মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরী : বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা: ফয়সাল ইকবাল ও সাংবাদিকের শিশুকন্যা রাইফা হত্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়। শিশু রাইফা হত্যাকান্ডে জড়িত ডাক্তারের বিচার দাবী করে বিএমএ এর নেতা ডা: ফয়সাল ইকবাল এর ঔদ্ধত্য আচরণে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানান চট্টগ্রামে সিনিয়র সাংবাদিকরা তার মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস পাঠকদের জন্যে হুবহু তুলে ধরা হল ।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মহসীন কাজীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল,
রাত পেরিয়ে সময় সুবেহ সাদেকের কাছাকাছি। ( চট্টগ্রামের) চকবাজার থানার ওসি আবুল কালাম তাঁর কক্ষে উপস্থিত শীর্ষ সাংবাদিক নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি বললেন, সকালে আরও নিশ্চিত হোন। কেন শিশুটির মৃত্যু হল। সর্বোচ্চ বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট নিন। তারপর এজাহার দিন, ভাল হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আটক ডাক্তার, নার্স থানায় থাকবেন। প্রাথমিক প্রমাণে পরবর্তী ব্যবস্থা হবে।
নিহত শিশু বাবা রুবেলসহ সাংবাদিক নেতারা এ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করছিলেন, তখন ওসির কক্ষে পাঞ্জাবি, পাজাবা পড়ে কোন সৌজন্যতা কিংবা অনুমতি না নিয়ে আরও চারজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল। ডুকেই বকতে থাকেন ওসিকে। কৈফিয়ত চাচ্চিলেন কেন, ডাক্তারকে কেন থানায় ধরে আনা হল। কোন ক্ষমতা বলে তিনি কাজটি করলেন। সাথে গলার জোর বাড়তে থাকে সাথে থাকা চামচাদের।
‘একঘণ্টার মধ্যে সারা চট্টগ্রামের হাসপাতাল বন্ধ করে দেব। দেখি আপনি রোগি বাঁচান। কোন সাংবাদিক, কিসের সাংবাদিক। আমরা কোনো সাংবাদিকের চিকিৎসা করবনা, দেখি তারা কী করে। আপনি কোন এখতিয়ারে ডাক্তার ধরে এনেছেন তার জবাব দিন’। মিনিট কয়েক এভাবে চলছিল ফয়সালের গলাবাজি। সাথে চামচাদের হাঁকডাক। সাংবাদিক ধরে কথা বলতেই সমস্বরে প্রতিবাদ সাংবাদিক নেতাদের। তারা বললেন, কোথায় ভুলের জন্য মাফ চাইবেন, তার উপর থানায় এসে উল্টো মাস্তানি। এটা কী মঘের মুল্লুক।
এবার ওসি বললেন, কোন এখতিয়ারে থানায় ঢুকে আমার সাথে এভাবে ব্যবহার করলেন। কে শিখিয়েছে এই কার্টেসি। থানায় এসে তো এমন বেআইনী আচরণ আপনারা করতে পারেন না। এটা সভ্য মানুষের আচরণ হিসেবে মেনে নেয়া যায় না। তারপর তিনমুখী বাকবিতণ্ডা।
কেউ বললেন, আপনি কি মাস্তান না ডাক্তার? আপনি তো ঠিকাদার, সাপ্লাইয়ার। পোস্টিং বাণিজ্যের হোতা। আমরা সব জানি ফাঁস করে দেব।
এক পর্যায়ে নেতা মুখোমুখি হন অভিযুক্ত নার্সের । নার্স বললেন সব। বের হল থলের বেড়াল। মৌখিক বক্তব্যে প্রমাণিত এটি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড।
সকালের চট্টগ্রাম সম্পাদক সাবিনা কাদের তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল, ক্ষমা করো রাইফা ,ঠান্ডার কারণে একটু গলা ব্যাথা। ঠিকমতো খেতে পারছোনা আদরের রাইফা। সুস্থ আদুরের রাইফা কে নেয়া হলো চট্টগ্রামের নামি দামি বেসরকারী হাসপাতাল ম্যাক্সে । ফুটফুটে আদুরের মেয়েটি ভর্তির ৩০ ঘন্টার মধ্যে বাসায় ফিরতে হলো সাদা কাফনে মোড়ানো অবস্থায়। ডাক্তার নামে কথিত কিছুঅপেশাদার ডাক্তরের দায়িত্ব অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসার কারণে।
