্ধিদের নিয়ে কাজ করে চলছেন। শিক্ষার আলোকে নরসিংদীর ঘরে ঘরে পৌছে দিয়ে ড. মশিউর রহমান মৃধা এখন সবার কাছে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবেই বেশ পরিচিত।

আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা