Career Tips

তারুণ্য আনন্দের। কিন্তু আনন্দময় এই সময়ে খামখেয়ালি করে কাটালে জীবনে ভালো কিছু করার সুযোগ তৈরি হয় না। তরুণদের উচিত ক্যারিয়ারেও মনোযোগী হওয়া। সুন্দর নির্মল আনন্দময় জীবনের জন্য ক্যারিয়ারে সফলতা বেশ প্রয়োজনীয়। জীবনকে স্বাধীনভাবে উপভোগের জন্য ক্যারিয়ারে ভালো কিছু যোগ হওয়া জরুরি।

তারুণ্য আনন্দের। কিন্তু আনন্দময় এই সময়ে খামখেয়ালি করে কাটালে জীবনে ভালো কিছু করার সুযোগ তৈরি হয় না। তরুণদের উচিত ক্যারিয়ারেও মনোযোগী হওয়া। সুন্দর নির্মল আনন্দময় জীবনের জন্য ক্যারিয়ারে সফলতা বেশ প্রয়োজনীয়। জীবনকে স্বাধীনভাবে উপভোগের জন্য ক্যারিয়ারে ভালো কিছু যোগ হওয়া জরুরি।
আমাদের দেশে এখনো ফেশনালিজমকে তেমন একটা গুরুত্বের মধ্যে আনা হয় না। তাই সাধারণ মানুষের অ্যামেচার জীবন যাপন করা স্বভাবজাত হয়ে গেছে এবং এটাকেই তারা সঠিক মনে করে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যখন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে পথ চলতে চায় তখনই তারা বাধাগ্রস্ত হয় তাদের এ অপেশাদারি, মনোভাবের জন্য। আর ব্যক্তিপর্যায়ে একজন ব্যক্তি যখন বড় কোনো করপোরেট হাউজে কাজ করতে যায়, সেখানেও একই সমস্যায় তাকে পড়তে হয়। কারণ অফিস তার কাছে আশা করে প্রফেশনাল অ্যাটিচিউড। আর সে অফিসের সঙ্গে এ ব্যাপারে তাল মেলাতে পারে না। তার অ্যামেচার অ্যাটিচিউডের কারণে। অ্যামেচারদের মনে রাখা দরকার যুগ পাল্টেছে। প্রতিযোগিতার বাজারে প্রফেশনালিজম না থাকলে পিছিয়ে পড়তে হবে প্রতিনিয়ত। ধাক্কা খেতে হবে পদে পদে। তাই তৈরি হয়ে নিন প্রফেশনাল হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করতে।
প্রফেশনাল হতে কী কী প্রয়োজন : একজন প্রফেশনাল হতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকা প্রয়োজন। এ উপাদানগুলো আপনাকে সহায়তা করবে প্রফেশনাল ওয়ার্কার হিসেবে প্রকাশ করতে।
সততা : প্রতিষ্ঠানের প্রতি পূর্ণমাত্রায় সত্যতা থাকা চাই। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা ব্যক্তিগত তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা থেকে সবসময় নিজেকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সততা থাকতে হবে প্রতিষ্ঠানের সকল বিষয়ে। সত্যবাদী হতে হবে এবং কমিটমেন্ট করলে সেটা যেকোনো মূল্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের তথ্যকে সংরক্ষণ করতে হবে নিজের দায়িত্ব মনে করে।
দায়িত্বশীলতা : একজন প্রফেশনাল শুধু অফিসের প্রতি এবং তার কাজের প্রতি নয়, প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাবের হন। মনে রাখতে হবে প্রতিষ্ঠানের যেকোনো ভালো বিষয়ের জন্য আপনি যেমন দায়িত্ব নেন, তেমনি যেকোনো ভুলের জন্যও দায়িত্ব নেয়া উচিত।
সম্মান প্রদর্শন : অন্যকে সব সময় সম্মান দেখানো প্রফেশনাল হওয়ার একটা অন্যতম চিহ্ন। মানবিকতার একটা ধারায় পড়ে এ গুণটি। ছোট বড় সকল কর্ম সঙ্গীকে সম্মান দেখানো উচিত। এতে তারাও এ আচরণ দেখাবে।
ব্যক্তিগত উন্নয়ন : প্রতিনিয়ত ব্যক্তিগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়। আর একজন প্রফেশনাল সবসময় ব্যক্তিগত উন্নয়নে সচেষ্ট থাকেন। পড়াশোনা বাড়িয়ে, কাজে বেশি বেশি নিমগ্ন হয়ে অথবা নতুন নতুন কাজ করে এ উন্নয়ন করা সম্ভব। সৃষ্টিশীলতা আর কাজের প্রতি মনোযোগ ব্যক্তি উন্নয়নে সহায়তা করে।
সচেতনতা : সচেতন ব্যক্তির ভুল হয় কম। একজন প্রফেশনালের কাছে ভুল কাজ মোটেও কাম্য নয়। তাই সচেতন হয়েই নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
নেটওয়ার্ক : প্রফেশনালদের মধ্যে নেটওয়ার্ক সম্পাদনের মনো ভাব থাকা চাই। কোলাবোরেশন, নেটওয়ার্কিং এবং যোগাযোগ নতুন চিন্তা, কর্মপন্থা, সুযোগ তৈরি করে।