আমরা জানি তুমি যেখানে গিয়েছ ওখানে শান্তিতে আছো ,আমাদের মাঝে আর কখনও ফিরে আসবে না । তবে তোমার হত্যাকারীদের কঠিন শাস্তি হলে আমরা কিছুটা হলে শান্তি পাবো ।

দৈনিক প্রিয় চট্টগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল, রাইফা ভুলচিকিৎসা তোমাকে না ফেরার দেশে নিয়ে গেল , ক্ষমা করো ফয়সালদের কাছে জিম্মি এ দেশকে ।
বাংলানিউজ ২৪ ডটকম এর সিনিয়র রিপোটার আল রহমান তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল, ফয়সাল ইকবাল কি ডাক্তার? কারণ তিনি জানেন না, একজন সত্যিকারের ডা. শত্রুরও চিকিৎসা দিতে বাধ্য।
চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শিল্পি, তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল, আবারও ভুল চিকিৎসার শিকার …এবার সাংবাদিক রুবেল খানের ফুটফুটে শিশুকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে হত্যা করে ডা. পরিচয়ধারীরা…
হুমকি ধমকি, ধর্মঘট, সেবা বন্ধ করে দিয়ে তারা বার বার খুন করেই পার পেয়ে যায়।
চট্টগ্রামে সিনিয়র সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ এর দেওয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল,
ক্ষমা করো রাইফা, তোমার চাচারা থামবে না। নাম তার রাফিদা খান রাইফা। দৈনিক সমকাল চট্টগ্রাম ব্যুরোর সিনিয়র রিপোর্টার রুবেল খানের এক মাত্র আদুরের মেয়ে। বয়স আড়াই বছরের কাছাকাছি। ঠান্ডার কারণে একটু গলা ব্যাথা। ঠিকমতো খেতে পারছেনা আদরের মেয়েটি। তাই মেয়ের খাওয়া দাওয়ার সমস্যায় পিতা -মাতার ঘুম হারাম। এ কারণে মেয়ের গলার ব্যাথা সারাতে সুস্থ মেয়েটিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নেয়া হলো চট্টগ্রামের নামি দামি বেসরকারী হাসপাতাল ম্যাক্সে । কিন্ত ভর্তির ৩০ ঘন্টার মধ্যে ফুটফুটে আদুরের মেয়েটি বাসায় ফিরতে হলো সাদা কাফনে মোড়ানো অবস্থায়। এর একমাত্র কারন ডাক্তার নামে কথিত কসাইদের দায়িত্ব অবহেলা এবং ভুল চিকিৎসা। এদিকে হত্যা কান্ডের মতো এই অপকর্ম ঢাকতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগ দিয়েছে চট্টগ্রাম বি এম এর সাধারণ সম্পাদক ও বিতর্কিত নেতা ডাক্তার ফয়সাল ইকবাল ।
চট্টগ্রামের সাংবাদিকরা এই হত্যা কান্ডের প্রতিবাদ করতে উক্ত হাসপাতাল এবং চকবাজার থানায় শুক্রবার দিবাগত সারারাত অবস্থান নিয়েছে। সেসময় চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সামনে বি এম এর সাধারণ সম্পাদক নামধারী বিতর্কিত নেতা ডাক্তার ফয়সাল ইকবাল কর্তৃক সাংবাদিকদের হাসপাতালে চিকিৎসা না দেয়া এবং সকল হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়ার মতো হুংকার দেখেছি। কিন্ত না, আমরা এসব হুংকার ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। এসব হুংকারের পাল্টা জবাব আমরা সাংবাদিকরা তাকে দিয়েছি। আমরা থামবো না। যতদিন এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার না হয়, বিএম এ নেতা ডাক্তার ফয়সাল ইকবালের উপযুক্ত শাস্তি না হয়, আমরা ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করে যাবো। ক্ষমা করো রাইফা, ইসলামের বিশ্বাস মতে তুমি জান্নাতবাসী অবশ্যই। মহান আল্লাহ তোমার পিতা-মাতাকে তোমাকে হারার ধর্য্য ধারণের তৌফিক দান করুক, আমিন।
সাংবাদিক শিউলী শবনাম তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল, কী ঘটেছিল সেদিন থানায়?
