এইচএসসির নম্বর

বোর্ড স্ট্যান্ড করা মেধাবী আর স্টার মার্কস পাওয়া শিক্ষার্থীদের তালিকা এখন আর হয় না; তবে সেই যুগের মতই প্রতিটি বিষয়ের আলাদা নম্বর জানার সুযোগ এবার পাচ্ছেন গ্রেড পয়েন্টের ভিত্তিতে ফল পাওয়া উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের ওয়েবসাইট আজ থেকেই (শিক্ষার্থীরা) রচনামূলক, এমসিকিউ ও ব্যবহারিকের নম্বর দেখতে পাবে। তারা ডাউনলোডও করতে পারবে।” ১৩ বছর আগে ৫ ভিত্তিক গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা এতোদিন কেবল তাদের বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত গ্রেড জানতে

পারতেন, নম্বর নয়।অধ্যাপক মাহবুবুর জানান, ওয়েবসাইটে বিস্তারিত নম্বর প্রকাশ করা হলেও অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টে প্রতি বিষয়ের জিপিএর সঙ্গে কেবল মোট নম্বর থাকবে। স্থানের অভাবে সেখানে রচনামূলক, এমসিকিউ, ব্যবহারিক নম্বর বা একই বিষয়ে দুটি পত্রের আলাদা নম্বর থাকবে না।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৮ হাজার ২৭৬ জন। এসএসসি পরীক্ষায় মোট নম্বরভিত্তিক সনাতন পদ্ধতি বাতিল করে ২০০১ সাল থেকে জিপিএ পদ্ধতিতে ফল প্রকাশ শুরু হয়। এইচএসসিতে জিপিএ পদ্ধতিতে ফল দেওয়া শুরু হয় ২০০৩ সাল থেকে।

আগের পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের সব বিষয়ের নম্বর যোগ করে মোট নম্বরের ভিত্তিতে প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগ ও তৃতীয় বিভাগ নির্ধারিত হত। সব বোর্ডের সেরা ২০ শিক্ষার্থীর তালিকাও সরকার প্রকাশ করত। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী গড়ে ৭৫ শতাংশ নম্বর পেলে সেটিকে ‘স্টার মার্কস’ হিসেবে ধরা হত। জিপিএ পদ্ধতিতে ফল প্রবর্তনের পর এসব ওঠে যায়।

জিপিএ পদ্ধতিতে ৩৩ থেকে ৮০ পর্যন্ত নম্বরকে ভাগ করা হয় সাতটি গ্রেডে। একজন শিক্ষার্থী কত শতাংশ নম্বর পেল তা ৫ ভিত্তিক স্কেলে রূপান্তর করে ওই বিষয়ে তার জিপিএ হিসাব করা হয়। আর সব বিষয়ের জিপিএ থেকে গড় করে হিসাব করা হয় সিজিপিএ। সেটাই তার চূড়ান্ত ফল। এতদিন ট্রান্সক্রিপ্টে বিষয়ের বিপরীতে কেবল গ্রেড পয়েন্ট উল্লেখ করা হত। বিষয়ভিত্তিক বা মোট নম্বর জানার সুযোগ ছিল না মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের।

আদালতে একজন শিক্ষার্থীর একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ১৩ বছর পর উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা এবার জিপিএর সঙ্গে সব বিষয়ের নম্বর জানার সুযোগ পাচ্ছেন। চলতি বছর যারা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছেন তারা নম্বর জানার এ সুযোগ পাবে না জানিয়ে অধ্যাপক মাহবুবুর বলেন, “এরপর থেকে এসএসসি ও এইচএসসির সব পরীক্ষার নম্বর জানানো হবে।”