জাতীয় সংগীত

দেশের ২৩ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয় না। জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয় না ৯ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া ৪৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে নেই সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন। ৪১ শতাংশে বার্ষিক ক্রীড়া ও ৭০ শতাংশে স্কাউটিং হয় না।

রোববার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টের উদ্যেগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সারা দেশের প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভিত্তি করে গণ স্বাক্ষরতা অভিযানের এডুকেশন ওয়াচ রিপোর্ট ২০১৫ সালের প্রতিবেদনের এই তথ্য তুলে ধরেন ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানের মতো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চিত্রও এর থেকে খুব একটা ভিন্ন মনে করার কারণ নেই।

বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়ে অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমাদের যেমন দায়িত্ব আছে ঠিক তেমনি আমাদের সবারও ভূমিকা থাকতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে অভিযোগ রয়েছে তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করতে হবে।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ জানান, সততা বা নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ৬২ শতাংশ তরুণ। মজার ছলে নেশার দিকে ঝুকছে ৬৮ শতাংশ তরুণ। পরিবার ও সমাজে নানা অসঙ্গতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় ভুল পদক্ষেপ, প্রতিকূল পরিবেশ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্বহীনতা ও অসদাচরণ, শিক্ষার্থী সন্তানের প্রতি বাবা-মার খুব বেশি বা খুব কম নজরদারিসহ বিভিন্ন অন্তরায় বর্তমানে সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে।

লিখিত বক্তব্যের শেষে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয়কে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য কমিটি গড়ে তোলার দাবি তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এতে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিজুল হক, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক সমিতি সভাপতি অধ্যক্ষ আ. সাত্তার প্রমুখ।

আশিক মাহমুদ