সুখী দাম্পত্য জীবন

হজরত আবু হুরাইয়া [রা.] -এর বর্ণনা, রাসুলে আকরাম [সা.] বলেন, আমি যদি কোন ব্যক্তিকে অপর কোন ব্যক্তির সামনে সিজদা করার জন্য নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করার জন্য। [তিরমিযি]

১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর [রা.] বর্ণনা করেন, রাসুলে আকরাম [সা.] বলেন, গোটা দুনিয়াই সম্পদে পরিপূর্ণ। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সম্পদ হলো পূর্ণবতী স্ত্রী। [মুসলিম]

২. হজরত আবু হুরাইয়া [রা.] বলেন, রাসুলে [সা.] ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তির চরিত্র ও আচরণ সবচাইতে উত্তম, ঈমাদের দৃষ্টিতে সে-ই পূর্ণাঙ্গ মুমিন। তোমাদের মধ্যে সেই সব লোক উত্তম, যারা তাদের স্ত্রীদের কাছে উত্তম। [তিরমিযি]

৩. হজরত উম্মে সালামা [রা.] এর বর্ণনা মতে, রাসুলে [রা.] বলেন, কোন স্ত্রী লোক যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার স্বামী তার উপর সন্তুষ্ট, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। [তিরমিযি]

৪. হজরত আবু হুরাইয়া [রা.] -এর বর্ণনা, রাসুলে আকরাম [সা.] বলেন, আমি যদি কোন ব্যক্তিকে অপর কোন ব্যক্তির সামনে সিজদা করার জন্য নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে নির্দেশ দিতাম তার স্বামীকে সিজদা করার জন্য। [তিরমিযি]

৫. হজরম মুয়াজ ইবনে জাবাল [রা.] -এর বর্ণনা মতে, রাসুলে আকরাম [সা.] ইরশাদ করেন, যখনই কোন নারী তার স্বামীকে দুনিয়াতে কষ্ট দিতে থাকে, তখনই (জান্নাতের) হুরদের মধ্যে তার সম্ভাব্য স্ত্রী বলে, (হে অভাগিনী!) তুমি তাকে কষ্ট দিওনা। আল্লাহ তোমায় ধ্বংস করুক ! তিনি তোমার কাছে একজন মেহমান। অচিরেই তিনি তোমাকে ছেড়ে আমাদের কাছে চলে আসবেন। [তিরমিযী]

৬. হজরত উসামা ইবনে যায়েদ [রা.] বর্ণনা করেন, রাসুলে আকরাম [সা.] বলেন, আমার অনুপস্থিতে আমি পুরুষদের জন্য মেয়েদের চাইতে বেশী ক্ষতিকর ফিতনা (বিপর্যয়) আর রেখে যাইনি। [বুখারী ও মুসলিম]

৭. হজরত আবু হুরাইরা [রা.] বলেন, রাসুল [সা.] ইরশাদ করেন, কোনো ব্যক্তি যদি তার বিছানায় স্বীয় স্ত্রীকে ডাকে; কিন্তু স্ত্রী তাতে সাড়া না দেয়ায় স্বামী তার উপর অসস্তুষ্ট হয়ে রাত কাটায়, তাহলে ফেরেশতারা ভোর পর্যন্ত তার (স্ত্রী) প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করতে থাকে। [বুখারী ও মুসলিম]

৮. হজরত আবু হুরাইরা [রা.] বর্ণনা করেন, স্বামী বাড়ীতে উপস্থিত থাকা অবস্থায় তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর পক্ষে (নফল) রোযা রাখা বৈধ নয় । তার অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তিকে তার ঘরে ঢোকার অনুমতি দেয়াও তার (স্ত্রীর) জন্য বৈধ নয়। [বুখারী ও মুসলিম]

মাওলানা মিরাজ রহমান