সাবমিশন : প্রফেশনালিজমের প্রধান উপাদন হলো প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাবমিশন থাকা। আপনার যদি প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিষ্ঠা আর নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগের মনোভাবনা থাকে, তাহলে প্রতিষ্ঠানও আপনার কাজকে স্বীকৃতি দেবে না। নিজেকে প্রতিষ্ঠানের জন্য নিবেদন করে প্রফেশনাল হওয়ার প্রথম ধাপ অতিক্রম করতে হবে।
আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে কিছু মাত্রায় প্রফেশনালিজম দেখা গেলেও সেটা ১০০% পাওয়া যায় না। এর মূল সমস্যা হলো আমরা প্রথম থেকেই পারিবারিক জীবনে এর কোনো চর্চা করি না। ব্যক্তিগত জীবনে আমরা ভাবতেই পারি না প্রফেশনালিজমকে। কিন্তু একটা স্ট্যান্ডার্ড লেভেল পর্যন্ত যদি ব্যক্তিগত জীবনে আমরা প্রফেশনালিজমের চর্চা করি তা হলে চাকরি জীবনে এর প্রভাব পড়বে আপনা থেকেই। যেকোনো কিছু চর্চার মধ্য দিয়ে সেটা ধারণ করার অভ্যাস গড়ে ওঠে। এতদিন যে চর্চা করেননি ক্যারিয়ারে সাফল্য আনতে শুরু করে দিন প্রফেশনাল হওয়ার সকল অভ্যাস।
আপনি যদি এ বিষয়গুলো নিজের মধ্যে খুঁজে পান তাহলে নিঃসন্দেহে আপনি একজন প্রফেশনাল। আর তা না থাকলে এখনই চেষ্টা করুন এগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করে প্রফেশনাল হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে।

সাংবাদিক ও গণযোগাযোগ কর্মী হতে
আধুনিক জীবনে ইলেকট্রনিকস কিংবা প্রিন্ট মিডিয়ার অনুপস্থিতি আর কল্পনাও করা যায় না। সকলের জীবনের সাথেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে এই মাধ্যমগুলো। বাংলাদেশের ছুটির কারণে সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ থাকলেও টেলিভিশনের কোনো ছুটি নেই। আর হাল আমলে সেটা দাঁড়িয়েছে চব্বিশ ঘণ্টার উপস্থিতিতে। এই মিডিয়া যারা টিকিয়ে রেখেছেন তারা হলেন মিডিয়াকর্মী। দেশে প্রতিনিয়ত মানুষ মিডিয়ামুখী হওয়ার সাথে সাথে প্রয়োজন দেখা দিয়েছে দক্ষ একদল মিডিয়াকর্মীর। দেশের জার্নালিজম পেশাকে আরও দক্ষ ও পেশাদার করে গড়ে তোলা এবং মিডিয়ার মান উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে চালু করা হয়েছে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ।
সাংবাদিকতা আর দশটা পেশার চেয়ে বেশি সম্মানজনক হওয়ায় এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে মেধাবীরা অনেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যেকোনো পেশাতেই ভালো ক্যারিয়ার গড়তে হলে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা তথা মিডিয়া যেভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং তার রূপ ক্রমশ যেভাবে পেশাদারিত্বের দিকে ঝুঁকছে সে তুলনায় পেশাদার কর্মী গড়ার প্রতিষ্ঠান একেবারেই অপ্রতুল। এই অভাবকে পূরণ করার মানসেই গুণগত শিক্ষার নিশ্চয়তার দৃঢ়প্রত্যয় নিয়েই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই উদ্যোগ। আর এ উদ্যোগে সাহসী নেতৃত্বে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসেন এবং অদ্যাবধি নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাবিদ, ফুলব্রাইট স্কলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গোলাম রহমান। ২০০৭ সালে তার সাথে সহযোদ্ধা হিসেবে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালযের সহযোগী অধ্যাপক রুবায়েত ফেরদৌস। বর্তমানে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভাসটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগ। ইতোমধ্যেই এখান থেকে অনেক শিক্ষার্থী সফলভাবে পাস করে বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে কর্মরত রয়েছেন।
এই বিভাগে দেশের প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বিভিন্ন সময় আয়োজন করা হয় সাংবাদিকতা বিষয়ক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, গোলটেবিল বৈঠক। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানেরও।