একজন মহান নেতা (!?) এসে ফিল্মী কায়দায় অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিলেন। পুলিশ তাঁর গংদের না ছাড়লে একঘন্টার মধ্যেই চট্টগ্রামের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিতেও ভুললেন না তিনি। আইনের উপর সরাসরি তার কালো থাবা বিছিয়ে ছাড়িয়ে নিলেন দোষীদের। কিন্তু আমাদের শিশু সন্তান রাইফা, তার হত্যাকারীদের শাস্তি আমরা নিশ্চিত করতে পারবো তো?
দৈনিক সমকাল এর রিপোটার তৌফিক বাবর তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল, তার বাবার হাতে সন্তানের লাশ-
সামান্য গলা ব্যাথার চিকিৎসা করতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো আমার প্রিয় সহকর্মী রুবেল খানের আড়াই বছর বয়সী একমাত্র শিশু কন্যা রাইফা খান। শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে চট্টগ্রামের ম্যাক্স হাসপাতালে মারা গেছে সে। আমাদের নিস্পাপ মেয়েটি ভুল চিকিৎসা আর অবহলোর শিকার হয়েছে। সাংবাদিকরা অভিযুক্ত এক ডাক্তারসহ তিনজনকে থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করলে দলবল নিয়ে থানায় যান বিএমএ নেতা ডা. ফয়সাল ইকবাল। সাংবাদিকরা ঘটনার প্রতিবাদ জানালে চট্টগ্রামের সব হাসাপাতাল বন্ধ করে দিয়ে চিকিৎসা সেবা অচল করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।থানার ওসির সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন বিতর্কিত এই চিকিৎসক নেতা। অবশ্য সাংবাদিকদের কঠোর অবস্থানের মুখে তার সুর নরম হয়। পরে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তদন্ত গঠিত কমিটি করা হয়। রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ততদিন দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন হাসপাতালটির অভিযুক্ত ডাক্তার দেবাশিষ।
প্রশ্ন হচ্ছে- ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা আর অবহলোয় মানুষ মারা যাবে। অথচ তার কোন বিচার হবে না! আমরা কোন দেশে বাস করছি! একমাত্র সন্তান হারানো বাবা -মাকেইবা আমরা কী শান্তনা দেবো।
ক্ষমা করো মা-মনি। তোমাকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না। ডাক্তাররূপী কসাইরা তোমাকে মেরেই ফেললো।
আমরা জানি না বিএমএ নেতা ডা. ফয়সাল ইকবালরা ক্ষমতার জোরে আইনের ফাক ফোকর দিয়ে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবে, আবারও কোন রাইফাকে চিকিৎসার নামে হত্যা করার সাহস নিয়ে এগিয়ে যাবে।
ডেইলি স্টার এর সিনিয়র রিপোটার মোস্তাফা ইউছুফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সাস্টাস হুবহু তুলে ধরা হল, আপনারা যারা আমাদের নেতা, তোঁয়াজ করেন সেই খুনীকে মানে খুনি সেই চিকিৎসক নেতা যার কারনে মানুষের মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে চট্টগ্রামে, তাদের আমরা চিহ্নিত করছি।
আমরা তরুণরাই আপনাদের বয়কট করব সময় আসলে।
আমাদের জীবন, মর্যাদা নিয়ে খেলার দিন শেষ।