এই বিভাগে রয়েছে চার বছর মেয়াদি অনার্স এবং পরবর্তীতে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি। তা ছাড়া সাংবাদিকতা পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স কোর্স। এ সুযোগ বাংলাদেশে শুধুমাত্র এই বিভাগেই রয়েছে। সাংবাদিকতা একটি বাস্তবমুখী পেশা হওয়ায় এ পেশার শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষাদান পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই। তবে বাংলাদেশে এ সুযোগ নিতান্তই অপ্রতুল। এ বিষয়টি মাথায় রেখে এ বিভাগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে একটি বৃহৎ আয়তনের আধুনিক মিডিয়া ল্যাব। ল্যাবটিতে রয়েছে সব ধরনের কারিগরি সরঞ্জাম ব্যবহারের সুবিধা। রয়েছে পাঠাগার, ফিল্ম ক্লাব, অনলাইন পত্রিকা, স্ট্যাডি সার্কেল গ্রুপসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা। এই বিভাগে জানুয়ারি, মে এবং সেপ্টেম্বর সেশনে ভর্তি হওয়া যায়। ১০২, শুক্রাবাদ, ঢাকা-১২০৭ ঠিকানার ক্যাম্পাসে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য পাবেন।

অ্যাকাউন্টিং প্রফেশনাল হতে
একটা সময় অ্যাকাউন্টিং বা ফিন্যান্স বিষয়ে পড়ালেখা শেষ করেই ভালো চাকরি পাওয়া যেত। এরপর শুরু হয় বিবিএ এবং এমবিএ’র যুগ। বিশ্বায়নের হাওয়ায় সেই প্রবণতাও থেমে গেছে। এখন ক্যারিয়ার গড়তে সকলেই বেছে নিচ্ছে অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস (এসিসিএ)কে। এটি জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট বডি। এই ডিগ্রিটি অর্জন করার প্রেক্ষিতে যেকোনো শিক্ষার্থী আমাদের দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে।
অনেক শিক্ষার্থীই জানে না, ফাউন্ডেশন ইন অ্যাকাউন্ট্যান্সি (এফআইএ) ও সিএটি শুরু করার জন্য কী ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন বা পূর্ণ কোর্স শেষ করতে কতদিন সময় লাগবে। এসএসসি/ও-লেভেল অথবা এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে থাকলে এফআই শুরু করা যাবে। এখানে ৭০০ নম্বরের সাতটি পেপার রয়েছেরূপ্রতি বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে হয়। এটি এক বছর বা তার চেয়ে কম-বেশি সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করা যায়। অনেকেই সিএটি এবং এফআইএ’র মধ্যেকার পার্থক্য বুঝতে পারে না। আগে এসএসসি বা এইচএসসির পর সিএটি সম্পন্ন করে সরাসরি এসিসিএ পার্ট-২ শুরু করা যেত। সিএটিতে ছিলে ৯টি বিষয়। এখন এর পরিবর্তে এফআইএ করে সরাসরি এসিসিএ পার্ট-২ করা যাবে। এফআইএতে ৭০০ নম্বরের পরীক্ষায় পাস করতে হয়। এফআইএ এবং এসিসিএ একত্রে সম্পন্ন করতে একজন শিক্ষার্থীর চার থেকে সাড়ে চার বছর সময় লাগবে এবং খরচ হবে প্রায় সাড়ে চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা। আর যাদের গ্র্যাজুয়েশন বা এ লেভেল করা আছে, তারা সরাসরি এসিসিএ শুরু করতে পারবেন। অ্যাকাউন্টিং/ম্যানেজম্যান্ট/ফিনান্স বিষয়ে বিবিএ বা অনার্স করা থাকলে এসিসিএতে বেশকিছু বিষয়ে এক্সম্পশন পাওয়া যায়। এতে খরচ ও সময় তুলনামূলকভাবে কম হবে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই কোর্সের পুরোটাই সম্পন্ন করতে হবে ইংরেজিতে। তবে আমাদের দেশে অনেকেই ইংরেজি ভাষায় দুর্বল। এ কারণে ইংরেজিতে একটু দক্ষতা অবশ্যই অর্জন করতে হবে। এসিসিএ করলে দেশ-বিদেশে ভালো চাকরির সুযোগ আছে। ১৭০টি দেশের সঙ্গে ফুল ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ থাকায় ব্রিটেন, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও রয়েছে। তাই যে কেউ এ ধরনের কোর্স করে বিশ্ববাজারের চাকরির সুযোগ নিতে পারবে।